অতিরিক্ত ওজনের কারণে অনেকেই হীনম্মন্যতায় ভোগেন। সমাজের তৈরি করা 'সৌন্দর্যের মানদণ্ডে' নিজেকে অযোগ্য মনে করে অনেকে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। ডা. দিনা বলেন, "একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মানুষকে আরও বেশি অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঠেলে দেয়।  

বেশি ওজন মানেই সরাসরি মন খারাপ নয়, তবে এটি মানসিক অবসাদ বা স্ট্রেসের বড় কারণ হতে পারে । 'ইমোশনাল ইটিং' বা আবেগের বশবর্তী হয়ে খাওয়া, যেমন—দুঃখে বা একঘেয়েমিতে বেশি খাওয়া, অজান্তেই শরীরকে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো বড় বিপদের দিকে ঠেলে দেয়। মানসিক চাপ ও মেদ একটি দুষ্টচক্র তৈরি করে, যা ভাঙতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন প্রয়োজন।

বিস্তারিত আলোচনা:

* ইমোশনাল ইটিং কী? ক্ষুধা না থাকলেও যখন মানুষ মন খারাপ, স্ট্রেস, রাগ বা একঘেয়েমি কাটাতে খাবার, বিশেষ করে মিষ্টি বা ভাজাপোড়া খেয়ে ফেলে, তাকেই ইমোশনাল ইটিং বলে।

* ওজন ও মন খারাপের সম্পর্ক: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ (stress) শরীরে 'কর্টিসল' নামক হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা তলপেটে মেদ জমাতে সাহায্য করে । আবার, বেশি ওজন বা স্থূলতা অনেকের ক্ষেত্রে হীনম্মন্যতা ও অবসাদের কারণ হতে পারে।

অজান্তেই যে বিপদের দিকে:

• স্থূলতা ও হরমোনের ব্যাঘাত: অতিরিক্ত মেদ শরীরে ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ফলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে ।

• মানসিক অবসাদ: খাবারের মাধ্যমে সাময়িক আরাম পেলেও, এর ফলে ওজন বাড়লে তা পরবর্তীকালে বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দেয় ।

• শারীরিক জটিলতা: অতিরিক্ত মেদ ও স্ট্রেস থেকে নারীর ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ঋতুচক্র ও বন্ধ্যত্বের সমস্যা দেখা দিতে পারে ।

* উদ্ধারের উপায়:

• সচেতনতা (Mindful Eating): খাওয়ার সময় খাবারের ওপর মনোযোগ দিন।

• স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: যোগব্যায়াম, হাঁটা, বা শখের কাজ করুন।

• পুষ্টিকর খাদ্য: প্রক্রিয়াজাত খাবার বা চিনিযুক্ত খাবার কমিয়ে পুষ্টিকর খাবার খান ।

বেশি ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে, খাবারের সাথে আবেগের এই যোগসূত্রটি ভাঙাই সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি।