এই উৎসবের নেপথ্যে রয়েছে এক রক্তাক্ত ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। কে ছিলেন এই সাধু ভ্যালেন্টাইন? কেনই বা তাঁর মৃত্যুদিনটি প্রেমের উৎসবে পরিণত হলো? জানুন বিস্তারিত।

সেন্ট ভ্যালেনটাইন ছিলেন খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দীর একজন রোমান যাজক ও চিকিৎসক, যিনি সম্রাট ক্লডিয়াস দ্বিতীয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গোপনে প্রেমিক-যুগলদের বিয়ে দিতেন। ভালোবাসার মানুষের অধিকার রক্ষায় প্রাণ বিসর্জন দেওয়া এই শহীদের নাম থেকেই ১৪ ফেব্রুয়ারি 'ভ্যালেনটাইনস ডে' বা ভালোবাসা দিবস উদযাপনের প্রচলন হয়।

সেন্ট ভ্যালেনটাইন কে ছিলেন?

* রোমান যাজক: প্রচলিত মত অনুযায়ী, তিনি তৃতীয় শতকে রোমে বসবাস করতেন। সে সময় সম্রাট ক্লডিয়াস (Claudius the Cruel) বিশ্বাস করতেন অবিবাহিত পুরুষরা ভালো সৈন্য হয়, তাই তিনি তরুণদের বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন ।

* সাহসী প্রেমিক: ভ্যালেনটাইন সম্রাটের এই নিষ্ঠুর আদেশ অমান্য করে গোপনে প্রেমিক-যুগলদের বিবাহের ব্যবস্থা করতেন।

* শহীদ: সম্রাট খবর পেয়ে তাকে কারারুদ্ধ করেন এবং ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড (পাথর ছুড়ে ও শিরশ্ছেদ করে) দেওয়া হয়।

নামের সঙ্গে ভালোবাসার গল্পের সম্পর্ক (কিংবদন্তি):

১. জেলারের অন্ধ মেয়ের গল্প: কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় ভ্যালেনটাইন জেলারের অন্ধ মেয়ের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

২. শেষ প্রেমপত্র: মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে ভ্যালেনটাইন ওই মেয়েটিকে একটি চিঠি লেখেন, যা শেষ করেছিলেন "From your Valentine" লিখে, যা আজও প্রেমপত্রের প্রতীক হয়ে আছে ।

৩. সেন্ট ভ্যালেনটাইন্স ডে: পোপ গেলাসিয়াস ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সেন্ট ভ্যালেনটাইনের স্মরণে উৎসর্গ করেন।

৪. রোমান উৎসবের প্রভাব: অনেকে মনে করেন, মধ্যযুগে এই দিনটির সাথে রোমান উর্বরতা উৎসব 'লুপারক্যালিয়া' (Lupercalia) এবং ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে পাখিদের জোড় বাঁধার ঋতুর সাথে মিলে ভালোবাসার দিন হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়।

মূলত, গোপনে বিয়ে দেওয়া এবং চিঠির মাধ্যমে প্রেমের বার্তা দেওয়ার কারণেই সেন্ট ভ্যালেনটাইন ভালোবাসার পৃষ্ঠপোষক সাধক বা ‘প্যাট্রন সেন্ট অফ লাভার্স’ (Patron Saint of Lovers) হিসেবে পরিচিতি পান।