রান্নাঘরে গিয়ে ভুলে গেলেন কেন এসেছিলেন? বা ফোন হাতে নিয়ে ভুলে গেলেন কাকে ফোন করতে যাচ্ছিলেন? এর পিছনে রয়েছে মস্তিষ্কের এক মজার বিজ্ঞান, যার নাম ডোরওয়ে ইফেক্ট। এটি কোনও রোগ নয়, বরং আপনার মস্তিষ্ক সুস্থ আছে তারই প্রমাণ।

আপনার সঙ্গেও কি এমন হয়? এইমাত্র ভাবলেন ফ্রিজ থেকে জল নিয়ে আসবেন, কিন্তু রান্নাঘরে পৌঁছেই ভুলে গেলেন কেন এসেছিলেন? বা এক ঘর থেকে অন্য ঘরে গিয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছেন, "আরে, আমি এখানে কেন এলাম?"

যদি এমন হয়, তাহলে ভয় পাবেন না। আপনার স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়নি, বা এটা কোনও রোগও নয়। বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ডোরওয়ে ইফেক্ট (Doorway Effect)।

ডোরওয়ে ইফেক্টটা আসলে কী?

আমাদের মস্তিষ্ক একটা ঘরকে একটা আলাদা ফাইলের মতো মনে করে। আপনি যখন একটা ঘরে বসে কিছু ভাবছেন, মস্তিষ্ক সেই ঘরের সঙ্গে যুক্ত সব তথ্য নিয়ে একটা 'ইভেন্ট মডেল' তৈরি করে।

যখনই আপনি একটি দরজা পার হয়ে অন্য ঘরে যান, তখন মস্তিষ্ক ভাবে - "পুরনো কাজ শেষ, এবার নতুন ঘরে নতুন কাজ"। তাই সে আগের ঘরের ইভেন্ট মডেলটাকে বন্ধ করে দিয়ে নতুন ঘরের জন্য নতুন ফাইল খুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আর সেই ফাঁকেই আগের ঘরে কী ভেবেছিলেন, সেটা সাময়িকভাবে ডিলিট হয়ে যায়।

এটা আবিষ্কার করেছিলেন নটরডেম ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল র্যাডভানস্কি। তিনি পরীক্ষা করে দেখেছিলেন, মানুষ একই ঘরের মধ্যে টেবিল থেকে টেবিলে গেলে যতটা না ভোলে, তার চেয়ে একটি দরজা পার হলেই ২-৩ গুণ বেশি ভুলে যায়।

কেন হয় এমন?

১. মস্তিষ্কের রিসেট বাটন: দরজা হল মস্তিষ্কের কাছে একটি বাউন্ডারি বা সীমানা। দরজা পার হওয়া মানেই মস্তিষ্কের কাছে নতুন পরিবেশ। তাই সে পুরনো তথ্যকে কম গুরুত্বপূর্ণ ভেবে সরিয়ে দেয়।

২. অ্যাটেনশন শিফট: এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাওয়ার সময় আপনার মনোযোগ ভাগ হয়ে যায়। দরজা, অন্য ঘরের আলো, শব্দ - এই সবকিছুর দিকে মন চলে যায়, ফলে আসল কাজটি মাথা থেকে বেরিয়ে যায়।

৩. ওয়ার্কিং মেমোরি ওভারলোড: আমাদের স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি বা ওয়ার্কিং মেমোরি একসঙ্গে ৪-৫টির বেশি জিনিস মনে রাখতে পারে না। নতুন ঘরে ঢুকতেই নতুন তথ্য চলে আসায় পুরনো তথ্য মুছে যায়।

তাহলে মনে রাখার উপায় কী?

- যে কাজটি করতে যাচ্ছেন, সেটি মুখে আওড়াতে আওড়াতে যান। যেমন "জল, জল, জল..." - হাতে কিছু নিয়ে বা আঙুলে কিছু বেঁধে যান, যাতে দেখলেই মনে পড়ে। - এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাওয়ার আগে ২ সেকেন্ড থেমে মনে মনে কাজটি আরেকবার ভেবে নিন।

তাই পরের বার দরজায় গিয়ে কিছু ভুলে গেলে নিজেকে বকবেন না। বরং বুঝবেন, আপনার মস্তিষ্ক একদম ঠিকঠাক কাজ করছে, শুধু একটু বেশিই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে ভালোবাসে।