মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বা রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হয়, যা মৃত্যু ও দীর্ঘমেয়াদি পঙ্গুত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। 'FAST' লক্ষণগুলো দ্রুত চিনে সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে রোগীকে হাসপাতালে নিলে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। স্ট্রোকের লক্ষণগুলো আগে থেকে বুঝতে পারলে এবং রোগীকে দ্রুত সঠিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে মস্তিষ্কের কোষগুলোকে বাঁচানো সম্ভব। এতে পঙ্গুত্ব এড়ানো যায়, এমনকি রোগীর প্রাণও বাঁচে। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কোনো কারণে বাধা পেলে বা মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ হলে তাকে 'স্ট্রোক' বলা হয়।
এই স্ট্রোক সারা বিশ্বেই মৃত্যু এবং দীর্ঘমেয়াদি পঙ্গুত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। ভারতে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং তামাক ব্যবহারের কারণে স্ট্রোকের রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করার জন্য সবসময় অক্সিজেন এবং গ্লুকোজের ওপর নির্ভর করে।
রক্তনালীতে কোনো বাধা তৈরি হলে মস্তিষ্কের কোষগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং সেগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে। গুরুতর ইস্কেমিক স্ট্রোকের (ischemic stroke) ক্ষেত্রে, রক্ত চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক না করা গেলে প্রতি মিনিটে প্রায় ২০ লাখ স্নায়ুকোষ বা নার্ভ সেল মারা যেতে পারে।
স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ (FAST)
• মুখ (Face): মুখের একপাশ হঠাৎ বেঁকে যাওয়া বা ঝুলে পড়া।
• হাত (Arms): হাত তুলতে কষ্ট হওয়া বা হাতের জোর কমে যাওয়া।
• কথা বলা (Speech): কথা বলার সময় শব্দ জড়িয়ে যাওয়া বা অস্পষ্ট হওয়া।
• সময় (Time): এই লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
লক্ষণ শুরু হওয়ার প্রথম সাড়ে চার (৪.৫) ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে রোগীর জীবন এবং পঙ্গুত্ব অনেকটাই বাঁচানো সম্ভব।


