আপনি কি সব সময় বলেন "ও যেটা চায় সেটাই হোক"? ওর রাগ ভাঙাতে নিজের পছন্দ, বন্ধু, স্বপ্ন সব ছেড়ে দিয়েছেন? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে আপনি সম্পর্ক বাঁচাচ্ছেন না, নিজের অস্তিত্বকে মুছে ফেলছেন। মনোবিজ্ঞানীরা একে বলেন 'Self-Abandonment'।

ভালোবাসায় কম্প্রোমাইজ থাকবেই। কিন্তু কম্প্রোমাইজ আর নিজেকে মুছে ফেলার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ আছে। আপনি যখন প্রতিবার ঝগড়া এড়াতে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে নিজের ইচ্ছাকে গলা টিপে মারেন, তখন আপনি প্রেমিক/প্রেমিকা নন, হয়ে যান একজন People Pleaser।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, যারা ছোটবেলা থেকে ভেবেছেন "আমি ভালো হয়ে থাকলেই সবাই ভালোবাসবে", তারাই বড় হয়ে এই ভুলটা বেশি করেন।

বুঝবেন কীভাবে আপনি নিজের অস্তিত্ব মুছে ফেলছেন? এই ৫টি লক্ষণ মিলিয়ে নিন:

১. "না" বলতে ভয় পান: ওর কোনও কথা বা আবদার আপনার পছন্দ না হলেও আপনি 'না' বলতে পারেন না। মনে হয়, না বললেই ও রেগে যাবে, ছেড়ে চলে যাবে। তাই নিজের অসুবিধা হলেও আপনি সবসময় "হ্যাঁ" বলেন।

২. নিজের পছন্দ ভুলে গেছেন: আগে আপনি গান গাইতে ভালোবাসতেন, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেন, একা সিনেমা দেখতেন। এখন ওর পছন্দ নয় বলে আপনি সেগুলো ছেড়ে দিয়েছেন। জিজ্ঞেস করলে নিজের শখ কী, মনে করতে পারেন না। আপনার জগৎটা এখন শুধু ওকে ঘিরেই।

৩. সবসময় আপনিই ক্ষমা চান, দোষ না করেও: ঝগড়া যার দোষেই হোক, সম্পর্ক ঠিক রাখতে আপনিই প্রথমে Sorry বলেন। ওর মন খারাপ হলে আপনার মনে হয় সব দোষ আপনারই। নিজেকে সবসময় দোষী মনে হয়।

৪. ওর মুডের উপর আপনার দিন নির্ভর করে: ও ভালো থাকলে আপনার দিন ভালো, ও খারাপ থাকলে আপনার গোটা পৃথিবী অন্ধকার। আপনি সারাক্ষণ ভাবতে থাকেন ও কী ভাবছে, কী করছে। নিজের অনুভূতির কোনও দামই আপনার কাছে নেই।

৫. বন্ধু ও পরিবার থেকে দূরে সরে গেছেন: সম্পর্কের শুরুতে যে বন্ধুরা আপনার প্রাণ ছিল, এখন তাদের সাথে দেখা করেন না, কারণ আপনার সঙ্গীর সেটা ওপছন্দ নয়। ধীরে ধীরে আপনি একা হয়ে যাচ্ছেন, আপনার সাপোর্ট সিস্টেম ভেঙে যাচ্ছে।

তাহলে কী করবেন?

মনে রাখবেন, যে সম্পর্কে আপনাকে নিজেকে মুছে ফেলতে হয়, সেটা ভালোবাসা নয়, সেটা মানসিক পরাধীনতা।

- আজ থেকেই ছোট ছোট বিষয়ে 'না' বলা প্র্যাকটিস করুন। - নিজের জন্য রোজ ৩০ মিনিট সময় বের করুন, যা শুধু আপনার। - নিজের পুরনো শখগুলোকে আবার ফিরিয়ে আনুন। - প্রয়োজন হলে কাউন্সেলরের সাহায্য নিন।

একটি সুস্থ সম্পর্ক কখনও আপনাকে ছোট করে না, বরং আপনাকে আরও বড় হতে সাহায্য করে।