পুজোর কাউন্ট ডাউন শুরু হয়েছে অনেকদিন থেকেই। আর মাত্র কটা দিনের অপেক্ষা। পুজো এখন দরজায় কড়া নাড়ছে। আর এই পুজো মানেই থাকে অনেক প্ল্যান। পুজো মানেই ঠাকুর দেখা, বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ঘোরা, খাওয়া-দাওয়া আরও কত কি। পুজোতে শুধু যে খাওয়া-দাওয়া তাই নয় পুজো মানেই ডায়েট ভুলে খাওয়া। খাবারের কথা শুনে খিদে পেয়ে গেলো কি? খিদেটা একটু সবুর করুন। আর পুজোর সময় খিদে পেলে রাস্তাতে ঠিক কি কি খাবার সহজেই পেয়ে যাবেন একনজরে দেখেনিন সেটাই। 

রোল: সস্তায় পুষ্টিকর বলতে যা বোঝায় এগরোল একেবারেই সেটা। ডিম আর পরোটা সহযোগে তৈরি এই এগরোল খেলে পেট ভরে যায়। পুজোতে এই এগরোলের চাহিদা থাকে প্রায় সর্বত্র। ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন এগরোল। অনেক এগরোলের মধ্যে আবার আলুও থাকে। একটা এগরোল খেলেই মোটামুটি পেট ভরে যায়। শুধু এগরোলই নয় এছাড়াও আছে মটন রোল, চিকেন রোল, পনির রোল, কিমা রোল, কাবাব রোল এছাড়াও আরও অনেক রকমের রোল আছে। পছন্দ মতো একটা রোল বেছে নিন আর পুজোর ভুরি ভোজটা করে নিতেই পারেন এই রোল দিয়েই। সুতরাং পুজোর মধ্যে এগরোল খাবারের লিস্টে রাখতেই পারেন। এগরোল যদি পছন্দ না হয় তাহলে কি করবেন এটাই এখন আপনার ভাবনা তাইতো। এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই লিস্টে আছে আরও নানা খাবার।

ফুচকা: ফুচকা এমন একটা খাবার যা সবারই বেশ পছন্দের। সারা বছরই ফুচকার একটা চাহিদা থাকেই আর পুজোর সময়তো কথা হবে না। পুজোর সময় অনেক জায়গাতেই দেখা যায় রাস্তার পাশে সারি সারি ফুচকার গাড়ি দাড়িয়ে থাকে। ফুচকার কথা শুনেই জিভে জল আসছে তো? আজকে চাইলে আপনি ফুচকা খেতেই পারেন, তবে পুজোর সময়ও খাবারের লিস্টে রাখতেই হবে ফুচকা। পুজোর সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্পেশাল বান্ধবি বা বন্ধুটির সঙ্গে ফুচকা না খেলে প্রেমটা কি করে জমবে। এই ফুচকাতেও এখন থাকে নানা অপশান। দই ফুচকা থেকে শুরু করে চাটনি ফুচকা এমনকি জেলি ফুচকাও এখন অনেক জায়গাতেই পাওয়া যায়। সুতরাং এখন ফুচকাতেও পেয়ে যাবেন অনেক অপশন।   

চাউমিন: সারা বছরই আমরা কম বেশি চাউমিন খেয়ে থাকি। সারা বছরেরে সেই চাউমিন আর পুজোর সময় যখন খুব খিদে পেয়েছে সেই সময় চাইমিন খাওয়ার মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত। এগরোল যদি পছন্দ না থাকে তবে চাউমিন খেতেই পারেন। চাউমিনও বেশ পেট ভরায়। আর এই চাউমিন খেলেও অপশন থাকে অনেক। ভেজ চাউমিন থেকে শুরু করে, এগ চাউমিন, চিকেন চাউমিন বা মিক্স চাউমিন যেটা আপনার পছন্দের সেটাই খেতে পারেন। রাস্তার পাশে দোকানে বসে বন্ধুরা মিলে এক সঙ্গে চাউমিন খেতে খেতে আড্ডার মজাটাই একেবারে আলাদা। কম থেকে শুরু করে বেশি সব দামেই পাওয়া যায় এই লোভনীয় খাবারটি। মোটামুটি ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা এমনকি তার বেশি দামেও চাউমিন পেয়ে যাবেন। 

মোমো: রাস্তার ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় দোকান সব জায়গাতেই কম বেশি মোমো পাওয়া যায়। মোমো পছন্দ করেন অনেকেই। যদি আপনিও সেই দলেই থাকেন তবে পুজোতে খেয়ে নিতেই পারেন মোমো। যদি আপনি স্বাস্থ্য সচেতন হন তবে বেছে নিতেই পারেন মোমো। মোমোতে তেল মশলা তেমন না থাকায় এটা শরীরের পক্ষে তেমন ক্ষতিকর নয়। পুজোতে তাই বেরিয়ে খেয়ে নিতেই পারেন গরম গরম মোমো। 

পাপড়ি চাট: যদি চটপটা কিছু পছন্দ হয় তবে খেতেই পারেন পাপড়ি চাট। টক, ঝাল, মিষ্টি সব স্বাদ এক সঙ্গে পেতে পুজোর খাবারের লিস্টে রাখতেই হবে পাপড়ি চাট। এই খাবারটি বেশ লোভনীয় আর সেই সঙ্গে খেতেও বেশ ভালো। ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন এই পাপড়ি চাট। যা পেট তেমন না ভরালেও মন ভরাবেই।

চিকেন পকোড়া: রোল, চাউমিন, ফুচকাতো হল এবার আসা যাক পকোড়ার কথায়। পকোড়ার মধ্যে চিকেন পকোড়া কম বেশি সকলেরই বেশ পছন্দের। পুজোর সময় চটজলদি খাবার খেতে হলে আপনার খাবারের লিস্টে রাখতেই পারেন চিকেন পকোড়া।  

সরবত: টক,ঝাল, নোনতা সবটাইতো হল এবার তবে আসা যাক ঠান্ডা কিছুর কথায়। পুজোতে ঘুরতে ঘুরতে গলা শুকিয়ে গেলে গলা ভেজাতে খেয়ে নিতেই পারেন এক গ্লাস সরবত। সরবতের দোকানে গেলে আপনি পেয়ে যাবেন নানা রকম সরবত। মুসম্বির সরবত থেকে শুরু করে আনারস, সব রকমের সরবতই পেয়ে যাবেন সরবতের দোকানে। কম থেকে শুরু করে বেশি মোটামুটি সব দামেই পেয়ে যাবেন সরবত সেই মত অপশনও থাকবে অনেক। তাই পুজোর খাবারের লিস্টে রাখতেই পারেন পানীয়ও।

আইসক্রিম: খাবারের শেষ পাতে আইসক্রিম থাকবেই। আর পুজোর সময়েও সব খাবারের শেষে রাখতেই হবে আইসক্রিম। পুজোয় অনেক্ষণ ঘোরাঘুরির পরে গরম লাগলেই খেয়ে নিতে পারেন আইসক্রিম। আর এই আইসক্রিম দিয়েই শেষ করতে পারেন আপনার পুজোর খাওয়া দাওয়া।