ওবেসিটির কারণে অনেকেই আজকাল ডায়েট করেন। চিন্তার কথা হল, একজন পুষ্টিবিদ বা নিউট্রিশনিস্টের পরামর্শ ছাড়াই বেশিরভাগ লোক  ডায়েট করতে শুরু করে দেন। অনেক সময়ে যার ফল হয় হিতে বিপরীত।

খুলে বলা যাক। নিজে থেকে ডায়েট করতে গিয়ে অনেকেই কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেন খাদ্য়তালিকা থেকে।  যার ফলে শরীরে অনেক সমস্য়া দেখা দেয়। মনে রাখতে হয়, সারাদিনে আমরা যে খাটাখাটনি করি, তার জন্য় কিন্তু শরীরে শক্তি দরকার হয়। প্রয়োজনীয় এই শক্তি কিন্তু কার্বোহাইড্রেট থেকেই পাওয়া যায়। প্রোটিন শরীরের কোষগুলির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে। ভিটানিন বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। মিনারেলসের কাজও অন্য়। তাই শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে কার্বোহাইড্রের কিন্তু কোনও বিকল্প নেই। তাই কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দেবেন না।

এ কথা ঠিকই যে, আজকাল আমরা যারা অফিসে একটানা কমপিউটারের সামনে বসে কাজ করি, তাদের শারীরিক শ্রম খুব কমই হয়। তাই কার্বোহাইড্রেট বেশি খেলে তা শরীরে ঘুরপথে মেদে জমায়। তাই সমাজের প্রান্তিক মানুষ, যেমন কুলিকামিনদের বেশি করে কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন হয়। কিন্তু, আমাদের যে একেবারেই প্রয়োজন হয় না এই কার্বোহাইড্রেট, তা কিন্তু নয়। তাই ডায়েট করতে চান করুন, কিন্তু একেবারেই কার্বোহাইড্রেট বাদ দেবেন না কিন্তু।

আরও একটা কথা মনে রাখা দরকার। ক্র্য়াশ ডায়েট করার সময়ে কার্বোহাইড্রেট বাদ দিয়ে অনেকে ঠিকই। কিন্তু ভুলে যান, পরে যখন শরীরের স্বাভাবিক নিয়মেই আবার কার্বোহাইড্রেট ফিরিয়ে আনতে হয় ডায়েটে, তখন হু-হু করে ওজন বেড়ে যায়। তাতে করে এতদিন ডায়েট করে যে ওজন কমালেন, তা দ্বিগুণ ফিসে আসে শরীরে। কোনও লাভ হয় না।

আরও একটা কথা মনে রাখা দরকার। ডায়েট করার সময়ে  কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমন মনে রাখা দরকার, ডায়েট করা মানে কিন্তু অনশন করা নয়। একেবারে ক্র্য়াশ ডায়েটে হিতে বিপরীত  হতে পারে। তাই দেখবেন, ঠিকমতো ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ না-নিয়ে ডায়েট করলে, অনেক সময়ে লো প্রেসারের কবলে পড়ে মাথা ঘুরে যাওয়ার মতো ঘটনা প্রায়শই ঘটে।

অতএব, মেদ ঝরাতে ডায়েট করুন। কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু একেবারেই নো-কার্বসের ফরমুলায় যাবেন না ভুলেও।