দেশে একদিকে লকডাউন আর অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় টিকটকার এবং ইউটিউবার্সদের মধ্যে চলছে চরম উত্তেজনা। চিনের জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক। যার জনপ্রিয়তা চিনের থেকেও বেশি ভারতে। তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া খোলামেলা চ্যালেঞ্জের কারণে ক্রমশ ভারতীয় বাজারে জনপ্রিয়তা কমছে চিনের এই অ্যাপলিকেশনটির। প্লেস্টোরে টিকটকের রেটিং ৪.৪ থেকে কমে ১.২ এ নেমে এসেছে। অন্যদিকে এই অ্যাপের ডাউনলোডও এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। 

জানা গিয়েছে মে মাসে মাত্র এক মিলিয়ন ইউজার টিকটক অ্যাপটি ডাউনলোড করেছেন। যা তার আগের মাসেই চিনের থেকে ভারতে বেশি ডাউনলোড হয়েছে। সেন্সর টাওয়ারের তথ্যের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসে টিকটকে সর্বাধিক সংখ্যক নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছিল। মার্চ মাসে প্রায় ৩ কোটি ৫৭ লক্ষ গ্রাহক এই অ্যাপটি ডাউনলোড করেছিল। এপ্রিল মাসে, গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৫ লক্ষ। একই সঙ্গে, মে মাসে এই অ্যাপটি ডাউনলোড করার গ্রাহকর সংখ্যা অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। ২৩ মে পর্যন্ত কেবল ১ মিলিয়ন গ্রাহক এই অ্যাপ ডাউনলোড করেছে।

গত কয়েক মাস ধরে কোভিড -১৯ মহামারির কারণে বিজ্ঞাপনের বাজারেও মন্দা যাচ্ছে এই অ্যাপের। এর আগে, টিকটক ফেসবুকের মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রাম সহ অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির চেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন পেয়েছিল। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ এটিকে একটি অস্থায়ী ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক বিশেষজ্ঞ কার্গ শ্রিনিবাসন এটিকে ক্ষনিকের ট্রেন্ড হিসাবে বর্ণনা করেছেন। টিকটক বিষয়বস্তু  শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। সম্প্রতি এক টিকিটকার যিনি নিজেকে টিকটক স্টার বলে দাবী করেন, নাম ফয়সাল সিদ্দিকী এই প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। 

 

 

এই পোস্ট করা ভিডিওটিতে একটি মেয়ের মুখে অ্যাসিড অ্যাটাক করা হচ্ছে, তা দেখানো হয়েছে। বহু টিকটক ভিউয়ার্স এই ভিডিওটিকে বর্বর বলে জানিয়ে করে নিষিদ্ধ করার দাবি করেছে। তবে সংস্থার তরফ থেকে এই ভিডিওটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জনপ্রিয় ইউটিবার ক্যারিমিনটির সঙ্গে তথাকথিত টিকটকার আমির সিদ্দিকির রোস্টের ভিডিও কারও অজানা নয়। তবে কি শুধু মাত্র একজন ইউটিবারের একটি ভিডিওর দৌলতে একটি জনপ্রিয় অ্যাপের ব্যাবসা প্রায় বন্ধ হতে চলেছে! এই বিষয়ে কি ভাবছেন নেটিজেনরা, আমাদের জানান আপনার মন্তব্য।