২০২৫ সালে রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে দার্জিলিং। গত বছর উত্তর-পূর্ব ভারতের পর্যটক কেন্দ্র গুলির মধ্যে সবথেকে বেশি । জানা যায় অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এখানে পর্যটকদের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতন।

২০২৫ সালে উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে দার্জিলিং (পশ্চিমবঙ্গ) পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া গন্তব্য ছিল। যা মেঘালয় ও সিকিমের মতো জায়গাকে পিছনে ফেলেছে। দার্জিলিং তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ ও কলকাতার কাছাকাছি অবস্থানের কারণে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে বেশি।তবে মেঘালয়ের মাওকিনরং ও শিলং এবং সিকিমের গ্যাংটকের মতো স্থানগুলোও যথেষ্ট আকর্ষণীয়, যেখানে স্বচ্ছ জল ও সবুজ পাহাড়ের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দার্জিলিং-এর জনপ্রিয়তার কারণ:

* নিকটবর্তী অবস্থান: কলকাতা থেকে যাতায়াতের সুবিধা থাকায় কম সময়ে ঘুরে আসা যায়। * প্রাকৃতিক শোভা: কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, সবুজ উপত্যকা ও চা বাগান পর্যটকদের আকর্ষণ করে। * শান্ত পরিবেশ: ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতি উপভোগের জন্য দার্জিলিং একটি আদর্শ স্থান।

মেঘালয় ও সিকিমের আকর্ষণ:

* মেঘালয়: মাওকিনরং (পরিচ্ছন্ন গ্রাম), ডাউকি (স্বচ্ছ নদী), চেরাপুঞ্জি (রেইনবো ফলস) ও শিলং (শহুরে ও প্রাকৃতিক মিশ্রণ) এখানকার প্রধান আকর্ষণ।

* সিকিম: গ্যাংটক (সংস্কৃতি ও প্রকৃতি), তসোঙ্গো লেক (হ্রদ), লাচুং (শীতপ্রধান এলাকা) এবং রিনচেনপং (অফবিট) পর্যটকদের প্রিয়।

সামগ্রিক চিত্র:২০২৫ সালে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় দার্জিলিং এগিয়ে থাকলেও, উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য স্থান, যেমন মেঘালয় ও সিকিম, তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে পর্যটকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষত যারা ভিড় এড়িয়ে শান্ত ও অফবিট জায়গায় যেতে চেয়েছিলেন তাদের জন্য।

দার্জিলিং বাঙালির এমনই একটি ইমোশন এবং খুবই কাছের গন্তব্যস্থল যার জন্য দার্জিলিং এর চাহিদা সাধারণ জনমানুষের মধ্যে খুবই বেশি। ৫/৬ দিনের ছুটি পড়লেই বাঙালির সবথেকে কাছের ডেস্টিনেশন হয়ে দাঁড়ায় এই দার্জিলিং। যেখানে পাহাড় থেকে চা বাগান এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়া খুবই বাজেট ফ্রেন্ডলি গন্তব্যস্থল। এখানে টাইগার হিল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ, সবুজ চা বাগান, রক গার্ডেন, ঘুম স্টেশন—দার্জিলিংকে এক কথায় ব্যাখ্যা করা কঠিন। যুগ যুগ ধরে বাঙালির ছুটি কাটানোর ঠিকানা। সেই ঠিকানার চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে গত বছরে। পহেলগাম হামলার পরে বহু পর্যটক উত্তর-পূর্ব ভারতের ডেস্টিনেশনগুলো বেছে নিয়েছিলেন ছুটি কাটানোর জন্য।তখনও বহু মানুষের প্রথম পছন্দ ছিল দার্জিলিং। এ ছাড়া পুজোর ছুটিতে আর নভেম্বরের ঠান্ডায় দার্জিলিংয়ে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। এ বার অ্যাগোডার রিপোর্ট বলছে, ওই সময়েই তাদের সাইটে সবচেয়ে বেশি সার্চ হয়েছে দার্জিলিংয়ের নাম। বাঙালির কাছে পিঠে ঠান্ডার জায়গা গুলির মধ্যে দার্জিলিং এক অন্যতম। তাই বাঙালির যখনই বরফ দেখতে মন চায় বা গরমের দিনে গরমের ছুটি কাটানোর জন্য মন চায় তখন বাঙালি বাচ্চাদের জন্য দার্জিলিংয়ে চলে যেতেই পছন্দ করে বেশি। এবং এর পরেই আরেকটি পছন্দের জায়গা হয় দার্জিলিং থেকে একটু উপরে গ্যাংটক।

দার্জিলিংয়ের পরেই রয়েছে গ্যাংটক। সিকিমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির মুখোমুখি হতে বহু মানুষ বেছে নিয়েছেন গ্যাংটকেও। গত বছর বেশিরভাগ ডোমেস্টিক ট্যুরিস্টই গ্যাংটককে বেছে নিয়েছেন ছুটি কাটানোর জন্য। গ্যাংটকের পরেই রয়েছে শিলং—’স্কটল্যান্ড অফ ইস্ট’। অ্যাগোডার সার্চে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে মেঘালয়ের শিলং।