শাহাজাহান আলি, মেদিনীপুর: নেপথ্যে কি জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ? ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী ও একরত্তি মেয়েকে কুপিয়ে খুন করল এক যুবক। তারপর পেটে ছুরি মেরে আত্মঘাতী হল সে নিজেও। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের  চন্দ্রকোনা রোডে। 

আরও পড়ুন: পরিত্যক্ত গোডাউনে কোয়ারেন্টাইন, বিষধর সাপের কামড়ে মৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের

স্ত্রী মালতি ও তিন বছরের মেয়ে-কে নিয়ে সংসার। তিন তিনেক আগে চন্দ্রকোনার রোডের বিহারীশোল গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে চলে আসেন পশ্চিম মেদিনীপুরেরই শালবনীর যুবক কাঞ্চন হেমব্রম। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সামান্য চাষাবাদ ও শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। সোমবারে ভোরে মালতির চিৎকার ঘুমে যায় তাঁর বাপের বাড়ি লোকেদের। কী ব্য়াপার? প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। দীর্ঘক্ষণ পর যখন ছাদের কার্নিশ দিয়ে ঘরে ঢোকেন, তখন মেঝে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন কাঞ্চন, মালতি ও তাঁদের শিশুকন্যা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছয় পুলিশ। তিনজনকেই উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। হাসপাতালে কাঞ্চন ও তাঁর স্ত্রীকে মৃত  বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও, শিশুটি কিন্তু বেঁচেছিল। তাকে স্থানান্তরিত করা হয় মেদিনীপুরে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সন্ধেবেলায় মারা যায় সে। 

আরও পড়ুন: জটিল অস্ত্রোপচারে প্রাণ বাঁচল রোগীর, ফের সাফল্যের নজির বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে

কী কারণে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড? চন্দ্রকোনা রোডের বিহারীশোল গ্রামে পঞ্চায়েত সদস্য সুজন ভুঁইয়া বলেন, গত কয়েক দিন ধরে জমিজমা নিয়ে পরিবারের বিবাদ চলছিল। স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তিতে মানসিকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছিলেন কাঞ্চন। তা থেকেই এমন কাণ্ড ঘটতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী খুন করার পর কোলের শিশুটি ছুরি মারেন ওই যুবক। তারপর আত্মহত্যা করেন। শুরু হয়েছে তদন্ত।