ভিনরাজ্যে যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু গ্রামে ফিরে জরিমানা মুখে কাকা মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করলেন তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের ঘটনা  

সঞ্জীব কুমার দুবে, পূর্ব মেদিনীপুর: ভাইপোকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে গিয়েছিলেন ভিনরাজ্যে। তাঁর মৃত্যুর পর বিপুল অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়ে শেষপর্যন্ত আত্মহত্যা করলেন এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর নন্দকুমার এলাকায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুন: আসানসোলে শুটআউট, রাস্তায় মিলল ঠিকাদারের রক্তাক্ত দেহ

ঘটনাটি ঠিক কী? নন্দকুমার এলাকার আলাশুলি গ্রামের বাসিন্দা মোহন মণ্ডল ও শ্যামল মণ্ডল। সম্পর্কে তাঁরা কাকা-ভাইপো। কয়েক মাস আগে স্থানীয় এক ঠিকাদারের সঙ্গে কাজের সন্ধানে মুম্বই-এ যান মোহন। তখন কাকার সঙ্গে গিয়েছিলেন শ্যামলও। পরিবারের লোকেদের দাবি, মাস দুয়েক আগে মুম্বই-এ কাজ করার সময়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যান তিনি। প্রবাসে কাকা ছাড়া বাড়ির লোক বলতে আর কেউ ছিল না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সই ভাইপোর দেহ দ্রুত গ্রামে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন মোহনই। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি।

আরও পড়ুন: বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, জাতীয় সড়কের ধারে মিলল ক্ষতবিক্ষত দেহ

মৃতের পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, তাঁদের কিছু না জানিয়ে ছেলের মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সই করেছেন মোহন। বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য গ্রামে সালিশি সভা বসায় মাতব্বররা। শুধু তাই নয়, সালিশি সভায় মোহন মণ্ডলকে তিন লক্ষ টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয় বলে অভিযোগ। এত টাকা কোথায় পাবেন! মানসিক অবসাদে শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন মোহন মণ্ডল।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান স্বপ্না মাঝি। তিনি বলেন, জরিমানা দেওয়ার জন্য কোনও চাপ দেওয়া হয়নি। গ্রামের সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নেয়, মৃতের পরিবারকে সাহায্য করার জন্য তিন লক্ষ টাকা দিতে হবে মোহনকে। কিন্তু প্রশাসনকে এড়িয়ে কী অভাবে সালিশি সভা বসানো যায়? সে বিষয়ে কিন্তু মুখ খুলতে চাননি পঞ্চায়েত প্রধান।