বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কের নির্মম পরিণতি স্ত্রীর প্রেমিকের হাতে 'খুন' যুবক দেহ পুঁতে দেওয়া হল মাটিতে! পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের ঘটনা

সঞ্জীব কুমার দুবে, পূর্ব মেদিনীপুর: দাম্পত্যে 'অসুখ'। শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রীর প্রেমিক ও তার সঙ্গীদের হাতে 'খুন' হয়ে গেলেন এক যুবক! দেহটি মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। মৃতের স্ত্রী, তার প্রেমিক ও শাশুড়ি আটক করেছে পুলিশ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার এলাকায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুন: বেতনের টাকায় দুঃস্থ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, মানবিকতার নজির পুলিশকর্মীর

মৃতের নাম নূর মহম্মদ। বাড়ি, নন্দকুমার থানার ধান্যনগর গ্রামে। পেশায় তিনি ছিলেন দিনমজুর। আঠেরো বছরের দাম্পত্য জীবনের বাবা হয়েছিলেন দুই সন্তানের। বড় ছেলের বয়স ষোলো, আর ছোট ছেলের এগারো। কিন্তু ঘটনা হল, স্ত্রী আসমা বিবির সঙ্গে বনিবনা ছিল না নূরের। পারিবারিক অশান্তির জেরে বিয়ের ছ'বছর পরেই নন্দকুমার থানারই ফতেপুর গ্রামে বাপের বাড়িতে চলে আসেন আসমা বিবি। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিয়ের দু'বছর পরে দুলাল আলি নামে এক যুবকের সঙ্গে বিবাহ-বর্হিভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন আসমা। তিনি যখন বাপের বাড়িতে চলে আসেন, তখন দু'জনের ঘনিষ্টতা আরও বাড়ে। তবে স্বামীর সঙ্গে একেবারেই যে যোগাযোগ ছিল না, তা কিন্তু নয়। দুই ছেলেকে নিয়ে মাঝেমধ্যে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে শ্বশুরবাড়িতে আসতেন নূর মহম্মদ। আট দিন আগে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। কোথায় গেলেন তিনি? নন্দকুমার থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন পরিবারের লোকেরা। এরপরই নূর মহম্মদের করুণ পরিণতির কথা জানা যায়।

আরও পড়ুন: স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদের 'মাশুল', শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে রহস্যমৃত্যু যুবকের

পরিবারের লোকেদের অভিযোগের ভিত্তিতে নূরের স্ত্রী আসমা বিবি, তাঁর প্রেমিক দুলাল শেখ ও শাশুড়িকে আটক করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় মৃতের স্ত্রীই জানিয়েছেন, স্বামীকে খুন করে মাটিতে পুঁতে দেওয়া দিয়েছে তাঁর প্রেমিক! তবে ফতেপুর গ্রামে তল্লাশি চালিয়েও এখনও দেহের সন্ধান মেলেনি। এদিকে এই ঘটনা জানাজানি হতেই আসমা বিবির বাপের বাড়িতে চড়াও হয়ে রীতিমতো ভাঙচুর চালান স্থানীয় বাসিন্দারা। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন তাঁরা।