যার চিড়ে খায় তাঁরা বাংলাদেশি। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র এই মন্তব্য়ের পাল্টা দিলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়।  এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,  আমরা বক্ষ রক্তাক্ত হলেও বাঙালি, আমরা না হয় চিড়ে খেয়েই থাকব।  

সম্প্রতি  একটি সেমিনারে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক বলেন,  আমাদের বাড়িতে একটি নতুন ঘর হচ্ছে। তাই মিস্ত্রিরা কাজ করতে এসেছিলেন। ওঁদের মধ্যে ছ সাত জন পোহা খাচ্ছিলেন। ওঁদের পোহা (চিঁড়ে) খাওয়া দেখে আমার সন্দেহ হচ্ছিল, ওঁরা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। সন্দেহ হচ্ছিল বলে দু দিন পরে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। পরে চিঁড়ে খাওয়া দেখে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁরা বাংলাদেশি, অনুপ্রবেশকারী। 

কৈলাস বিজয়বর্গীয়র এই মন্তব্য়কেই হাতিয়ার করেছে তৃণমূল। এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের মহাসচিব বলেন, আমরা বক্ষ রক্তাক্ত হলেও বাঙালি, আমরা না হয় চিড়ে খেয়েই থাকব। যাই হোক দুমুঠো চিড়ে তো পাব। গুলি মারলেও গুলির বদলে চিড়ে খুব একটা মন্দ লাগবে না। কাল থেকে তো অনেকে আবার বোধহয় চিড়ে খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।  তাতে চিড়ের এর দামও না কমে যায়। কতগুলো লোক মানুষকে মানুষ বলে মনে করছে না ওরা। শিক্ষায় গায়ের জোরি আনছে। বাহুবলীর মতো এখন তো রোজ ঘোষ নামাবলী শুনি। এসব না করে আসুন একসঙ্গে কাজ করি।সরস্বতী পুজোতে মায়ের কাছে প্রার্থনা করব, এদের জ্ঞান দাও বুদ্ধি দাও। যাতে মানুষগুলো একসঙ্গে থাকতে পারে। 

এই বলেই অবশ্য় থেমে থাকেননি পার্থবাবু। এদিন পার্থবাবু বলেন, আমাদের রাজ্যের বা দেশের মেধা এখানে থাকছে না সব সময়। মুখ্যমন্ত্রী অনেক অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছেন। আগের মতো পরিস্থিতি আর নেই। তাই সকলকে বলব নিজভূমে ফিরে আসুন। মহিলাদের জন্য শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিবর্তন করেছেন। যে কারণে যে কোও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যান ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি পাবেন। এই পরিস্থিতি ঠিক রাখার চেষ্টা করতে হবে। আমাদের কাছ থেকে অর্থ পেতে দু দিন দেরি হলে যেমন শিক্ষক মহাশয়দের দুঃখ হয়, তেমনি ছাত্র-ছাত্রীদের ঠিক রাখার দায়িত্ব তাদের নিতে হবে।