Sand Theft News: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বালি-মাটি চুরি ও পাচারের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। বিধানসভা নির্বাচনের (2026 West Bengal Legislative Assembly Election) দিনক্ষণ ঘোষণার পরেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ ছবি দেখা যাচ্ছে। পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
KNOW
Sand Theft Updates: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হুঁশিয়ারির পরেও থামছে না বালি পাচার। উত্তরবঙ্গের (North Bengal) জলঢাকা নদী (Jaldhaka River) থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে ভিন রাজ্যে পাচারের পর্দা ফাঁস। রাত গভীর হতেই জলঢাকা নদীর বুকে শুরু হয় ডাম্পার, ট্রলার, জেসিবি, পোকলেনের (বালি উত্তোলনের অত্যাধুনিক মেশিন) দাপাদাপি। যে সময় নদীর বুকে নিস্তব্ধতা থাকার কথা, সেই সময় নদীর বুক ভারী ভারী ডাম্পার ও ট্রলারের দাপাদাপি এবং গাড়ির শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো অঞ্চল। সবটাই চলছে ময়নাগুড়ি থানা, মেখলিগঞ্জ থানা এবং ধূপগুড়ি থানার পুলিশের চোখের সামনে। বালি মাফিয়ারা এতটাই হিংস্র যে গ্রামবাসীরা আতঙ্কে প্রকাশ্যে মুখ খুলতেও ভয় পান। তাঁদের অভিযোগ, ময়নাগুড়ি থানার অন্তর্গত নয়াবন্দর–হাটসাদিকা সংলগ্ন জলঢাকা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে এ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি ভিন রাজ্যেও পাচার করা হচ্ছে। সবটাই হচ্ছে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে।
দেদার বালি পাচার
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নয়াবন্দর ও হাটি সাদিকা এলাকার নদীর চর থেকে কিছু অসাধু ব্যক্তি সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দেদার বালি তুলছে। জলঢাকা নদী নয়াবন্দর হয়ে নদীর বাঁধের উপর দিয়েও রাত দশটার পর থেকেই শুরু হয় ভারী ভারী ডাম্পার ট্রলারের যাতায়াত। বাঁধ কেটে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা বালি পাচারের জন্য। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, এভাবে অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে নদীর বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে। ভারী বর্ষার সময় বাঁধ ভেঙে গোটা এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিছুদিন আগে এই জলঢাকা নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে ধূপগুড়ি ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। আজও গৃহহীন হয়ে রয়েছেন বহু মানুষ। সেই ঘটনা থেকেও শিক্ষা নেয়নি প্রশাসন। প্রশাসনের চোখের সামনেই নদীর বাঁধের উপর দিয়ে বালি নিয়ে ছুটছে বালি বোঝাই ডাম্পার।
বালি মাফিয়াদের দাপট
কিছুদিন আগে বালি পাচার আটকাতে গিয়ে বালি মাফিয়াদের হামলার মুখে পড়েছিলেন ময়নাগুড়ি বিএলআর অফিসের আধিকারিকরা। তাঁদের আটকে মারধর করা হয়, ভাঙচুর করা হয় গাড়ি। তারপর কিছুদিন বালি পাচার বন্ধ ছিল। কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও কোনও অজানা শক্তির দৌলতে স্বমহিমায় ফিরে এসেছে বালি মাফিয়ারা। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন রাত নয়টার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য চলে। ময়নাগুড়ি থানার নয়াবন্দর হয়ে হাটসাদিকা এলাকায় জলঢাকা নদীতে বালি তোলা হয়। আবার ধূপগুড়ি ব্লকের চিন্তামণি গ্রামের আকাশে যাওয়া জলঢাকা নদীর চর থেকেও বালি কাটা হচ্ছে, যে অঞ্চলটি ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী ধূপগুড়ি থানার অন্তর্গত। মেখলিগঞ্জ, ময়নাগুড়ি এবং ধূপগুড়ি—এই তিন থানা অঞ্চলেরই নদী থেকেই অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। তারপরেও সকলেই চুপ কেন, উঠছে সেই প্রশ্ন। বিজেপি-র (BJP) অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) নেতা ও পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য এই বালি পাচারের পিছনে রয়েছেন। যদিও শাসক দলের দাবি, অবৈধ কারবারিরা কখনও কোনও দলের হয় না। যদি বেআইনিভাবে বালি পাচারের সঙ্গে কেউ যুক্ত থাকে, তাহলে পুলিশ প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেবে। এ বিষয়ে ময়নাগুড়ি ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিক গোবিন্দ সাঁতরাকে ফোন করা হলে তিনি জানান, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলেও আশ্বাস দেন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


