বই থেকে ছাত্রছাত্রীদের বাইরের জগতে নিয়ে এলেন শিক্ষকরা। সমাজে পঞ্চায়েত সমিতি থেকে পুলিশ স্টেশনের কী কাজ, তা জানাতে পড়ুয়াদের আনা হল বিভিন্ন অফিসে। 
 বিভিন্ন অফিসে ঘুরে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে পরিচিতি ঘটালেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। অফিসে থাকা আধিকারিকরা ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে শিখিয়ে দিলেন সমাজে তাদের কী কাজ।

সোমবার এই চিত্র দেখা গেল পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর বাজার সংলগ্ন লক্ষীনারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয়ে। সোমবার বেলা ১১ টা নাগাদ এই বিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষকদের সঙ্গে হেঁটে বের হয় কেশপুর থানার উদ্দেশ্যে। আগে থেকেই থানায় বিষয়টি জানিয়ে রাখা হয়েছিল। তাই থানার পুলিশ আধিকারিকরা ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাগত জানিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু করেন।কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা জানান, কোন কোন সময় সমাজের কোন কোন কাজে তারা এগিয়ে আসেন। উপস্থিত পুলিশ কর্তারা ছাত্র-ছাত্রীদের শেখালেন কোথাও কোনও রকম বিপদ দেখলে কীভাবে পুলিশের সঙ্গে সংযোগ করে উদ্ধারকাজে নামা উচিত। ছাত্রীরাই বা বিপদে পড়লে কীভাবে উদ্ধার হবে তা-ও শেখান তারা।

কেশপুর থানায় আধ ঘণ্টার বেশি সময় কাটিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা হেঁটে রওয়ানা দেয় কেশপুর পঞ্চায়েত অফিসের দিকে। পঞ্চায়েত অফিসে কী ধরনের উন্নয়নের কাজ হচ্ছে আধঘন্টা ধরে ছাত্রছাত্রীদের তা বোঝানো হয়। কোন কোন কাজ এখনও বাকি রয়েছে সেটাও উল্লেখ করে দেন কর্মীরা। সেখান থেকে ছাত্রছাত্রীরা রওনা দেয় বিডিও অফিসের দিকে। কেশপুরের বিডিও দীপক কুমার ঘোষ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কী কী সরকারি প্রকল্প রয়েছে, কীভাবে তার সুবিধা পাওয়া যায় সেগুলি শিখিয়ে দেন।সেই সাথে ছাত্রছাত্রীরা বিডিওর কী কী ভূমিকা রয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তরে জিজ্ঞাসা করলে পরপর জানান তিনি। 

সবশেষে বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসে গিয়ে শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রগুলিও লক্ষ্য করেন।ছাত্রছাত্রীদের পোশাক থেকে বই কীভাবে কতখানি সরবরাহ হচ্ছে শিখে নেন বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাজ থেকে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিরুপাক্ষ চক্রবর্তী বলেন-" ছাত্র-ছাত্রীদের পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে অনেক বাস্তব বিদ্যা শেখানোর প্রয়োজন থাকে ।সেই কারণে আজকে এই উদ্যোগ নিয়েছিলাম ।সমস্ত আধিকারিকরাও যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। সকলকেই ধন্যবাদ।"