আরও একবার কাশ্মীর সমস্যাকে আন্তর্জাতিক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করল পাকিস্তান। আরও একবার ধাক্কা খেতে হল। এইবার দেশের নাগরিকরাই পাত্তা দিলেন না পাক প্রশাসনের আবেদনকে। শুক্রবার তাই একেবারেই জমল না পাকিস্তানের 'কাশ্মীর সংহতি ঘন্টা'।   

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজেকে বিশ্বে কাশ্মীরের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি এদিন দুপুর ১২ থেকে ১২.৩০ পাকিস্তানে 'তাশ্মীর সংহতি ঘন্টা' পালনেরক আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই নিয়ে জোরদার প্রচারও করেছিল পাক প্রশাসন। কিন্তু তা সাধারম মানুষের মনে বিশেষ দাগ কাটতে পারেনি।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি সফল করতে চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। বিভিন্ন স্কুলের শিশুদের এই অভিনব প্রতিবাদে সামিল করতে চেয়েছিল পাক প্রশাসন। কিন্তু যথেষ্ট ছাত্রছাত্রী স্কুলেই আসেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক রাস্তা আটকে দেওয়া হয়, যানবাহনের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কিন্তু যে কারণে এই আয়োজন করা সেই রকমভাবে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদে মানুষ পথেই নামেননি।

বরং, পাকিস্তানি সাংবাদিক নাইলা ইনায়েত-এর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা বেশ কিছু ভিডিওয় পাকিস্তানি নাগরিকদের এই সব বিধিনিষেধের কারণে বেশ অসন্তুষ্ট হতে দেখা গিয়েছে। তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে বাধা আসায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তাদের বক্তব্য, দেশে বেহাল অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি, দারিদ্র বৃদ্ধির মতো গুরুতর সমস্যা রয়েছে। পাকিস্তানের শাসক দল সেই সমস্যাগুলি থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই কাশ্মীরকে বড় ইস্য়ু করে তুলছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক মহলে বারবার কাশ্মীর নিয়ে মুখ পুড়েছে পাকিস্তানের। কিন্তু দেশের মানুষই 'কাশ্মীর সংহতি ঘন্টা'কে পাত্তা না দেওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান।