ভারতে যখন দেশ জুড়ে ১৫ অগাস্ট ৭৩তম স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে, সেই একই দিন পাকিস্তানে পালিত হল কালা দিবস হিসেবে। ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নিয়েছে। পুরো উপত্যকা মুড়ে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এরই প্রতিবাদে বহু পাকিস্তানি রাস্তায় নেমে মিছিল করে সহমর্মিতা দেখালেন কাশ্মীরিদের প্রতি।

একদিন আগে ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানি স্বাধীনতা দিবসে তারা পালন করেছিল 'কাশ্মীর সহমর্মিতা দিবস' হিসেবে। আর ভারতের স্বাধীনতা দিবসে কালা দিবস পালিত হবে তা আগেই ঘোষণা করেছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। সেই মতো মবলত তাঁর দল তেহরিক-ই-ইনসাফ পাকিস্তান-এর সদস্যরাই রাস্তায় নেমে মিছিল করলেন। তাঁদের বক্তব্য ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকার নিও নাৎসি ভাবধারা গ্রহণ করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় 'ইন্ডিয়ান হিটলার মোদী' নামে একটি হ্যাশট্যাগও চালু হয়েছে।

তবে শুধু পাকিস্তানেই নয়, বৃহস্পতিবার বিশ্বের অনেক দেশেই প্রবাসী পাকিস্তানিরাও কালা দিবস পালন করেন। লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে স্বাধীনতা দিবস পালন করতে আসা ভারতীদের লক্ষ্য করে ডিম, কলা, আপেল, কাচের বোতল ইত্যাদি ছোড়া হয়। এছাড়া ইতালির মিলান, কানাডার টরন্টো, স্পেনের বার্সেলোনা, ফ্রান্সের প্যারিস-সহ বিভিন্ন জায়গায় পাকিস্তানিরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

বৃহস্পতিবার পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ৯০-এর দশকের বসনিয় যুদ্ধের তুলনা টেনেছেন। টুইট করে তিনি বলেন, 'অধিকৃত কাশ্মীরে মুপসলিমদের গণহত্যা দেখেও কি বিশ্ব চুপ করে থাকবে আর সেব্রেনিকার মতো আরও একটি বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ঘটতে দেবে?' কূটনৈতিক মহল অবশ্য মনে করছে এই সবই আসলে শুক্রবার রাষ্টসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনার আগে, কাশ্মীরের একটি ছদ্ম শোচনীয় চিত্র তুলে ধরার প্রচেষ্টা।