চিনের পর রাশিয়া পাকিস্তানকে ১ মিলিয়ন কোভিড ভ্যাকসিন উপহার দিয়েছে। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান একে পাকিস্তানের কূটনৈতিক জয় এবং ভারতের মিত্রশক্তিগুলির সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত হিসাবে উল্লেখ করছেন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে উপহার বলতে নারাজ। তারা বলছে এটি রুশ করোনা টিকা স্পুটনিক ভি-এর মানবদেহে পরীক্ষার তৃতীয় ধাপ বলে উল্লেখ করেছে। এমনই এক বার্তা এখন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে ভাইরাল। কিন্তু, সত্যিই কি জিনপিং-এর পর ভ্লাদিমির পুতিনও হাত ধরলেন ইমরান খান-এর?

এই বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। 'স্পুকনিক ভি'-এর ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে টিকাটি গণহারে উত্পাদন করা শুরু হবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। কাজেই তার আগে পাকিস্তানকে এই টিকা উপহার দেওয়ার কোনও প্রশ্নই উঠছে না। তাহলে কি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যই পাকিস্তানে দেওয়া হয়েছে রুশ টিকার ডোজ? ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, এই টিকার তৃতীয় ধাপের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে ১২ অগাস্ট তারিখ থেকে। ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই ট্রায়াল হচ্ছে রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, ব্রাজিল এবং মেক্সিকো-য়। কোথাও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

তাহলে কোথা থেকে এই সংবাদ-এর উৎপত্তি? ভাইরাল পোস্টের মূল দাবিটি ধরে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে অনুসন্ধান করে দেখা গিয়েছে প্রায় একই শিরোনামে গত ১৪ অগাস্ট 'দ্য ফক্সি' নামে একটি ওয়েবসাইটে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে বিষয়টা হল, 'দ্য ফক্সি' একটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েব পোর্টাল। তারা ওয়েবসাইটেই বলে দিয়েছে এই ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু কল্পিত, শুধুমাত্র হাস্যরস তৈরির জন্য লেখা। কাজেই, এই নিবন্ধটি একেবারেই বানানো, গাঁজাখুড়ি বলা যেতে পারে।

পাকিস্তানে সম্প্রতি চিনের ক্যানসিনো বায়োলজিকস এবং বেইজিং ইনস্টিটিউট অফ বায়োটেকনোলজির তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায় ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। কিন্তু, রাশিয়া-ও পাকিস্তানে এমন কোনও পরীক্ষা চালাচ্ছে বলে কোথাও জানা যায়নি। বরং রাশিয়া ভারতেই এই টিকা পরীক্ষা করতে সনম্প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কাজেই বোঝাই যাচ্ছে রাশিয়া পাকিস্তান-কে ১০ লক্ষ কেন, কোভিড ভ্যাকসিনের ১টি ডোজও উপহার দেওনি। আর তারা সেখানে কোনও পরীক্ষাও চালাচ্ছে না। কাজেই ভাইরাল দাবিও সর্বৈব ভুয়ো।