পাক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে শান্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন ইমরান খান। কিন্তু, মোদী এমনভাবে সেই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছিলেন, তাতে তাঁর মনে হয়েছিল যেন ইঁটের দেওয়ালে ধাক্কা খেলেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে 'ফরেন পলিসি' পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন ইমরান খান।

তিনি জানান, ক্ষমতা নেওয়ার পরই অবিলম্বে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু মোদীর প্রতিক্রিয়ায় তিনি অবাক হয়ে যান। উপমহাদেশের উন্নয়নের জন্য তিনি অস্ত্রের জন্য অর্থ ব্যয়ের চেয়ে দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন ইমরান। কিন্তু, মোদী ছিলেন ইঁটের প্রাচীরের মতো। কোনও কথাই তিনি শোনেননি বলে দাবি পাক প্রধানমন্ত্রীর।

ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দাবি করেন, পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার পর তিনি মোদীকে ফোন করে বলেছিলেন ওই হামলায় কোনওভাবে পাকিস্তানের জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তা তাঁদের জানাতে। পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে তার বিরোধিতা করবে। কিন্তু, তা করার পরিবর্তে ভারত পাকিস্তানের উপর 'বোমাবর্ষণ' করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পুলওয়ামার ঘটনার পর গত অগাস্ট মাসে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে। তাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইমরান খান-কে কিন্তু তারপর থেকে শান্তির চেষ্টার থেকেও এই বিষয় নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাপী চেষ্টা করলেও সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, সামরিক উপায় এই দ্বন্দ্বের সমাধান সম্ভব নয়। তিনি চান রাষ্ট্রসংঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে মধ্যস্থতা করুক।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠতা বিশ্বের সকলের কাছে স্পষ্ট। এই নিয়ে ইমরান খান আদৌ উদ্বীগ্ন নন বলেই জানিয়েছেন। তাঁর মতে ভারতের বিশাল বাজার দখল করার লক্ষ্যেই ট্রাম্প এই সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। কিন্তু ভারত যে পথে এগোচ্ছে তাই নিয়ে তিনি যারপরনাই চিন্তিত বলে দাবি করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।