কোভিড-১৯ মহামারি, আর সংক্রমণ রুখতে লকডাউন - এর জেরে সারা বিশ্ব জুড়েই সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। স্কুল বন্ধ। কোথাও চলছে অনলাইন ক্লাস। কোথাও কোটিং সেন্টারের শিক্ষক-শিক্ষিকারাই ভরসা। এরই মধ্যে পাকিস্তানের দক্ষিণ সিন্ধু প্রদেশের বেশ কিছু ছাত্রকে এক কোচিং সেন্টারে ভয়বহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হল। এক দশ বছরের ছেলেকে চরম যৌন নির্যাতন করার অভিযোগে শনিবার ওই কোচিং সেন্টারের এক প্রবীন শিক্ষক-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভিডিও এবং ছবি প্রকাশিত হয়। যাতে দেখা যায়, এক ১০ বছরের ছাত্রকে ওই কোচিং সেন্টারের মধ্য়েই সরং শার নামে এক প্রবীন শিক্ষক যৌন নিপীড়ন করছে। দীর্ঘদিন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করার পর অবসর নিয়ে ওই কোটিং সেন্টার খুলেছিল সরং শার। প্রবীন ওই শিক্ষকের এলাকায় বেশ নাম রয়েছে। লকডাউনে স্কুল বন্ধ বলে, পেশায় গাড়িচালক বাবা ওই ছেলেটিকে ওই কোচিং সেন্টারে ভর্তি করে দিয়েছিল।

আর তারপরই অন্ধকার নেমে আসেছিল ওই শিশুটির জীবনে। তার করাচির এক সংবাদমাধ্যমকে তার বাবা জানিয়েছেন, ভিডিওটির ভয়াবহতা দেখে তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কী ছিল সেই ভিডিওটিতে? শিশুটির বাবার ভাষায়, 'আমার দশ বছরের ছেলেকে পায়ু-ধর্ষণ করছিল ওই দানব।' তাঁর আক্ষেপ, একজন শিক্ষক তাঁর ছাত্রদের জীবন গড়ে দেন। কিন্তু এই ব্যক্তি তাঁর সন্তানের জীবন নষ্ট করে দিচ্ছিলেন।

তবে ১০ বছরের শিশুটিউ যে সরং শার-এর একমাত্র শিকার, তা নয়। স্থানীয়দের দাবি, এই প্রবীন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগে বেশ কয়েকবার একই ধরণের অভিযোগ উঠেছে। অতীতে সে বহুবার এইরকম শিশু ছাত্রদের উপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছিল। সেই কুকর্মের ভিডিও তৈরি করে ইন্টারনেটে তা প্রকাশ করে দেবে বলে তাদের ব্ল্যাকমেইল-ও করেছিল।

প্রত্যেকবারই অবশ্য সে গ্রেফতারি এড়িয়ে বেঁচে গিয়েছে। কীকরে? স্থানীয় আইনজীবী রাজা হাসান জানিয়েছেন, সরং শার ওই এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। কারণ, তাঁর ছেলে আসলাম শার, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ'এর খায়রপুর জেলার সহ-সভাপতি। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের বড় নেতা হওয়ার সুবাদে বারবার অন্য়ায় করেও সে পার পেয়ে গিয়েছে। তবে এইবার সোশ্য়াল মিডিয়ায় সরং শার-এর ছবিও প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর তুমুল শোরগোল তৈরি হয়েছে।

এক স্থানীয় পদস্থ পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, কোচিং সেন্টারে এই জঘন্য কাজ করার জন্য সরং শার-এর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবি ও ভি়ডিওগুলিই তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

তার ছেলে তথা ইমরাণ খান-এর দলের নেতা আসলাম শার অবশ্য 'তিনি বর্তমানে শহরের বাইরে রয়েছেন' বলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। তবে তাঁর দাবি, ভিডিও বা ফটোতে থাকা ব্যক্তিটি তাঁরই বাবা, এটা স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে না।

তবে সরং শার-এর ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পাকিস্তানে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে ছোট শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন ক্রমে মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শিক্ষক, আত্মীয়, মৌলবী, রাজনৈতিক নেতা - মাঝে মাঝেই বিভিন্ন স্তরের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। তবে শিশু অধিকার সুরক্ষা কর্মীদের দাবি, 'কলঙ্ক'-এর ভয়ে অধিকাংশ ঘটনার ক্ষেত্রেই কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয় না। কাজেই আসল ঘটনার সংখ্যা অনেক বেশি।