আফগানিসস্তানের উপর বর্বরোচিত হামলা চালালো পাকিস্তান। পাক-আফগান সীমান্তে পাক সেনার গুলির আঘাতে আফগানিস্তানের আর্টিলারি কমপক্ষে ১৫ জন অসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার। কাবুলে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে সজাগ রাখা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এই নিয়ে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

এমনিতে দুই দেশের মধ্যের চমন-স্পিন বোলদাক সীমান্ত বন্ধই থাকে। কিন্তু, ইদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার এই সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বন্ধ সীমান্তের দুইপাশে পাকিস্তানি ও আফগানরা সীমান্ত পার হয়ে ইসলাম ধর্মের এই উৎসবে পরিবার বর্গের সঙ্গে যোদ দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। সেইসময়ই দুই পক্ষের বাহিনীর মধ্যে সামান্য সংঘর্ষ বেধেছিল। এরপর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আফগানস্তানের মাটিতে গোলা বর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এদিন এক কড়া বিবৃতি দিয়ে বলেছে, পাক সেনাবাহিনী আফগান ভূখণ্ডে রকেট হামলা চালানো বন্ধ না করলে আফগান সেনাবাহিনীও তার প্রতিশোধ নেবে।

পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও এই সাম্নত সংঘর্ষ নিয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি পাক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে বিষয়টি নিয়ে আফগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করা হচ্ছে। তাতে সুদৃঢ় ও সদর্থক সমাধান বের হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

জানা গিয়েছে একেবারে স্পিন বোলডাক-এর আবাসিক এলাকাতেই রকেট হানা চালায় পাক সেনা। এতে ১৫ জন নিহত এবং আরও ৮০ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের মধ্যে মহিলা ও শিশুও রয়েছে।

জানা গিয়েছে এর আগে কোভিড মাহামারির জন্য দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সীমান্তের দুই পারে দুই দেশেরই সাধারণ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে একসময় আফগান পক্ষের জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে পাকিস্তানি কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিল। সেই সময়ই একদফা ঝামেলা হয়েছিল দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে। এরপরই আচমকা পাকিস্তানের দিক থেকে ছু়টে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে গোলা। এখনও সীমান্তের দারুণ উত্তেজনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রশক্তি হলেও দুই দেশের মধ্যে মোটেই বনিবনা নেই। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আফগানিস্তান অভিযোগ করে এসেছে পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনী গোপনে তালিবানি জঙ্গিদের সমর্থন করে। তবে পাকিস্তান বারবারই তা অস্বীকার করেছে এবং উল্টে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাক সরকার বিরোধী জঙ্গিদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ করেছে।