করাচিতে দাউদ ইব্রাহিম রয়েছে। তাঁর ঠিকানাও জানতে পারা গেছে। শনিবার রাতে পাকিস্তানের এক সংবাদ মাধ্যম এই খবরটি সর্বপ্রথম জানায়। কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলে ইমরান খানের প্রশাসন। জানিয়ে দেয় দাউদ ইব্রাইম পাকিস্তানে রয়েছে বলে ভিত্তিহীন খবর ছড়াচ্ছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলি। পুরোপুরি দায় ঝেড়ে ফেলে পাক প্রশাসন। কিন্তু এই ঘটনার পর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে নারাজ ভারতীয় গুপ্তরচ সংস্থা। ইতিমধ্যেই ভারতীয় গোয়েন্দারা বেশ কিছু তথ্য জোগাড় করেছেন যা থেকে প্রায় পরিষ্কার যে ভারতের মোস্ট ওয়ান্ডেট দাউদকে নিয়ে মিথ্য়াচার করছে পাকিস্তান। 

একটি সূত্র দাবি করছেন ২০২০২ সালের স্যাচুটোরিটি রেগুলেটরি অর্ডারে প্রথম বার দাউদের তথ্য দিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু  ২০২০ সালের ১৮ অগাস্ট পর্যন্ত তেমন কোনও তথ্য ছিল না। গোয়োন্দাদের দাবি ভারতের হাতে প্রমাণ রয়েছে ব্যাকডেটে দিয়ে তথ্যগুলি আপডেট করেছে পাকিস্তান। আর সেখান থেকেই সামনে এসেছে দাউদের ঠিকানা। যা প্রমাণ করছে বর্তমানে সে ইসলামাবাদের আশ্রয়েই রয়েছে। 

ভারত দাবি করছে পাকিস্তান দাউদকে নিয়ে প্রথম থেকে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। আর এই নিয়ে ভারত সরব হবে আগামী দিনের ফিনান্স্য অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের বৈঠক। কারণ আন্তর্জাতিক এই বৈঠকেই পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্য করে থাকে তা নিয়ে আবারও পাকিস্তানকে নিশানা করবে ভারত। কারণ এই সংস্থাটিই জঙ্গিদের আর্থিক সাহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে পাকিস্তানকে ধুসর তালিকাভুক্ত করেছিল। সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তান কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। কিন্তু চলতি বছরের গোড়ার দিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এফএটিএফ বৈঠক বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু সেই বৈঠক আবারও আহ্বান করা হবে বলেই জানা গেছে। আর তাতে যদি পাকিস্তান সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারে তাহলে কালো তালিকাভুক্ত করে আর্থিক অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।  
 
দাউদকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত সরকার দীর্ঘ দিন ধরেই পাকিস্তানের কাছে সহযোগিতারর আবেদন জানিয়ে আসছে। ১৯৯৩ সালে মুম্বইয়ের ধারাবায়িক বিষ্ফোরণের অন্যতম চক্রী দাউদ ইব্রাহিন। দীর্ঘ দিন ধরেই পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়ে আছে বলেই ভারতের অভিযোগ। কিন্তু বিষয়টি সর্বদাই এড়িয়ে যায় পাকিস্তান।