তুরস্কের ইস্তানবুলে ঐতিহাসিক গির্জা-কে রিসেপ তাইপ এর্দোগান মসজিদে রূপান্তর করছেন। আর তাঁর বন্ধু ইমরান খানের দেশে ধীরে ধীরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে সেই দেশের হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য। সম্প্রতি লকডাউনের সুযোগ নিয়ে পাকিস্তানের করাচি শহরের লিয়ারি এলাকায় একটি প্রাচীন হনুমান মন্দির ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, মন্দিরের কাছে বসবাসকারী প্রায় ২০টি হিন্দু পরিবারের ঘরবাড়িও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

পাক সংবাদমাধ্যমগুলি-কে ভিটেহারা স্থানীয় হিন্দুরা জানিয়েছেন, একজন নির্মাতা ওই মন্দিরের চারপাশের জমি কিনে সেখানে আবাসন বানাতে চেয়েছিলেন। তবে সেখানে বসবাসকারী হিন্দুদের তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মন্দিরটি সেখানেই থাকবে। আবাসনের কাজ হলেও হনুমান মন্দির স্পর্শ করা হবে না। কিন্তু, করোনভাইরাস মহামারির জেরে পাকিস্তানে লকডাউন চলাকালীন ওই নির্মাতা বুলডোজার দিয়ে মন্দিরটি এবং তার আশপাশের হিন্দু পরিবারগুলির বাড়িঘর সব ভেঙে দিয়েছেন।

স্থানীয় হিন্দুরা অবশ্য চুপ করে থাকেননি। সম্প্রতি ওই প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসস্তূপের চারপাশে জড়ো হয়ে তাঁরা প্রতিবাদ জানান। তারপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ পুরো এলাকাটি সিল করে দিয়েছে। ওই নির্মাতার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে, এমনটা নয় যে, প্রশাসন সংখ্যালঘু হিন্দুদের সুরক্ষা দিচ্ছে। এক পাক প্রশাসনিক কর্তাই জানিয়েছেন ওই অঞ্চলে এর আগে দুটি মন্দির ছিল। একটি আগেই ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই ক্ষেত্রে, প্রত্নতাত্ত্বিকসহ একটি কমিটি গঠন করে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।