বৃহস্পতিবার 'কৌশলগত স্তর'এর আলোচনার জন্য বেজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি। মনে করা হচ্ছে চিনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্যেই তাঁর এই সফর। এদিকে তার পরপরই ভারতকে ফের পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি দিলেন পাক রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ। তাঁর দাবি পাকিস্তান নাকি এমন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে, ভারতীয় মুসলিমদের বেছে বেছে বাদ দিয়ে আঘাত হানবে।

একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে শেখ রশিদ স্বীকার করে নিয়েছেন যে প্রচলিত পথে যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে এঁটে উঠতে পারবে না পাক সেনাবাহিনী। তাই, পাকিস্তান এখন ক্ষুদ্রতর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ করছে। একেবারে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য অসম অবধি আঘাত করতে পারবে এই ক্ষুদ্র পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলি। লক্ষ্যে থাকবে খুব নির্ভুল এবং নিখুঁত। এই পরমাণু বোমা নাকি এমনভাবে কাজ করবে যাতে, মুসলমানদের কোনও ক্ষতি হবে না। এমন সম্প্রদায়গতভাবে বেছে বেছে আক্রমণ চালানোর মতো প্রযুক্তি তৈরির কথা অবশ্য এখনও বিশ্বের কোথাও শোনা যায়নি।

তবে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ভারতকে এই প্রথমবার হুমকি দিলেন না শেখ রশিদ। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীর নিয়ে ভারতকে সরাসরি সামরিক লড়াইয়ের হুমকি দিয়েছিলেন। তারপরই তাঁর রেলমন্ত্রী পাকিস্তানের ১২৫ থেকে ২৫০ গ্রাম ওজনের ক্ষুদ্রতর পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে গর্ব করেছিলেন।

তবে শেখ রশিদের এইবারের এই হুমকির পিছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বুধবারই জানা গিয়েছিল সৌদি আরবের শাহজাদা মহম্মব বিন সালমান পাক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া-কে বৈঠকের জন্য সময়ই দেননি। কূটনৈতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানকে এর আগে এত প্রত্যক্ষভাবে অপমান করেনি সৌদি আরব। এই নিয়ে ভারত উপমহাদেশ ও বহির্বিশ্বেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই চরম অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে মনোযোগ সরানোর মরিয়া প্রচেষ্টা হিসাবেই রশিদ এই পরমাণু অস্ত্রের আস্ফালন করলেন বলে মনে করা হচ্ছে। এমনিতেই তিনি ইমরান মন্ত্রীসভায়, পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর কণ্ঠ বলে পরিচিত।

অন্যদিকে পাক বিদেশমন্ত্রী কুরেশির চিন সফর সৌদি আরবের কাছে চরম ধাক্কা খেয়ে কাশ্মীরের বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের পক্ষে সমর্থন আদায় করার চেষ্টা হিসাবেই মনে করা হচ্ছে। কাশ্মীরের পাশাপাশি পূর্ব লাদাখের ভারত-চিন অবস্থান নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এছাড়া চলতি বছরের শেষদিকে চিনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের পাকিস্তান সফরের কথা আছে। সেই বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নিয়েও কথা হতে পারে দুই দেশের কুটনীতিকদের। আর সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রেও জিনপিং-এর সহায়তা চাইতে পারেন ইমরান।