দিন দুই আগেই অশ্লীলতা প্রচার অভিযোগ তুলে চিনা অ্যাপ বিগো-কে নিষিদ্ধ করেছিল পাকিস্তান, সতর্ক করা হয়েছিল টিকটক-কে। এবার ইউটিউব-এর মতো বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম-ও নিষিদ্ধ হতে পারে ইমরান খানের দেশে। বুধবার-ই এক সাম্প্রদায়িক অপরাধের মামলার শুনানি চলাকালীন এই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে পাক সুপ্রিম কোর্ট।

অশ্লীলতা ও অনৈতিকতা প্রচার নয়, ইউটিউবের অপরাধ, সেখানে বিচার বিভাগ, সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে জনগণকে প্ররোচিত করার মতো ভিডিও পোস্ট করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরণের অনিয়ন্ত্রিত সামগ্রী প্রচার সম্পর্কে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন পাক বিচারপতিরা। ইউটিউব অনেক দেশেই নিষিদ্ধ, বলে দাবি করে পাক সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা এই বিষয়ে আদালত এই বিষয়ে পাকিস্তানের অ্যাটর্নি-জেনারেল এবং বিদেশ মন্ত্রকের কাছে নোটিশ পাঠিয়েছে ।

পাক বিচারকদের সাফ কথা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। জনগণের অর্থেই তাঁদের বেতন হয়। তাই তাঁদের সিদ্ধান্ত এবং কর্মক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার অবশ্যই আছে জনগণের। তবে পাক সংবিধান বিচারপতিদের গোপনীয়তার অধিকারও দিয়েছে।

তাঁদের দাবি বিচার বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদেরও ইউটিউবের সমালোচনার নিশানা হতে হচ্ছে। ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে বিচারকদের নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে। তাদের অপমান করা হচ্ছে। এই জাতীয় ঘটনা নিয়ে পাকিস্তান টেলিযোগযোগ কর্তৃপক্ষ (পিটিএ) এবং ফেডারেল তদন্ত সংস্থা (এফআইএ) কী ব্যবস্থা নিয়েছে তাও জানতে চেয়েছে পাক সুপ্রিম কোর্ট।

পাকিস্তানে ডিজিটাল স্পেসে স্বাধীনতা অবশ্য বরাবরই খুবই সীমিত। ডিজিটাল মাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশ আটকাতে ২০১৬ সালে ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইন জারি করা হয়েছে। ফেডারেল এজেন্সি পিটিএ এবং এফআইএ এই আইন কঠোরভাবে বলবৎ করে থাকে। তবে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্লক করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ইউটিউব-ও তিন বছরের জন্য নিষেদ্ধ করা হয়েছিল। যা নিয়ে আন্তর্জাতিক  সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল পাকিস্তানকে। আবার সেই দিকে ফিরছে ইমরান খানের দেশ।