৮৮ টি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের প্রধানরা নিষিদ্ধ। তালিকায় রয়েছে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম, ২৬/১১ মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ, থেকে জইশ-ই-মহম্মদ-এর প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহার। শনিবার এই সমস্ত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের চাঁইদের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দিল ইসলামাবাদ। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের বা এফএটিএফ-এর ধুসর তালিকা মুক্ত হতে গিয়ে নিজেদের তৈরি জালেই জড়িয়ে গেল পাকিস্তান।

পাক সরকার এদিন দু'টি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সইদ, আজহার এবং দাউদ-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করেছে। তালিকায় দাউদ ইব্রাহিমের নামটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক মামলার প্রধান অপরাধী পাকিস্তানে রয়েছে, এই কথা সবাই জানলেও এতদিন সরকারিভাবে স্বীকার করেনি পাকিস্তান। এই নয়া নিষেধাজ্ঞার তালিকা প্রকাশ করে এফএটিএফ-এর চাবুকের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে পাকিস্তান গয় প্রায় তিন দশকের মধ্যে প্রথমবার স্বীকার করল যে পাকিস্তানেই আছে দাউদ ইব্রাহিম।

জানা গিয়েছে, এই ৮৮ টি সংগঠন ও তাদের সদস্যদের নাম রাষ্ট্রসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের (ইউএনএসসি) প্রকাশিত নতুন তালিকাতে রয়েছে। সেইমতোই এদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পাকিস্তান সরকার। নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠনগুলির মধ্যে রয়েছে জামাত-উদ-দাওয়া, জইশ-ই-মহম্মদ, তালিবান জঙ্গি গোষ্ঠী, আইএস জঙ্গি গোষ্ঠী, হাক্কানী নেটওয়ার্ক, আল কায়দা ইত্যাদি। আর জঙ্গিনেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হাফিজ সইদ, মাসুদ আজহার, মোল্লা ফজলউল্লা (ওরফে মোল্লা রেডিও), জাকিউর রেহমান লকভি, মহম্মদ ইয়াহিয়া মুজাহিদ, আবদুল হাকিম মুরাদ, নূর ওয়াল মাহসুদ, উজবেকিস্তান লিবারেশন মুভমেন্টের ফজল রহিম শাহ, তালিবান নেতা জালালউদ্দিন হাক্কানি, খলিল আহমেদ হাক্কানি, ইহকাহ হাক্কানী প্রমুখ।

২০১৮ সালের জুন মাসে এফএটিএফ পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার 'ধূসর তালিকায়' ফেলেছিল এবং তাদের কিছু সমস্কারের পরামর্শ দিয়েছিল। সেগুলি ২০১৯ সালের শেষের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ইসলামাবাদকে নির্দেশ দেওয়া হলেও এতদিন কিছুই করেননি ইমরান খান। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অবশ্য এই সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এই ধুসর তালিকা এড়াতেই ইমরান সরকার এই পদক্ষেপ নিল বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই সবটাই আইওয়াশ বা লোক দেখানো বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞরা। এর আগেও পাকিস্তানকে এই কাজ করতে দেখা গিয়েছে। যেমন এর আগে পাকিস্তান জামায়াত-উদ-দাওয়া'র হাফিজ সইদ, লস্কর-ই-তৈবা'র আবদুল সালাম ভুটভী, হাজি আশরাফ, ইয়াহিয়া মুজাহিদ এবং জাফর ইকবালের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিলেও, গত মাসের শুরুতেই সেগুলি ফের চালু করেছিল। এরা কিন্তু সকলেই ইউএনএসসির তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসবাদী।