আষাঢ়ের মঙ্গল-শনিবার মা বিপত্তারিণীর পুজো। বিপদ থেকে রক্ষা পেতে মেয়েরা এই ব্রত করেন। কিন্তু ভক্তির সাথে মানতে হয় কড়া নিয়মও। আমিষ, তেতো, সেলাই - এই দিন কী কী বারণ জানুন। সাথে রইল ২০২৬ এর নির্ঘন্ট।
"মা বিপত্তারিণী চরণে শরণ"। আষাঢ় মাস এলেই বাঙালি বাড়ির মেয়েরা এই মন্ত্রে মেতে ওঠেন। বিশ্বাস, মা বিপত্তারিণী সংসারের সব বিপদ-আপদ দূর করে দেন। তাই রথযাত্রার পর আষাঢ় মাসের মঙ্গলবার ও শনিবার ধুমধাম করে পালিত হয় বিপত্তারিণী ব্রত।

কিন্তু শুধু পুজো করলেই হবে না। এই ব্রতের আছে কিছু কড়া নিয়ম। কথিত আছে নিয়ম ভাঙলে ব্রত নষ্ট হয়, উল্টে বিপদ বাড়ে। তাই পুজোর আগে জেনে নিন ২০২৬ সালে কবে পুজো আর কী কী করা একেবারেই নিষেধ।
বিপত্তারিণী পুজো ২০২৬ নির্ঘন্ট:
২০২৬ সালে আষাঢ় মাস পড়েছে জুলাই মাসে। পঞ্জিকা অনুযায়ী সম্ভাব্য তারিখগুলি হল:
প্রথম শনিবার: ৪ জুলাই ২০২৬
প্রথম মঙ্গলবার: ৭ জুলাই ২০২৬
দ্বিতীয় শনিবার: ১১ জুলাই ২০২৬
দ্বিতীয় মঙ্গলবার: ১৪ জুলাই ২০২৬
অনেক বাড়িতে রথের পরের শনি-মঙ্গলেই এই পুজো করার রীতি। পুজোর শুভ সময় সাধারণত ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। তবে তিথি অনুযায়ী সময়ের হেরফের হয়। তাই পুজোর আগের দিন স্থানীয় পঞ্জিকা একবার দেখে নেওয়া ভালো।
পুজোর দিন যে ৮টি কাজ করা একেবারেই নিষেধ:
বিপত্তারিণী ব্রতের মূল হল ৩ দিনের সংযম। পুজোর আগের দিন, পুজোর দিন আর পরের দিন - এই ৩ দিন হাতে ১৩ গিঁটের লাল "তাগা" বাঁধা থাকে। এই সময় নিচের কাজগুলি করলে ব্রত ভঙ্গ হয় বলে মানা হয়।
প্রথমেই আসে খাওয়ার নিয়ম। এই ৩ দিন পুরোপুরি নিরামিষ খেতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম তো দূরের কথা, পেঁয়াজ আর রসুনও চলবে না। সাথে বারণ তেতো খাবার। উচ্ছে, নিমপাতা, করলার মতো তেতো সবজি এই দিন খাওয়া যায় না। দ্বিতীয়ত, শরীরের যত্ন। ব্রত চলাকালীন চুলে চিরুনি দেওয়া যাবে না, নখ কাটা যাবে না। বাড়ির পুরুষদেরও ক্ষৌরকর্ম করতে বারণ। তৃতীয়ত, ঘরের কাজ। সুচ-সুতো দিয়ে সেলাই করা, ছুরি-বটি দিয়ে সবজি বা ফল কাটা এই দিন নিষেধ। চতুর্থত, পায়ে জুতো। পুজোর দিন সারাদিন খালি পায়ে থাকতে হয়। জুতো বা চপ্পল পরা যাবে না। পঞ্চমত, মনের সংযম। বাড়িতে ঝগড়া, চিৎকার, কটু কথা বলা চলবে না। সারাদিন মন শান্ত রাখতে হবে। ষষ্ঠত, তাগা। হাতে বাঁধা ১৩ গিঁটের লাল সুতো নিজে থেকে খোলা যাবে না। ৩ দিন পর নদী বা পুকুরের জলে ভাসিয়ে দিতে হয়। সপ্তমত, ঋতুমতী অবস্থায় এই পুজো করা যায় না। সেই সময় পুজো বা প্রসাদ ছোঁয়াও নিষেধ। আর শেষে, মিথ্যে কথা। ব্রতের দিন সত্যি কথা বলা আর দান-ধ্যান করার উপর জোর দেওয়া হয়।
পুজোর সাধারণ নিয়ম ও ভোগ:
ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে লাল বা হলুদ পাড়ের শাড়ি পরুন। ঘটে আমপাতা আর সিঁদুর দিয়ে মা বিপত্তারিণীর ঘট স্থাপন করুন। মায়ের সামনে ১৩ রকম ফল, ১৩ রকম ফুল, ১৩ গাছা লুচি আর ১৩ রকম ভাজা ভোগ দিন। পুজোর পর ১৩টি দূর্বা আর ১৩টি পান-সুপুরি দিয়ে ব্রতকথা পড়ুন। পুজো শেষে প্রসাদ ১৩ জনকে বিলিয়ে দিন। অনেকে বাড়ির বয়স্ক বা ব্রাহ্মণ দিয়ে পুজো করান।
বিপত্তারিণী মা হলেন "ত্রাণকারিণী"। ভক্তি আর নিষ্ঠা থাকলে ছোট ছোট ভুল মা ক্ষমা করবেন করে দেন। কিন্তু ব্রতের মূল উদ্দেশ্যই হল সংযম। তাই নিয়ম মেনে পুজো করুন, দেখবেন সংসার থেকে বিপদ দূর হবে।
