Buddha Purnima 2026: ২০২৬-এর ১ মে শুক্রবার বুদ্ধ পূর্ণিমা। বৈশাখী পূর্ণিমার এই তিথিতেই লুম্বিনীতে জন্ম, বোধগয়ায় বোধিলাভ আর কুশীনগরে মহাপরিনির্বাণ – গৌতম বুদ্ধের জীবনের তিন মহা-অধ্যায়। স্নান-দানের শুভ মুহূর্ত ভোর ৪:১৫ থেকে ৪:৫৮। বৌদ্ধ বিহারে প্রার্থনা, ধ্যান, অষ্টশীল পালন আর দানের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় শান্তি ও করুণার এই উৎসব।

Buddha Purnima 2026: পূর্ণিমার চাঁদ যখন আকাশ আলো করে, বৌদ্ধ জগৎ স্মরণ করে এক মহামানবকে। ২০২৬ সালের ১ মে, শুক্রবার বুদ্ধ পূর্ণিমা। এটা শুধু জন্মদিন নয়। এই একই তিথিতে সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধ হয়েছিলেন, আবার এই তিথিতেই মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। জন্ম, বোধি, মৃত্যু, তিন ঘটনা একসঙ্গে। তাই ভেসাক বা বৈশাখী পূর্ণিমা বৌদ্ধদের সবচেয়ে পবিত্র দিন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তিথি ও শুভ সময়

পূর্ণিমা তিথি শুরু ৩০ এপ্রিল ২০২৬ রাত ৯:১২ মিনিটে। শেষ ১ মে রাত ১০:৫২ মিনিটে। তাই উৎসব পালিত হবে ১ মে সারাদিন। চন্দ্রোদয় ১ মে সন্ধ্যা ৬:৫২ মিনিটে। স্নান ও দানের জন্য ব্রহ্ম মুহূর্ত সবচেয়ে শুভ। ১ মে ভোর ৪:১৫ থেকে ৪:৫৮ মিনিটের মধ্যে গঙ্গাস্নান ও দান করলে পুণ্য বেশি। শাস্ত্র মতে, এর পরে স্নান করলে তাকে ‘রাক্ষস স্নান’ বলে।

কীভাবে পালন করবেন?

১. বিহারে প্রার্থনা: বোধগয়া, সারনাথ, কুশীনগর-সহ সব বৌদ্ধ বিহারে সকাল থেকে ‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি, ধম্মং শরণং গচ্ছামি, সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি’ – ত্রিশরণ মন্ত্রে মুখর হয়। বোধিবৃক্ষে জল ঢেলে, প্রদীপ জ্বালিয়ে শান্তি কামনা করা হয়।

২. ধ্যান ও অষ্টশীল: অনেক ভক্ত এদিন অষ্টশীল পালন করেন। মানে অহিংসা, সত্য, চুরি না করা, ব্রহ্মচর্য, নেশা বর্জন-সহ আটটি নিয়ম। সারাদিন নিরামিষ খাওয়া, ধ্যান করা, গীতা বা ত্রিপিটক পাঠ করা হয়।

৩. দান ও সেবা: বুদ্ধ বলেছিলেন, 'দানই সবচেয়ে বড় ধর্ম'। এদিন ভিক্ষুদের অন্ন, বস্ত্র, ওষুধ দান করা হয়। পশু-পাখিকে খাওয়ানো, গরিবদের সাহায্য করা হয়। অনেক জায়গায় রক্তদান শিবির হয়।

৪. ঘরে পালনের নিয়ম: বাড়িতে বুদ্ধমূর্তি বা ছবি পরিষ্কার করে সাদা ফুল, ধূপ দিন। সন্ধ্যায় পূর্ণিমার চাঁদকে দুধ-জল দিয়ে অর্ঘ্য দিন। পরিবারের সঙ্গে বসে পাঁচ মিনিট চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাসে মন দিন। এটাই আসল বুদ্ধ পূজা।

হিন্দু মতে বুদ্ধ পূর্ণিমা: বৈষ্ণব মতে গৌতম বুদ্ধ বিষ্ণুর নবম অবতার। তাই অনেক হিন্দু বাড়িতে এদিন সত্যনারায়ণ পূজা হয়। চন্দ্র পূজা করে সন্ধ্যায় ব্রত ভাঙা হয়। বিশ্বাস, এদিন চন্দ্রের আলোয় স্নান করলে রোগমুক্তি হয়।

কেন জরুরি বুদ্ধের বাণী? 

'অপ্প দীপো ভব'- নিজেই নিজের আলো হও। হিংসা, যুদ্ধ, রাগের এই যুগে বুদ্ধের মধ্যপন্থা, পঞ্চশীল, অষ্টাঙ্গিক মার্গই পারে শান্তি ফেরাতে। বুদ্ধ বলেছিলেন, 'রাগকে অ-রাগ দিয়ে, খারাপকে ভালো দিয়ে জয় করো'। ১ মে ২০২৬ গেজেটেড ছুটি। লেবার ডে-ও একই দিনে। তাই লং উইকেন্ডে একবার বিহারে ঘুরে আসুন বা ঘরেই একটু চুপ করে বসুন। কারণ, বুদ্ধ পূর্ণিমা শুধু উৎসব নয়, নিজের ভিতরের বুদ্ধকে জাগানোর দিন।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।