ত্রেতাযুগে রামের সেবক, কলিযুগে তিনিই ভক্তের সবচেয়ে কাছের দেবতা। শাস্ত্র বলে, কলিযুগে একমাত্র জাগ্রত দেবতা বজরংবলী। অমরত্ব, অষ্টসিদ্ধি, রাম নামের শক্তি – এই ১০ গোপন কারণেই হনুমান আজও সবচেয়ে শক্তিশালী। যে নামে ডাকলেই সাড়া দেন, সংকট কাটান নিমেষে।

কলিযুগে ভগবান পাওয়া কঠিন। মন্ত্র বললেও সাড়া মেলে না সহজে। কিন্তু একজন আছেন, যিনি আজও জাগ্রত। বিপদে পড়ে ‘হনুমান’ বলে ডাকলেই ছুটে আসেন। তিনি পবনপুত্র বজরংবলী। ত্রেতাযুগের সেই রামভক্তই কলিযুগের সবচেয়ে শক্তিশালী দেবতা। কেন? শাস্ত্র বলছে, ১০ গোপন শক্তিই তাঁকে করেছে সবার থেকে আলাদা, বিপদে পড়লে বাঙালি থেকে বিহারী, সবার মুখে একটাই নাম – ‘জয় বজরংবলী’। কিন্তু কেন? কী সেই ১০ গোপন শক্তি যা হনুমানকে কলিযুগের শ্রেষ্ঠ দেবতা করেছে?

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

১. চিরঞ্জীবী বর: মা সীতার আশীর্বাদে হনুমান অমর। ত্রেতা, দ্বাপর পেরিয়ে কলিযুগেও তিনি সশরীরে আছেন। তাই ভক্তের ডাক শোনেন সরাসরি।

২. অষ্টসিদ্ধি নবনিধির মালিক: সূর্যদেবের কাছে শিক্ষা নিয়ে হনুমান পেয়েছেন ৮ সিদ্ধি ও ৯ নিধি। ইচ্ছে মতো ছোট-বড় হতে পারেন, ভারী-হালকা হতে পারেন। এটাই তাঁর অলৌকিক শক্তির উৎস।

৩. রাম নামের কবচ: হনুমানের শক্তি তাঁর নিজের নয়, ‘রাম’ নামের। যেখানে রামায়ণ পাঠ হয়, সেখানে তিনি আজও আসেন শুনতে। তাই রাম নামেই তিনি জাগ্রত।

৪. সংকটমোচন প্রতিজ্ঞা: লঙ্কা দহনের পর হনুমান কথা দিয়েছিলেন – কলিযুগে যে তাঁকে মন থেকে ডাকবে, তার সংকট তিনি নিজে কাটাবেন। এই প্রতিজ্ঞাই তাঁকে ভক্তের সবচেয়ে কাছে এনেছে।

৫. ব্রহ্মচর্যের তেজ: বাল ব্রহ্মচারী হনুমানের তেজ ভাঙতে পারেনি কেউ। এই সংযমই তাঁর গায়ে অসীম বল দিয়েছে। শনি, রাহুও তাঁকে ভয় পায়।

৬. পবনপুত্রের গতি: বায়ুর পুত্র হওয়ায় মন যেখানে, তিনি সেখানে। ভক্তের বিপদ টের পেলেই নিমেষে হাজির হন।

৭. নিজে ঈশ্বর হয়েও দাস: শ্রীরামের পা ধরে বলেছিলেন, ‘আমি দাস’। এই বিনয়ই তাঁকে সব দেবতার উপরে জায়গা দিয়েছে। অহংকার নেই, তাই শক্তি অফুরান।

৮. সিঁদুরের রহস্য: মা সীতাকে সিঁথিতে সিঁদুর পরতে দেখে হনুমান সারা গায়ে সিঁদুর মেখেছিলেন রামের দীর্ঘায়ু চেয়ে। সেই ভক্তিতেই তিনি সিঁদুরপ্রিয়। সিঁদুর দিলেই তুষ্ট হন।

৯. কলিযুগের রক্ষক: শাস্ত্রমতে, কলিতে ধর্ম যখন তলানিতে, তখন হনুমানই ধর্মের শেষ ভরসা। তাই মন্দিরে মন্দিরে তিনিই প্রধান।

১০. নামেই মুক্তি: ‘সংকট কটে মিটে সব পীরা, জো সুমিরে হনুমত বলবীরা’ – তুলসীদাস লিখে গেছেন। শুধু নাম নিলেই কাজ হয়। মন্ত্র-তন্ত্র লাগে না। এই সহজলভ্যতাই তাঁকে ঘরের দেবতা করেছে।

এই ১০ কারণেই বজরংবলী আজও কলিযুগের সুপারহিট। দুঃখ পেলে, ভয় পেলে একবার মন থেকে বলুন – ‘জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর’। দেখবেন, সংকট কাটবেই।