ঘরে গঙ্গাজল রাখা মানে মা গঙ্গাকে রাখা। কিন্তু পুণ্যের বদলে পাপ কামাচ্ছেন নাতো? বাস্তু ও জ্যোতিষ মতে, গঙ্গাজল কখনও প্লাস্টিক, স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রাখা যায় না। প্লাস্টিক হল রাহুর প্রতীক। রাহু ভ্রম, দুর্ভাগ্য, অর্থহানি ডেকে আনে।

গঙ্গাজল শুধু জল নয়, স্বয়ং দেবী

শাস্ত্রে বলা আছে, গঙ্গা স্বর্গ থেকে শিবের জটায়, তারপর মর্ত্যে এসেছেন। তাই গঙ্গাজলকে ‘ব্রহ্মদ্রব্য’ বলা হয়। এতে বিষ্ণুর চরণামৃত আর শিবের তেজ – দুই-ই আছে। এই কারণে গঙ্গাজল কখনও নষ্ট হয় না, পোকা লাগে না। কিন্তু ভুল পাত্রে রাখলে তার দৈবশক্তি নষ্ট হয়ে যায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

২. প্লাস্টিকের বোতলে রাখলে কী হয়? বাস্তু ও জ্যোতিষের ব্যাখ্যা

ক. প্লাস্টিক = রাহু + কেতু: জ্যোতিষে প্লাস্টিক, নকল জিনিস, বর্জ্য – এগুলো রাহু-কেতুর আন্ডারে। রাহু হল ধোঁয়া, ভ্রম, হঠাৎ বিপদ। কেতু হল বিচ্ছেদ, বাধা। পবিত্র গঙ্গাজলকে রাহুর জিনিসে রাখা মানে দেবীকে অপমান করা।

খ. নেগেটিভ এনার্জি তৈরি হয়: প্লাস্টিক তাপে, রোদে কেমিক্যাল ছাড়ে। আধ্যাত্মিক মতে, এটা গঙ্গাজলের ‘পজিটিভ ভাইব্রেশন’ নষ্ট করে ‘নেগেটিভ চার্জ’ তৈরি করে। সেই জল ঘরে ছেটালে উল্টে খারাপ ফল দেয়।

গ. অর্থকষ্ট ও রোগ: বাস্তু মতে, ঈশান কোণে দূষিত গঙ্গাজল রাখলে বৃহস্পতি দুর্বল হয়। বৃহস্পতি ধন, জ্ঞান, সন্তানের কারক। ফলে টাকা আটকে যায়, লোন বাড়ে, বাচ্চা কথা শোনে না, ঘরে বিনা কারণে অসুস্থতা লেগে থাকে।

ঘ. পিতৃদোষ বাড়ে: পিতৃপুরুষের কাজে গঙ্গাজল লাগে। অশুদ্ধ গঙ্গাজল ব্যবহার করলে পিতৃপুরুষ রুষ্ট হন। ফলে পিতৃদোষ, কাজে বাধা আসে।

৩. তাহলে কোথায় রাখবেন? শাস্ত্রমতে ৪টি শুদ্ধ পাত্র

১. তামা: সবচেয়ে ভালো। তামা সূর্য ও মঙ্গলের ধাতু। জীবাণু মারতে পারে। গঙ্গাজলের শক্তি হাজার গুণ বাড়ায়।

২. রুপো: চন্দ্রের ধাতু। মন শান্ত রাখে, ঘরে পজিটিভিটি আনে।

৩. পিতল: গুরু বৃহস্পতির ধাতু। অর্থ ও জ্ঞান বাড়ে।

৪. মাটি: মা পৃথিবীর অংশ। সবচেয়ে সাত্ত্বিক। তবে মাটির কলসি মাঝে মাঝে পাল্টাতে হবে।

স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, কাঁচ চলতে পারে, কিন্তু তামা/পিতলের মতো শুভ ফল দেয় না। প্লাস্টিক একেবারে নিষিদ্ধ।

৪. গঙ্গাজল রাখার ৭টা জরুরি নিয়ম

১. ঈশান কোণে রাখুন: ঘরের উত্তর-পূর্ব কোণ দেবতাদের স্থান। এখানে তামার পাত্রে গঙ্গাজল রাখলে ধন-সম্পদ বাড়ে।

২. ঢাকা দিয়ে রাখুন: খোলা রাখলে নেগেটিভ এনার্জি ঢোকে। রুপো বা পিতলের ঢাকনা দিন।

৩. মাটিতে রাখবেন না: চৌকি বা স্ট্যান্ডের উপর কাপড় পেতে রাখুন। মাটিতে রাখলে গৃহলক্ষ্মী রুষ্ট হন।

৪. বাথরুমের কাছে নয়: বাথরুম, ডাস্টবিনের পাশে রাখলে চরম বাস্তু দোষ হয়।

৫. এঁটো হাতে ছোঁবেন না: স্নান করে, পরিষ্কার কাপড়ে ছোঁবেন।

৬. বাসি গঙ্গাজল ফেলবেন না: নালায় ফেললে মহাপাপ। গাছের গোড়ায়, তুলসী তলায় দিন।

৭. শুকিয়ে গেলে কী করবেন: পাত্রে গঙ্গাজল শুকিয়ে গেলে ভয় পাবেন না। ওটা আরও পবিত্র। আবার নতুন জল ঢেলে দিন।

৫. ভুল করে প্লাস্টিকে রেখে ফেললে কী করবেন?

১. ক্ষমা চেয়ে নিন। ‘গঙ্গে চ যমুনে চৈব...’ মন্ত্র ৩ বার বলুন।

২. ওই জল বাসি ধরে গাছের গোড়ায় দিয়ে দিন।

৩. পাত্রটা ভালো করে ধুয়ে তামা/পিতলের পাত্রে নতুন গঙ্গাজল আনুন।

৪. ১১টা তুলসী পাতা দিয়ে শুদ্ধ করুন।

শেষ কথা:

ঠাকুর ঘরে দামি মূর্তি, কিন্তু গঙ্গাজল প্লাস্টিকের কোল্ড ড্রিংকসের বোতলে – এটা চলবে না। দেবতা ভাব দেখেন, উপকরণও দেখেন।

মনে রাখবেন, গঙ্গা মা। মাকে কি কেউ ডাস্টবিনের জিনিসে রাখে? আজই প্লাস্টিক সরান। তামার ছোট কলসি আনুন। দেখবেন, আটকে থাকা টাকা ছাড়ছে, ঘরে শান্তি ফিরছে।

কারণ পুণ্য করতে গিয়ে পাপ কামালে, দুর্ভাগ্য তো আসবেই।