ধনতেরাস মূলত অবাঙালি ব্যবসায়ীদের উৎসব হলেও, বাঙালির লক্ষ্মী পুজোর সঙ্গেও রয়েছে গভীর যোগ। প্রচলিত ধারণা অনুসারে, ধন শব্দের অর্থ সম্পত্তি আর তেরাস শব্দের অর্থ ত্রয়োদশী। কার্তিক মাসের ১৩ তম দিনে ধন সম্পদ কামনায় যে রীতি পালিত হয় তাই ধনতেরাস।
ধনতেরাস মূলত অবাঙালি ব্যবসায়ীদের উৎসব হলেও, বাঙালির লক্ষ্মী পুজোর সঙ্গেও রয়েছে গভীর যোগ। ধনদেবতা কুবের হোক বা লক্ষ্মী গণেশ- সকলের কদরই করে থাকেন বাঙালি থেকে অবাঙালি সকলে। প্রচলিত ধারণা অনুসারে, ধন শব্দের অর্থ সম্পত্তি আর তেরাস শব্দের অর্থ ত্রয়োদশী। কার্তিক মাসের ১৩ তম দিনে ধন সম্পদ কামনায় যে রীতি পালিত হয় তাই ধনতেরাস।
ধনতেরাস মানে সোনা-রূপার গয়নার, সম্পদের স্তুতি। ধনতেরাসে যারা আরাধনা করেন, সোনা-রূপা কেনেন বা ব্যবসা করেন, সম্পদের শ্রদ্ধা করেন তাদের সংসার থেকে অভাব দূর হয়। এছাড়াও এই দিন ধনকুবেরের পুজো করেন ব্যবসায়ীরা। কথিত আছে, সমুদ্রমন্থনে উঠেছিলেন ধনের দেবতা ধন্বন্তরী। তার এক হাতে ছিল অমৃত কলস। অপর হাতে ছিল আয়ুর্বেদের বই। এই দেবীকে মা লক্ষ্মীর সমতুল্য মনে করা হয়। সে কারণে এই দিনটিকে ধন্বন্তরী ত্রয়োদশীও বলে।
এছাড়াও আরও একটি কাহিনি প্রচলতি আছে ধনতেরাসকে ঘিরে। কথিত আছে বিয়ের চার দিনের মাথায় রাজা হিমুর ছেলে সাপের কামড়ে মৃত্যু লেখা ছিল তাঁর ভাগ্যে। এই বিষয় জানতেন যুবরাজের স্ত্রী। তিনি স্বামীকে বাঁচাতে বিশেষ কৌশল করেন। সেদিন রাতে সোনা রুপোর গয়না ও মুদ্রা দিয়ে যুবরাজের ঘর সাজিয়ে রেখেছিলেন। জ্বালিয়ে ছিলেন প্রদীপ। সেরাতে যমরাজ এলে তাঁর চোখ ধাঁধিয়ে যায়। পরে ঘরে ঢুকে যমরাজের স্ত্রীর গান ও গল্পে মুগ্ধ হয়ে রাত কাটিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত যুবরাজের প্রাণ না নিয়েই ফিরে যান যমরাজ। এভাবে প্রাণে বেঁচে যায় যমরাজ।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর, শুক্রবার ধনতেরাস পালিত হবে। এর মাধ্যমেই পাঁচ দিনব্যাপী দীপাবলি উৎসবের সূচনা হয়। কার্তিক কৃষ্ণ ত্রয়োদশীতে উদযাপিত এই উৎসবটি ভগবান ধন্বন্তরি, দেবী লক্ষ্মী এবং ভগবান কুবেরের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। ভক্তরা সুস্বাস্থ্য, সম্পদ ও সমৃদ্ধির কামনায় পূজা-অর্চনা করে।






