১০ দিন ধরে গণপতির মন্দির ও প্যান্ডেলগুলিতে ভক্তদের বিশাল ভিড়। অনন্ত চতুর্দশীর দিনে গণপতি উৎসব শেষ হয়। এদিন সিদ্ধিদাতাকে বিদায় জানানো হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে গণপতি বিসর্জন করা হবে।

৭ সেপ্টেম্বর থেকে গণেশ চতুর্থীর পবিত্র উত্সব শুরু হচ্ছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষে ভগবান গণেশের জন্ম হয়েছিল। গণেশ চতুর্থীর দিন সিদ্ধিদাতার পূজা করলে ঘরে সুখ, সমৃদ্ধি এবং সৌভাগ্য আসে। মহারাষ্ট্রে গণপতি উৎসবের আসল আনন্দ দেখা যায়। পুরো ১০ দিন ধরে গণপতির মন্দির ও প্যান্ডেলগুলিতে ভক্তদের বিশাল ভিড়। অনন্ত চতুর্দশীর দিনে গণপতি উৎসব শেষ হয়। এদিন সিদ্ধিদাতাকে বিদায় জানানো হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে গণপতি বিসর্জন করা হবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গণেশ চতুর্থীর দিন চাঁদের দর্শন নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয় কেন! কথিত আছে যে এই দিনে যে ব্যক্তি চাঁদ দেখে, তার জীবন দুর্দশায় ঘেরা থাকে। শুধু তাই নয়, অনেক দোষও পড়ে তার ওপর। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক কেন গণেশ চতুর্থীর দিন চাঁদ দেখা অশুভ লক্ষণ হিসেবে মনে করা হয় এবং ভুল করে চাঁদ দেখা গেলে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গণেশ চতুর্থীতে চাঁদ দেখা যায় না কেন?

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে গণেশ চতুর্থীর দিন চাঁদ দেখা মিথ্যা অভিযোগ বা মিথ্যা কলঙ্কের দিকে নিয়ে যায়, যার কারণে ব্যক্তিকে চুরির মিথ্যা অভিযোগ বহন করতে হয়। যখন একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়, তখন তাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, সে অযাচিত দোষারোপও হতে পারে। শুধু তাই নয়, এই দিনে যে ব্যক্তি চাঁদ দেখেন তিনিও অনেক মিথ্যা অভিযোগে ফেঁসে যান। গণেশ চতুর্থীর দিন, চাঁদ দেখার নিষিদ্ধ সময় সকাল সাড়ে ন টা থেকে রাত ৮.৪৫ মিনিট পর্যন্ত থাকবে।

চাঁদ অভিশপ্ত ছিল-

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, একবার ভগবান গণেশ ইঁদুরে চড়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। এই সময় গণপতি তার ভারী ওজনের কারণে থমকে গেলেন। এই দেখে চন্দ্রদেব জোরে হাসতে লাগলেন। চাঁদকে হাসতে দেখে গণেশ ক্রুদ্ধ হয়ে চন্দ্র দেবতাকে অভিশাপ দেন। তিনি চাঁদের জ্যোতি ক্ষয় হওরার অভিশাপ দিয়েছেন এবং কেউ যদি এই দিনে আপনাকে দেখে তবে সে অপমানিত হবে। এই অভিশাপের কারণে গণেশ চতুর্থীর রাতে চাঁদ দেখা নিষিদ্ধ। যে এই দিনে চাঁদ দেখলে সেই ব্যক্তিকে অবমাননা, মিথ্যা অভিযোগ ও অপমানের সম্মুখীন হতে হয়।

অন্যান্য পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিরুদ্ধে শ্যামন্তক নামক একটি মূল্যবান রত্ন চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। তখন নারদ ঋষি তাদের বললেন যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভাদ্র শুক্ল চতুর্থীর দিন চাঁদ দেখেছিলেন যার কারণে তিনি মিথ্যা অভিযোগে অভিশাপ পেয়েছিলেন।

নারদ ঋষি ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে আরও বলেছিলেন যে ভগবান গণেশ চন্দ্রদেবকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে যে ব্যক্তি ভাদ্র শুক্ল চতুর্থীর সময় চন্দ্রকে দেখবে সে মিথ্যা অভিযোগে অভিশপ্ত হবে এবং সমাজে চুরির মিথ্যা অভিযোগে কলঙ্কিত হবে। ঋষি নারদের পরামর্শে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মিথ্যা দোষ থেকে মুক্তির জন্য গণেশ চতুর্থীর উপবাস পালন করেন এবং মিথ্যা দোষ থেকে মুক্ত হন।

গণেশ চতুর্থীর দিন ভুলবশত চাঁদ দেখা গেলে কী করবেন?

আপনি যদি ভুলবশত গণেশ চতুর্থীর দিনে চাঁদ দেখে থাকেন তবে মিথ্যা দোষ নিবারণ মন্ত্রটি জপ করুন। মন্ত্রটি নিম্নরূপ - সিংহ প্রসেনমবধিসিংহো জাম্ববতা হতাঃ। সুকুমারক মরোদিস্ত্বা হ্যেশ শ্যামন্তকঃ ॥