- Home
- Religion
- Kojagari Lakshmi Puja 2026: কোজাগরী পূর্ণিমায় এইভাবে করুন দেবী লক্ষ্মীর পূজা! শুভ সময় ও মন্ত্র জেনে নিন
Kojagari Lakshmi Puja 2026: কোজাগরী পূর্ণিমায় এইভাবে করুন দেবী লক্ষ্মীর পূজা! শুভ সময় ও মন্ত্র জেনে নিন
Kojagari Lakshmi Puja 2026: ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পালিত হবে পবিত্র কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা বা শারদ পূর্ণিমা। এই বিশেষ রাতে সঠিক নিয়ম, উপকরণ ও মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করলে জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি লাভ হয়।

কোজাগরী পূর্ণিমা
Kojagari Lakshmi Puja 2026: শারদ পূর্ণিমা উৎসব, যা কোজাগরী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত, সনাতন ধর্মে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এই বছর, শারদ পূর্ণিমা, যা কোজাগরী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত, ২৫ অক্টোবর, রবিবার পালিত হবে। এই পবিত্র উৎসবের জন্য দেবী লক্ষ্মীর পূজার তারিখ, সঠিক সময় এবং সম্পূর্ণ তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুখ, শান্তি এবং সম্পদ লাভ
সুখ, শান্তি এবং সম্পদ লাভের জন্য এই রাতটিকে খুব বিশেষ বলে মনে করা হয়। উপবাস পালনকারী সকল ভক্তদের সঠিক পদ্ধতিতে দেবীর পূজা করা উচিত। ধর্মীয় এবং জ্যোতিষশাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিশেষ রাতটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বিস্তারিতভাবে জেনে নিই এই পবিত্র উৎসবে কীভাবে দেবী লক্ষ্মীর পূজা করতে হয় এবং এর জন্য কী কী সামগ্রীর প্রয়োজন।
কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার শুভ সময়
পূর্ণিমা তিথি শুরু: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সকাল ১১:৫৫ মিনিটে
পূর্ণিমা তিথি শেষ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সকাল ৯:৪১ মিনিটে
চন্দ্রোদয়ের সময়: প্রায় বিকেল ৫:০০টায়
কোজাগর/নিশিত কাল পূজা: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, রাত ১২:৩১ মিনিটে
শুভ যোগ: এই দিনে হর্ষন যোগ এবং রেবতী নক্ষত্রের মিলন ঘটবে।
শারদ পূর্ণিমা লক্ষ্মী পূজার উপকরণের তালিকা
আসন ও স্থাপন: দেবী লক্ষ্মীর পূজার জন্য লাল বা হলুদ বস্ত্র, একটি পরিষ্কার বেদি এবং দেবী লক্ষ্মী ও ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি বা ছবি।
পুরাণ উপকরণ: পান, সুপারি, ধানের ছড়া, লবঙ্গ, এলাচ এবং খাঁটি দেশি ঘিয়ের প্রদীপ। ফুল ও সরঞ্জাম: পদ্মফুল বা যেকোনও তাজা লাল বা হলুদ ফুল, শঙ্খ, ঘণ্টা এবং তামা বা পিতলের পাত্র।
ভোগ ও প্রসাদ: দেবীকে প্রসন্ন করার জন্য পদ্মবীজ, ক্ষীর এবং বাতাসা বা মিষ্টি।
সময় বাঁচানো: এই জিনিসগুলি আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখলে পূজা নির্বিঘ্নে এবং কোনও বাধা ছাড়াই সম্পন্ন করা যায়।
শারদ পূর্ণিমায় দেবী লক্ষ্মীর পূজার পদ্ধতি
সংকল্প ও স্নান: শারদ পূর্ণিমার দিনে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করে উপবাস ও পূজার ব্রত গ্রহণ করা হয়।
বেদী স্থাপন: সন্ধ্যায় মন্দিরে বা বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে একটি পরিষ্কার বেদী স্থাপন করা হয় এবং লাল বা হলুদ কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
প্রতিমা স্থাপন
প্রতিমা স্থাপন: এরপর বেদীর উপর দেবী লক্ষ্মী এবং ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি বা ছবি সশ্রদ্ধভাবে স্থাপন করা হয়।
পূজা ও নিবেদন: দেবীকে ধান, শষ্য দানা, ফুল এবং বস্ত্র নিবেদন করে বিভিন্ন আচারের মাধ্যমে পূজা করা হয় এবং ধূপ ও প্রদীপ জ্বালানো হয়।
ক্ষীর অনুষ্ঠান: এই রাতে ক্ষীর তৈরি করে চন্দ্রালোকে রাখা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আচার বলে মনে করা হয়, যা পরে ভোগ হিসাবে নিবেদন করা হয়।
রাত্রিযাপন ও মন্ত্রোচ্চারণ: যে ভক্তরা সারারাত জেগে দেবী লক্ষ্মীর মন্ত্র জপ করেন, তাঁরা সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্তি পান এবং তাঁদের গৃহে শান্তি বিরাজ করে।
শারদ পূর্ণিমায় কোন মন্ত্র জপ করা উচিত?
শারদ পূর্ণিমার এই পবিত্র রাতে মন্ত্র জপ করাকে দেবী লক্ষ্মী এবং চন্দ্রের আশীর্বাদ লাভের সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করা হয়। এই রাতে একাগ্রচিত্তে দেবী লক্ষ্মীর বিশেষ মন্ত্র, "ওম শ্রী মহালক্ষ্ম্যৈ নমঃ," বা চন্দ্রের বীজ মন্ত্র, জীবনের সমস্ত কষ্ট লাঘব করতে সাহায্য করে। যে ভক্তরা পূর্ণ ভক্তি ও বিশ্বাসের সাথে এই মন্ত্রগুলি জপ করেন, তাঁদের গৃহে ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির কখনও অভাব হয় না এবং সুখ ও শান্তি সর্বদা বিরাজ করে। এই শক্তিশালী মন্ত্রগুলির প্রভাবে মনে অপার শান্তি আসে এবং দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ সরাসরি পরিবারের উপর বর্ষিত হতে শুরু করে। এইভাবে, সঠিক সময়ে মন্ত্র জপ করলে ব্যক্তির জীবনের সমস্ত বাধা চিরতরে দূর হয়ে যায়।

