Naihati Boro maa: কালীপুজো উপলক্ষে ৬ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকছে নৈহাটির বড়মার মন্দির। ৮ নভেম্বর রাত ১২টায় শুরু পুজো, রাত দেড়টায় পুষ্পাঞ্জলি। জেনে নিন দণ্ডি কাটা, ভোগ প্রসাদ বিতরণ, অনলাইনে পুজো দেওয়ার সময় ও নিরঞ্জনের সূচি।

নৈহাটির বড়মার পুজো ঘিরে এখন সাজো সাজো রব। মন্দিরে সারা বছর নিত্যপুজো হয়, তবে কালীপুজোর সময় প্রতি বছর অরবিন্দ রোডে মূর্তি গড়ে আলাদা করে পুজো হয়। ২০২৬-এ এই পুজো ১০৩তম বছরে পা দিচ্ছে। এ বছর ৮ নভেম্বর, রবিবার কালীপুজো। দীপান্বিতা কালীপুজোর সময় প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত বড়মার মন্দিরে আসেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেকেই গঙ্গায় স্নান সেরে দণ্ডি কাটেন। চোর বাগানের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নৈহাটির বড়মার মন্দির কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন। কালীপুজোয় লক্ষ লক্ষ ভক্তের ভিড় সামাল দিতে ও দুর্ঘটনা এড়াতে এবার ৬ নভেম্বর থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত ভক্তদের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে নৈহাটির বড় মায়ের মন্দিরের দরজা। বড়মার পুজো নিরাপদ করতে ব্যারাকপুর পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও টহল দেবে।

বড়মার পুজোয়ে এবার বাড়তি সতর্কতা

এ বছর ভিড় নিয়ে বাড়তি সতর্ক প্রশাসন। সপ্তমীর সন্ধেয় চোরবাগানের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই কারণেই বড়মার পুজোয় ভিড় যাতে কোনওভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তার জন্য আগেভাগেই একাধিক ব্যবস্থা নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। সোমবার নৈহাটির বড়মার মন্দির চত্বর পরিদর্শন করেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া। সঙ্গে ছিলেন পুজো কমিটির সদস্য, মহকুমা শাসক, ইও এবং পুলিশ আধিকারিকরা। মন্দির চত্বর ঘুরে দেখে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একাধিক নির্দেশ দেন তিনি।

বড়মা দর্শনে বিশেষ সতর্কতা

জেলাশাসক জানিয়েছেন, মন্দিরে ঢোকার জন্য একটি এবং বেরনোর জন্য আলাদা একটি পথ নির্দিষ্ট করা হচ্ছে। সরু রাস্তায় যাতে দু’দিক থেকে আসা ভক্তদের ভিড় মুখোমুখি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এ বছর কোনও ভিআইপি এন্ট্রি থাকছে না, অর্থাৎ বিশেষ অতিথিদের জন্য আলাদা যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হবে না। পুজোর দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। স্নান সেরে যাঁরা মন্দিরে পুজো দিতে আসবেন, তাঁদের যাতায়াতের দিকেও নজর রাখবে প্রশাসন। যে কোনও বিপর্যয় মোকাবিলায় এনডিআরএফ মোতায়েনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

নৈহাটির বড়মার পুজোর নির্ঘণ্ট

পুজোর নির্ঘণ্টও প্রকাশ করা হয়েছে। ২ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত দান ও মানসিক পুজো গ্রহণ করা হবে। ৬ থেকে ৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে সব ধরনের পুজো গ্রহণ। ৭ ও ৮ নভেম্বর গয়না দিয়ে সাজানো হবে বড়মাকে। ওই দু’দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দণ্ডি কাটা এবং ফল ও মিষ্টির ডালি গ্রহণ চলবে। ৮ নভেম্বর, রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে হবে মায়ের বরণ। রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ঘট প্রতিষ্ঠা হবে। রাত ১২টা থেকে শুরু হবে দেবীর পুজো। রাত দেড়টা নাগাদ হবে পুষ্পাঞ্জলি, ভক্তদের অঞ্জলির জন্য নিজেদের সঙ্গে ফুল ও বেলপাতা নিয়ে যেতে হবে।

ভোগ ও প্রসাদ বিতরণের সময়

অঞ্জলি পর্ব শেষ হলে শুরু হবে ভোগ প্রসাদ বিতরণ। মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রের খবর রাত আড়াইটে থেকে শুরু হতে পারে প্রসাদ বিতরণ। যা চলবে পরের দিন, ৯ নভেম্বর, সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত। সুষমা অ্যাপার্টমেন্ট, জগবন্ধু মোড় সংলগ্ন পুকুর পাড় (নৈহাটি পৌরসভা) এবং নৈহাটি রেলওয়ে অডিটরিয়াম হল থেকে ভোগ প্রসাদ দেওয়া হবে। এ ছাড়া সন্দেশ প্রসাদও বিতরণ করা হবে, তার জন্য আগে থেকে কুপন সংগ্রহ করতে হবে। যাঁরা সশরীরে আসতে পারবেন না, তাঁরা অনলাইনেও পুজো দিতে পারবেন। এর জন্য নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ৭ নভেম্বর, শনিবার রাত ১০টার মধ্যে নিজের নাম ও গোত্র লিখে পাঠাতে হবে।

বড়মার নিরঞ্জনের সময়

কালীপুজোর পর ১২ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার হবে বড়মার নিরঞ্জন পুজো ও দধিকর্মা। সেদিন বেলা ২টোয় বরণ এবং বিকেল ৪টেয় নিরঞ্জন শোভাযাত্রা শুরু হবে। পুজো উপলক্ষে ৬ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত, অর্থাৎ ৯ দিন, বড়মার স্থায়ী মন্দির সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর এই বাড়তি সতর্কতা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর ভক্ত ও দর্শনার্থীদের।