Mahashivratri Broto Katha: হিন্দু ধর্মে শিবের পুজোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, ভগবান শিব একজন অত্যন্ত দয়ালু এবং করুণাময় ঈশ্বর। তিনি শুধু গঙ্গাজলেই সন্তুষ্ট হন। হিন্দু শাস্ত্রে মহাশিবরাত্রির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
MahaShivratri Story In Bengali: হিন্দু ধর্মে শিবের পুজোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, ভগবান শিব একজন অত্যন্ত দয়ালু এবং করুণাময় ঈশ্বর। তিনি শুধু গঙ্গাজলেই সন্তুষ্ট হন। হিন্দু শাস্ত্রে মহাশিবরাত্রির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ফাল্গুন মাসের মহা শিবরাত্রির কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীর দিনে মহাশিবরাত্রি পালিত হয়। এই দিনে আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ভগবান শিবের পূজা করলে কাঙ্খিত ইচ্ছা পূরণ হয়। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, এই দিনে উপবাস সৌভাগ্য নিয়ে আসে।
এছাড়াও, এটি বিশ্বাস করা হয় যে এই দিনে ভগবান শিবের আরাধনা করলে, একজন ব্যক্তি জীবনের সমস্ত ঝামেলা থেকে মুক্তি পান। আসুন জেনে নিই মহাশিবরাত্রির তিথি, শুভ সময় এবং পূজা পদ্ধতি সম্পর্কে।
মহাশিবরাত্রি ২০২৬ তিথি
হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালে, মহাশিবরাত্রি তিথি ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকেল ৪ টে বেজে ৪৮ মিনিট থেকে শুরু হবে এবং চতুর্দশী তিথি ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকাল ৫টা ৩২ মিনিটে শেষ হবে।
মহাশিবরাত্রি পূজার জন্য শুভ সময়-
মহাশিবরাত্রি ২০২৬ শুভ মুহুর্ত:
১) মহাশিবরাত্রির প্রথম প্রহরের পূজা- ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬ টা বেজে ১ মিনিট থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত। এই প্রহরে দুধ দিয়ে অভিষেক করতে হয়।
২) দ্বিতীয় প্রহরের পূজা হবে১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৯ টা বেজে ২৭ মিনিট থেকে মধ্যরাত ১২ টা বেজে ৭ মিনিট পর্যন্ত। এই প্রহরে দই দিয়ে অভিষেক করতে হয়।
৩) তৃতীয় প্রহরের পূজা - ১৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২ টা বেজে ৩৩ মিনিট থেকে ভোর ৩ টে বেজে ২৫ মিনিট পর্যন্ত। এই প্রহরে ঘি দিয়ে অভিষেক করতে হয়।
৪) চতুর্থ প্রহরের পূজা - ১৬ ফেব্রুয়ারি ভোর-রাত ৩ টে বেজে ২৫ মিনিট থেকে সকাল ৫ টা বেজে ৩৪ মিনিট পর্যন্ত। এই প্রহরে মধু দিয়ে অভিষেক করতে হয়।
মহাশিবরাত্রি ২০২৬ পূজা বিধান-
মহাশিবরাত্রি ২০২৬, যা ফাল্গুন মাসে পড়ে, এটিকে বছরের সবচেয়ে বড় শিবরাত্রি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই দিন ব্রাহ্ম মুহুর্তে স্নান করার পর বাড়ির পূজার স্থানে গঙ্গাজল ভর্তি ঘট শিবের লিঙ্গে ঢালুন। এর পরে, সাধ্যমত তিনটে গোটা ফল, একটা ধূতরা ফুল, নীলকন্ঠ ও আকন্দ ফুলের মালা দিয়ে তার অভিষেক করুন। প্রসাদ হিসেবে বাতাসা বা নকুলদানা অবশ্যই রাখবেন। ১০৮ বার 'ওম নমঃ শিবায়'-মন্ত্র জপ করুন। পুজো শেষ ব্রতকথা শুনুন।

মহাশিবরাত্রির ব্রতকথা-
"একদা সর্বগুণযুক্ত বারাণসী পুরীতে ভয়ঙ্কর এক ব্যাধ বাস করত। একদিন সে বনে গিয়ে অনেক পশু হত্যা করল। তারপর নিহিত পশুদের মাংসভার নিয়ে নিজের বাড়ির দিকে রওনা হল। পথে শ্রান্ত হয়ে সে বনের মধ্যে বিশ্রামের জন্য একটি বৃক্ষমূলে শয়ন করলে এবং একটু পরেই নিদ্রিত হল। সূর্য অস্ত গেল। ব্যাধ জেগে উঠল। ঘোর অন্ধকারে কোন কিছুই দৃষ্টিগোচর হল না। অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে সে একটি বিল্ববৃক্ষ পেল। সেই বিল্ববৃক্ষে সে লতা দিয়ে তার মাংসভার বেঁধে রাখল। বৃক্ষতলে হিংস্র জন্তুর ভয় আছে। এই ভেবে সে নিজেও ঐ বিল্ববৃক্ষে উঠে পড়ল। শীতে ও ক্ষুধায় তার শরীর কাপঁতে লাগল। এভাবে সে শিশিরে ভিজে হয়েই জেগে কাটাল সারা রাত।
সেই বিল্ববৃক্ষমূলে ছিল একটি শিবলিঙ্গ। তিথিটি ছিল শিবচতুর্দশী। আর ব্যাধও সেই রাত্রি কাটিয়েছিল উপবাসে। সেই মুহূর্তে একটি বিল্বপত্র পড়েছিল শিবলিঙ্গের ওপর। এভাবে উপবাসে বিল্বপত্র প্রদানে অজান্তেই ব্যাধ শিবরাত্রিব্রত পালন করে মহাপূণ্যে লাভ করে ফেলল। পরদিন প্রভাতে ব্যাধ নিজের বাড়িতে চলে গেল। দুপুরে খাওয়ার খেতে বসার সময়েই বাড়িতে এক ভিখারি উপস্থিত হওয়ায় ব্যাধ তার নিজের খাদ্য সেই দুঃস্থ ব্যাক্তিকে দান করে শিবের ব্রত সম্পূর্ণ করে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হল। কালক্রমে ব্যাধের আয়ু শেষ হল। যমদূত তার আত্মাকে নিতে এল। অন্যদিকে শিবলোকের প্রেরিত দূত ব্যধকে শিবলোকে নিয়ে এল। নন্দীকে দেখে যম তাকে সব ঘটনা বললেন।
- এই ব্যাধ সারা জীবন ধরে কুকর্ম করেছে। তার কথা শুনে নন্দী বললেন,
- ধর্মরাজ, এতে কোন সন্দেহই নেই যে ঐ ব্যাধ দুরাত্মা। সে সারা জীবন অবশ্যই পাপ করেছে। কিন্তু শিবরাত্রি ব্রতের মাহাত্মে সে পাপমুক্ত হয়েছে এবং সর্বেশ্বর শিবের কৃপা লাভ করে শিবলোকে যাবে।
নন্দীর মুখে এই কথা শুনে বিস্মিত হলেন ধর্মরাজ। তিনি শিবের মাহাত্মোর কথা ভাবতে ভাবতে যমপুরীতে চলে গেল।
-এই হল শিবরাত্রি ব্রতের মাহাত্ম"
যে কোনও পঞ্জিকাতেও এই ব্রতকথা পেয়ে যাবেন।


