দেবতাদের পছন্দমতো ফুল নিবেদন করলে শুধু পূজার পূর্ণতা আসে না, বরং তা আমাদের জীবনে সফলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধির দরজা খুলে দেয়। শাস্ত্রের এই সহজ নিয়মগুলি মেনে চললে পরিবারে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ ঘটে

মা ঠাকুমারা এখনও পূজা করার সময় যে ভগবান যে ফুল পাতায় সন্তুষ্ট তাকে সেই ফুল-পাতাই নিবেদন করেন। ভারতে ফুল শুধু পূজার অনুষঙ্গ নয়, বরং দেবতার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক। ধর্মীয় শাস্ত্রে বলা হয়েছে, প্রত্যেক দেবতার নিজস্ব পছন্দের ফুল রয়েছে। সেই অনুযায়ী ফুল নিবেদন করলে দেবতা সন্তুষ্ট হন এবং ঘরে শান্তি, সমৃদ্ধি ও শ্রীবৃদ্ধির আশীর্বাদ বর্ষিত হয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নিচে দেব-দেবীদের পছন্দ অনুযায়ী ফুল নিবেদনের নিয়ম তুলে ধরা হল, যা অনুসরণ করলে পারিবারিক সুখ ও উন্নতির পথ সুগম হয়।

১। শিবঠাকুর

ঠাকুরঘরে একটি শিবলিঙ্গ কিংবা শিবের ছবি থাকেই। দেবাদিদেবের সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন ধুতুরা ফুল এবং বেল পাতা। তাই শিবঠাকুরকে সন্তুষ্ট রাখতে ধুতুরা ফুল অর্পণ করাই শ্রেয়। তবে অপরাজিতা ফুলও দিতে পারেন।

২। কালীঠাকুর

শক্তির প্রতীক কালীঠাকুর। তাঁর পূজার্চনায় লাল জবার কোনও বিকল্প নেই। তাই কালীঠাকুরকে তুষ্ট করতে অবশ্যই তাঁর পায়ে লাল জবা অর্পণ করুন। সাদা ফুল তাঁকে ভুলেও দেবেন না।

৩। গণেশ পুজো

সংসারে শ্রী ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং জীবনের বাধাবিঘ্ন কাটিয়ে এগিয়ে চলার জন্য গণেশ পুজো করেন অনেকে। অবশ্যই গণেশ ঠাকুরকে হলুদ গাঁদাফুল অর্পণ করুন। উজ্জ্বল এই ফুলটি দেবতার পায়ে অর্পণ করার সময় মনে মনে বলুন 'ওম গণ গণপতয়ে নমঃ'। তাতে আপনার উন্নতি কেউ রুখতে পারবেন না।

৪। ভগবান বিষ্ণু

দিওয়ালির সময় বহু হিন্দু বাড়িতে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করেন। শান্তির প্রতীক বিষ্ণু পদ্মফুল পছন্দ করেন। তাই ফুল কেনার সময় বাজার থেকে গোলাপি পদ্ম কিনতে ভুলবেন না।

৫। হনুমান পুজো

সাহস, শক্তি, একাগ্রতা বৃদ্ধিতে অনেকে হনুমান পুজো করেন। কমলা সিঁদুর এবং জুঁই ফুল হনুমানজির প্রিয়। তাই তাঁকে সন্তুষ্ট করতে অবশ্যই জুঁই ফুলের মতো সাদা সুগন্ধী ফুল অর্পণ করুন।