Ujjain Kaal Bhairav Temple: যে মন্দিরে দেবতাকে মদ নিবেদন করা হয়, আজও রহস্য!
Ujjain Kaal Bhairav Temple: আমরা সাধারণত মন্দিরে গেলে দেবতাকে ফল বা নারকেল নিবেদন করি। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর কালভৈরব মন্দিরে গেলে অন্য ছবি দেখবেন। সেখানে ভক্তরা দেবতাকে ভোগ হিসেবে মদের বোতল নিবেদন করেন।

উজ্জয়িনীর কালভৈরব মন্দির
Ujjain Kaal Bhairav Temple: মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহর অনেক বিখ্যাত তীর্থস্থানের ঠিকানা। শিপ্রা নদীর তীরে অবস্থিত কালভৈরব মন্দির এখানকার অন্যতম প্রধান মন্দির। ভক্তরা কালভৈরবকে শিবের উগ্র রূপ হিসেবে পুজো করেন। মন্দিরটি ঠিক কবে তৈরি হয়েছিল, তার সঠিক ইতিহাস জানা না গেলেও এটি যে অত্যন্ত প্রাচীন, তা স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন। স্কন্দ পুরাণ সহ বেশ কিছু প্রাচীন গ্রন্থে এই তীর্থস্থানের উল্লেখ রয়েছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা উজ্জয়িনীতে কালভৈরব দর্শনে আসেন। বিশেষ করে মনস্কামনা পূরণের পর অনেকেই এখানে ছুটে আসেন। এই মন্দিরের সঙ্গে তান্ত্রিক ঐতিহ্যের গভীর যোগ রয়েছে বলে মনে করা হয়।

কেন মদ নিবেদন করা হয়?
কালভৈরব মন্দিরে মদ নিবেদনের পিছনে তান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রভাব রয়েছে। পঞ্চকার আচারের একটি অংশ হিসেবে মদকে ধরা হয়। এই ঐতিহ্যে মদের পাশাপাশি মাংস, মাছ, মুদ্রা এবং মৈথুনের কথা বলা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ পুজোর নিয়মে এই আচারগুলো হারিয়ে গেলেও উজ্জয়িনীর কালভৈরব মন্দিরে মদ নিবেদনের প্রথা আজও টিকে আছে।
মন্দির চত্বরে বিশেষ মদের দোকানও রয়েছে
ভক্তরা মন্দিরের বাইরের দোকান থেকে মদের বোতল কেনেন এবং ফুল, ফল ও নারকেলের সঙ্গে তা দেবতাকে নিবেদন করেন। ভক্তদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে মন্দির চত্বরে বিশেষ মদের দোকানও রয়েছে। ২০১৫ সালে সরকার নিজেই এখানে একটি মদের দোকান খোলে, যাতে ভক্তদের বেশি দাম দিতে না হয়।
মূর্তি কি সত্যিই মদ খায়?
এই মন্দিরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো দেবতাকে মদ নিবেদনের পদ্ধতি। ভক্তরা মদের বোতল আনলে পুরোহিত তা গ্রহণ করে প্রথা মেনে পুজো করেন। এরপর একটি বিশেষ পাত্রে কিছুটা মদ ঢেলে কালভৈরবের মূর্তির ঠোঁটের কাছে ধরা হয়। পাত্রের মদ ধীরে ধীরে কমে যেতে দেখে ভক্তরা অবাক হয়ে যান। এই মদ কোথায় যায়, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পুরোহিতরাও দিতে পারেন না।
কালভৈরবের মহিমা
ভক্তরা একে কালভৈরবের মহিমা বলেই বিশ্বাস করেন। পুজো শেষে বোতলের বাকি মদ ভক্তদের প্রসাদ হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কেউ একে আধ্যাত্মিক অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করেন, আবার কেউ এর পিছনে বৈজ্ঞানিক কারণ খোঁজেন।
কালভৈরবের পুজোর জন্য বিশেষ দিন
দেবতাকে মদ নিবেদনের এই অদ্ভুত প্রথার কারণে মন্দিরটি আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিদিন প্রচুর ভক্ত মদের বোতল নিয়ে এসে ভোগ হিসেবে নিবেদন করেন। কিছু রিপোর্টে বলা হয়, এখানে দিনে প্রায় ২,০০০ বোতল মদ নিবেদন করা হয়। তবে এর কোনো সরকারি হিসাব নেই।
রবিবার ও মঙ্গলবার কালভৈরবের পুজোর জন্য বিশেষ দিন হিসেবে ধরা হয়। তাই এই দু'দিন মন্দিরে ভক্তদের ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে। ভক্তদের বিশ্বাস, কালভৈরবের পুজো করলে সব ভয় ও কষ্ট দূর হয় এবং নেতিবাচক শক্তির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। স্থানীয়দের মতে, একসময় তান্ত্রিক সাধকরা বিশেষ করে এই মন্দিরে আসতেন।
শিবের অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ
হিন্দু পুরাণে কালভৈরবের বিশেষ স্থান রয়েছে। তাঁকে শিবের অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ হিসেবে ধরা হয়। কালভৈরবের জন্ম নিয়ে বিভিন্ন পুরাণে নানা কাহিনি রয়েছে। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শিবের থেকে নির্গত শক্তি দুটি রূপে প্রকাশ পেয়েছিল। এর মধ্যে একটি কালভৈরব এবং অন্যটি বটুক ভৈরব নামে পরিচিত। বটুক ভৈরবকে শিশু রূপ এবং কালভৈরবকে যুব রূপ হিসেবে পুজো করা হয়।
উজ্জয়িনীর কালভৈরব মন্দিরের বিশেষত্ব
উজ্জয়িনীর কালভৈরব মন্দিরের বিশেষত্ব শুধু প্রাচীন বিশ্বাসেই আটকে নেই, মদ নিবেদনের প্রথা একে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। দেবতার মূর্তি মদ গ্রহণ করে, এই বিশ্বাস আজও ভক্তদের মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। আধ্যাত্মিক বিশ্বাস, তান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের মিশেলে এই মন্দির উজ্জয়িনী ভ্রমণের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

