শ্রাবণ মাসের সোমবার ব্রতের মধ্যে পিরিয়ডস হলে শাস্ত্র মতে মূর্তি স্পর্শ ও মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ। তবে উপবাস ও মনে মনে জপ চালিয়ে যাওয়া যায়। মনের ভক্তিই আসল, বাহ্যিক আচার নয়।
শ্রাবণ মাস মানেই ভোলেনাথের মাস। এই মাসের প্রতিটা সোমবার উপবাস করে অনেকে শিবের পুজো করেন। কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম তো আর আটকানো যায় না। ব্রত চলাকালীন পিরিয়ডস হয়ে গেলে কী করণীয়?
*ধর্মীয় বিশ্বাস ও শাস্ত্র কী বলছে?*
সনাতন ধর্মে পিরিয়ডসের ৩-৪ দিনকে "রজঃস্বলা" সময় বলা হয়। শাস্ত্র মতে এই সময় শরীর বিশুদ্ধিকরণের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যায়। তাই এই কদিন মন্দিরে প্রবেশ, দেব-দেবীর মূর্তি স্পর্শ, পুজোর সামগ্রী ছোঁয়া নিষেধ করা হয়েছে। এর কারণ অশ্রদ্ধা না, বরং শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া আর পবিত্রতা বজায় রাখা।
*তাহলে ব্রতের কী হবে? করণীয় কী?*
*১. উপবাস নিয়ে টেনশন নয়*
আপনি যদি সংকল্প করে থাকেন তাহলে উপবাস রাখতে পারেন। তবে শরীর খুব দুর্বল লাগলে জোর করার দরকার নেই। ফল, দুধ, জল খেয়ে ব্রত পালন করা যায়। শিব নিজেই বলেছেন - "দেহকে কষ্ট দিয়ে করা পুজো আমি গ্রহণ করি না।"
*২. মন্দির ও মূর্তি স্পর্শ করবেন না*
এই কদিন বাড়ির মন্দিরেও শিবলিঙ্গে জল বা বেলপাতা দেবেন না। বাড়ির অন্য কেউ থাকলে তাকে দিয়ে পুজো করাবেন। নিজে দূর থেকে প্রণাম করতে পারেন।
*৩. মানসিক পুজোই আসল পুজো*
এই সময়ের সবচেয়ে বড় কাজ হল মনে ভগবানের নাম জপ করা। "ওঁ নমঃ শিবায়" জপ করুন, শিবস্তোত্র পাঠ করুন, শিবের কথা ভাবুন। শাস্ত্র বলে - "ভাবগ্রাহী জনার্দন"। ভগবান আপনার মনের ভক্তিটাই দেখেন।
*৪. ব্রতের সংখ্যা কীভাবে ধরবেন?*
এখানে দুভাবে করা যেতে পারে।
- *প্রথম মত:* পিরিয়ডসের দিনগুলো বাদ যাবে। সুস্থ হওয়ার পরের সোমবার থেকে আবার গুনতে হবে। অর্থাৎ মোট ৪টে সোমবার পালন করতে হবে।
- *দ্বিতীয় মত:* আপনি মানসিকভাবে ব্রত ভাঙেননি, তাই যে কটা সোমবার পেলেন সেটাই পূর্ণ।
কোনটা মানবেন সেটা নিজের বাড়ির বড়দের বা গুরুজনের সাথে আলোচনা করে নেওয়াই ভালো।
*সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা* :
পিরিয়ডস কোনো অপবিত্রতা বা পাপ নয়। এটা মা প্রকৃতির দেওয়া নিয়ম। দেবী কামাখ্যার মন্দিরেও অম্বুবাচীর সময় মায়ের রজঃস্বলা হওয়াকেই পুজো করা হয়। তাই নিজেকে অপরাধী ভাববেন না।
এই কদিন বিশ্রাম নিন, ভালো খাওয়া-দাওয়া করুন, আর মনে মনে শিবের সাথে কথা বলুন।
তবে ব্রত মানে শুধু না খেয়ে থাকা না। ব্রত মানে সংযম, ভক্তি আর আত্মশুদ্ধি। শরীরের কারণে যদি বাহ্যিক পুজো বন্ধও থাকে, মনের পুজো কিন্তু কখনো বন্ধ হয় না।


