মন্দিরে গেলেই আমরা অভ্যাসের বসে ঘন্টা বাজিয়ে দিই। কিন্তু জানেন কি শাস্ত্রে ঘন্টা বাজানোরও নিষিদ্ধ সময় আছে? ভুল সময়ে ঘন্টা বাজালে দেবতার ঘুম ভাঙে বা পুজোয় বিঘ্ন ঘটে। কোন ৩টি সময়ে একদম ঘন্টা বাজানো বারণ? আর কী নিয়ম মেনে বাজালে পুণ্য হবে? সব নিয়ম রইল এখানে।
ঘন্টা বাজানো মানেই কি সবসময় পুণ্য? মন্দিরের গেটে ঢুকেই আমরা প্রথমে যা করি তা হল ঘন্টা বাজানো। ছোটবেলা থেকে শিখে এসেছি এতে দেবতার দৃষ্টি আমাদের দিকে পড়ে। কিন্তু আমাদের সনাতন শাস্ত্র আর পুরাণে স্পষ্ট বলা আছে, ঘন্টা বাজানোরও সময়-অসময় আছে। ভক্তি থাকা ভালো, কিন্তু নিয়ম না মেনে ঘন্টা বাজালে তার ফল উল্টো হতে পারে। অনেক সময় না জেনেই আমরা মহাপ করে ফেলি।
*এই ৩টি সময়ে ভুলেও ঘন্টা বাজাবেন না*
*1. ভোর ৪টা থেকে ৬টা - ব্রহ্ম মুহূর্ত*
শাস্ত্র মতে এই সময়টা হল সবচেয়ে পবিত্র সময়। এই সময়ে দেব-দেবীরা গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকেন এবং পৃথিবীতে পজিটিভ এনার্জি সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময়ে সাধারণ ভক্তদের ঘন্টা বাজানো নিষেধ। কারণ জোরে আওয়াজ করে তাদের ধ্যানে বিঘ্ন ঘটানো হয়। এই সময় শুধুমাত্র মন্দিরের প্রধান পুরোহিতই মঙ্গল আরতির জন্য ঘন্টা বাজাতে পারেন। আপনি গেলে নীরবে প্রণাম করে বেরিয়ে আসুন।
*2. দুপুর ১২টা থেকে ১টা - ভোগ আরতি ও বিশ্রামের সময়*
দুপুর ১২টা নাগাদ বেশিরভাগ মন্দিরে দেবতাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। ভোগের পর দেবতাকে বিশ্রামের জন্য শয়ন করানো হয়। একে বলে "রাজভোগ"। এই সময় ঘন্টা বাজালে দেবতার খাওয়া এবং বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটে। তাই দুপুরে মন্দিরে গেলে ঘন্টা না বাজিয়ে মনে মনে প্রার্থনা করুন এবং দর্শন করে চলে আসুন।
*3. রাত ৯টার পর - শয়ন আরতির পর*
রাতে শয়ন আরতির মাধ্যমে দেবতাকে ঘুম পাড়ানো হয়। রাত ৯টার পর মন্দিরের পরিবেশ শান্ত হয়ে যায়। শাস্ত্রে বলা আছে এই সময় ঘন্টা বাজানো মানে দেবতাকে ঘুম থেকে জাগানো। যা অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়। তাই রাতে মন্দির বন্ধ হওয়ার আগে গেলে খুব আস্তে প্রণাম করুন।
*তাহলে ঘন্টা বাজানোর শুভ সময় কখন?*
শাস্ত্র অনুযায়ী দিনে দুইবার ঘন্টা বাজানো সবচেয়ে উত্তম। *সকালের মঙ্গল আরতি:* ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে এবং *সন্ধ্যার সন্ধ্যা আরতি:* ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে। এই সময় ঘন্টা বাজালে মন্দিরের চারপাশের নেগেটিভ এনার্জি কেটে যায় এবং দেবতার আশীর্বাদ সহজে পাওয়া যায়।
*ঘন্টা বাজানোর ৩টি সঠিক নিয়ম*
1. *অনুমতি নিন:* ঘন্টা ছোঁয়ার আগে দুই হাত জোড় করে মনে মনে দেবতার কাছে অনুমতি চান।
2. *৩ বার বাজান:* একটানা জোরে না বাজিয়ে ভক্তি ভরে ৩ বার ধীরে ধীরে বাজান। ৩ সংখ্যাকে শুভ মানা হয়।
3. *ডান হাত ব্যবহার করুন:* শাস্ত্র মতে সব শুভ কাজ ডান হাত দিয়ে করতে হয়। তাই ঘন্টা বাজানোর সময় কখনও বাঁ হাত ব্যবহার করবেন না।
মনে রাখবেন, ঈশ্বর ভক্তির সাথে সাথে নিয়মও দেখেন। পরের বার যখনই মন্দিরে যাবেন সময়টা একবার দেখে নেবেন। সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে পুজো করলে তার ফলও তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়।


