'বন্দে মাতরম'গানের প্রথম সুরকার কে ছিলেন? উত্তরটা কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়
Vande Mataram 1st composer: 'বন্দে মাতরম'- ভারতের জাতীয় স্তোত্র। ১৮৮২ সালে বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায় 'আনন্দমঠ'রচনা করেছিলেন। এই বছর এই গানের ১৪৪ বছর। কিন্তু এই গানটির সুর প্রথম কে দিয়েছিলেন?

'বন্দে মাতরম'-
'বন্দে মাতরম'- ভারতের জাতীয় স্তোত্র। ১৮৮২ সালে বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায় 'আনন্দমঠ'রচনা করেছিলেন। সেই উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত একটি গান হল। 'বন্দে মাতরম'। ঋষি অরবিন্দ ঘোষ 'বন্দে মাতরম'কে বঙ্গদেশের জাতীয় সঙ্গীত বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হল কে এই গানের প্রথম সুরকার?
'বন্দে মাতরম' গেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই গানের গুরুত্ব অনেক। ১৮৯৬ সালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে প্রথম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই গানটি গাওয়া হয়েছিল। এই গানটি প্রথম গেয়েছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তারপরে অনেকেই গানটিকে নিজেদের মত করে গেয়েছিলেন। জনপ্রিয়তার তালিকায় রয়েছেন, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, এরআর রহমানও।
'জনগনমন অধিনায়ক জয় হে...'
১৯৫০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত এই গানটিকে জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা দেওয়া হয়। আর সেই সময়ই 'বন্দে মাতরম'-জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা পায়। তবে বর্তমানে 'বন্দে মাতরম' নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হচ্ছে। এই গানটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছে মোদী সরকার। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো 'বন্দে মাতরম'গানটি এবার ১৪৪ বছরে পা দিয়েছে।
প্রথম সুরকার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে 'বন্দে মাতরম' গাইলেও এই গানের প্রথম সুরকার যদুভট্ট। পুরো নাম যদুনাথ ভট্টাচার্য। অনেক ঐতিহাসিক দাবি করেন যদুভট্ট ভাটপাড়ায় বসে প্রথম 'বন্দে মাতরম'-এর সুর তৈরি করেছিলেন। তিনি মালহার রাগ আর কাওয়ালি তালে- গানটির সুর দিয়েছিলেন।
কে যদুভট্ট
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর বঙ্কিমচন্দ্রের জীবনেও প্রভাব রয়েছে যদুভট্টের। তিনি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীত গুরু। বঙ্কিম চট্টোপাধ্য়ায়কেও গান শিয়েছিলেন যদুভট্ট। রবীন্দ্রনাথ 'জীবনস্মৃতি'কে বিষ্ণুপুর ঘরনার যদুভট্টের কথা উল্লেখ করেছেন। কথিত রয়েছে যদু ভট্ট বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথকে ১৭৭ বছর পুরনো তানপুরা নিয়ে গান শেখাতেন।
যদুভট্ট
বাংলার শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে যদুভট্ট এক যুগান্তারী পুরুষ। ১৮৪০ সালে জন্ম। জীবনের অনেকটা সময় কেটেছিল বিষ্ণুপুরের কাছে খাদাকুড়়ি নামের একটি গ্রামে। তাঁর বাবা মসুসূদন ভট্টাচার্য ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ও যন্ত্রশিল্পী। তিনি তাঁর বাবার কাছেই সেতার আর মৃদঙ্গ বাজানো শেখেন। গান শেখেন পণ্ডিত রামশঙ্কর ভট্টাচার্য ও গঙ্গানারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। বিষ্ণুপুর রাজসভার রাজগায়ক ছিলেন তিনি।

