ভারতীয় ক্রিকেটে অজিত আগরকর ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগেই। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আগরকরের মতপার্থক্যের শুরু। সেই সময় আয়ারল্যান্ড সফরে জসপ্রিত বুমরাকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধান নির্বাচক আগরকর।

ভারতীয় ক্রিকেটে অজিত আগরকর ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগেই। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আগরকরের মতপার্থক্যের শুরু। সেই সময় আয়ারল্যান্ড সফরে জসপ্রিত বুমরাকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধান নির্বাচক আগরকর। ২০২৩ সালের আয়ারল্যান্ড সফরটি ছিল দীর্ঘ চোটের পর বুমরার প্রত্যাবর্তন সিরিজ। প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে থাকার পর দলে ফিরেছিলেন ভারতীয় পেসার। সেই সময় আগরকর মনে করেছিলেন, বুমরাকে নেতৃত্ব দেওয়ার বদলে তাঁর কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা বেশি জরুরি। তাঁর পছন্দ ছিল রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে অধিনায়ক করা।

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, আগরকরের যুক্তি ছিল, চোট থেকে ফেরার পর বুমরাকে সরাসরি নেতৃত্বের দায়িত্ব দিলে তাঁর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। কিন্তু বিসিসিআইয়ের তরফে বুমরাকে অধিনায়ক করার পক্ষেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোর্ডের ধারণা ছিল, বুমরা নিজেই নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী এবং তাঁকে সেই সুযোগ দেওয়া উচিত। সেখান থেকেই নাকি আগরকর ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে মতপার্থক্যের সূত্রপাত।

রোহিত শর্মাকে ঘিরেও তৈরি হয় টানাপোড়েন

পরবর্তী সময়ে প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়েও আগরকর ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয় বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাদা বলের সিরিজের আগে রোহিতকে নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং বিসিসিআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, রোহিতকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হলে তিনি তাতে খুশি হননি। এরপর বিসিসিআই রোহিতের অবসর নিয়ে প্রকাশ্যে একটি বিবৃতি দেওয়ায় আগরকরও অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

আগরকরের মত ছিল, ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় যদি যশস্বী জয়সওয়ালকে রাখা হয়, তাহলে তাঁকে পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে হবে। অন্যদিকে, রোহিতের অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।

ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গেও মতপার্থক্য

শুধু বিসিসিআই নয়, ভারতীয় দলের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গেও আগরকরের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চোট পাওয়া ক্রিকেটারদের নিয়ে নীতি এবং ভারত ‘এ’ দলের সূচি নিয়েও দু’জনের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। বিশেষ করে বিভিন্ন সিরিজ ও প্রতিযোগিতার সূচি একে অপরের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল। এশিয়ান গেমসেও মূল দলের ক্রিকেটারদের খেলানো উচিত কি না, তা নিয়েও আগরকরের সঙ্গে মতপার্থক্য ছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বে দ্বিতীয় সারির ভারতীয় দল খেলেছিল।

ইংল্যান্ড সিরিজের পর্যালোচনা বৈঠকে অনুপস্থিতি

আগরকর ও বিসিসিআইয়ের সম্পর্কের অবনতির ক্ষেত্রে আরও একটি ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইংল্যান্ড সিরিজের ব্যর্থতা এবং পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে মুম্বইয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু আগরকর সেই বৈঠকে যোগ দেননি। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া আগরকরের অবস্থানকে সমর্থন করলেও বোর্ডের একাংশ মনে করেছিল, এত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তাঁর উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। এরপরই আগরকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার বিষয়ে আগরকরের আপত্তি ছিল না। তবে বিসিসিআই নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যেই ভাবনাচিন্তা শুরু করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রধান নির্বাচক হওয়ার পর আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি একাধিক বড় সাফল্যের সাক্ষী হয়েছে। গত তিন বছরে ভারত চারটি আইসিসি সাদা বলের টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে এবং তার মধ্যে তিনটি ট্রফি জিতেছে—দুটি টি-২০ বিশ্বকাপ এবং একটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।