- Home
- Sports
- Alireza Beiranvand World Cup: ফুটপাতে দিনযাপন! দু-বেলা খাবার জোটাতে করতেন সাফাইকর্মীর কাজ, সেই আলিরেজাই বিশ্বকাপের নায়ক
Alireza Beiranvand World Cup: ফুটপাতে দিনযাপন! দু-বেলা খাবার জোটাতে করতেন সাফাইকর্মীর কাজ, সেই আলিরেজাই বিশ্বকাপের নায়ক
Alireza Beiranvand World Cup: তাঁর আশ্রয়ের কোনও জায়গা ছিল না। ফুটবল ক্লাবের বাইরে ফুটপাতে রাত কাটিয়েছেন। এমনকি, নিজের খাবার জোগাড় করার জন্য করেছেন সাফাইকর্মীর কাজ। সেই আলিরেজাই হয়ে উঠলেন বিশ্বকাপের নায়ক (Alireza Beiranvand Iran)।
প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন তিন কাঠির নিচে
অপ্রতিরোধ্য, অনবদ্য এবং অপরাজেয়। গোটা ম্যাচে তিনি কার্যত, প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন তিন কাঠির নিচে। কখনও শরীর ছুঁড়ে দিয়ে, আবার কখনও বেরিয়ে এসে লাফিয়ে করলেন সব অসাধারণ সেভ। নিশ্চিত গ্ল বাঁচালেন হাতের ছোট টোকায়। আবার কখনও বলকে আগলে সটান উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লেন ডি-বক্সের মধ্যেই।

আগলে রাখলেন দেশের সম্মানকে
রুখে দিলেন একাধিক দূরপাল্লার জোরালো শট। এক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের দু-হাত দিয়ে রক্ষা করলেন। আগলে রাখলেন দেশের সম্মানকে। অনবদ্য গোলকিপিং। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলের পতন রোধ করলেন একাধিকবার। সেভ, সেভ এবং সেভ। রুখে দিলেন বেলজিয়ামের মতো দলকে (Alireza Beiranvand Iran)।
ফুটবল বিশ্বকাপে আলিরেজার গোলকিপিং দেখে মন্ত্রমুগ্ধ সকলে
স্পিরিট, প্যাশন এবং অবিশ্বাস্য লড়াকু পারফরম্যান্স দেখল গোটা ফুটবল বিশ্ব। তিনি হলেন ইরান ফুটবল দলের শেষ অতন্দ্র প্রহরী আলিরেজা বেইরানভান্ড। আজ তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মেগা ইভেন্টে সেরা খেলা উপহার দিচ্ছেন। ফুটবল বিশ্বকাপে আলিরেজার গোলকিপিং দেখে মন্ত্রমুগ্ধ সকলে। কিন্তু তাঁর ফুটবলজীবন কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না।
স্বপ্ন দেখা কখনও থামাতে নেই
একের পর এক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি আজ এই জায়গায়। একটা সময় তাঁকে দিন কাটাতে হত ফুটপাতে। ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের এক দরিদ্র যাযাবর কুর্দি লাক পরিবারে জন্ম হয় আলিরেজার। ছোটবেলা থেকেই চরম দারিদ্রতার মধ্যে বড় হয়ে ওঠা। তাঁর পরিবারের কেউ চায়নি সে ফুটবল খেলুক। কিন্তু ঐ যে, স্বপ্ন দেখা কখনও থামাতে নেই (Alireza Beiranvand highlights)।
প্যাশনকে নিয়ে বাঁচতে চাও, তাহলে লড়তে হবে প্রতিনিয়ত
আর যদি স্বপ্নকে সত্যি করতে চাও, নিজের প্যাশনকে নিয়ে বাঁচতে চাও, তাহলে লড়তে হবে প্রতিনিয়ত। লক্ষ্যে থাকতে হবে অবিচল। আর সেই স্বপ্নকে সফল করার তাগিদেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান ছোট আলিরেজা বেইরানভান্ড এবং পাড়ি দেন ইরানের রাজধানী তেহরানে।
ফুটপাতে দিনযাপন! দু-বেলা খাবার জোটাতে করতেন সাফাইকর্মীর কাজ
তবে তাঁর আশ্রয়ের কোনও জায়গা ছিল না। ফুটবল ক্লাবের বাইরে ফুটপাতে রাত কাটিয়েছেন। এমনকি, নিজের খাবার জোগাড় করার জন্য করেছেন সাফাইকর্মীর কাজ। সেইসঙ্গে, কখনও কারও গাড়ি ধুয়ে দিতেন, কারও টায়ার পরিষ্কার করে দিতেন, কখনও আবার জামাকাপড়ের কারখানা এবং পিৎজার দোকানে কাজ করেও উপার্জন করেছেন। কিন্তু একবারের জন্যও ভুলে যাননি নিজের প্যাশনকে (Alireza Beiranvand world cup stats)।
একবারের জন্য লড়াই থেকে সরে আসেনি তারা
সেখান থেকেই লড়াইয়ের শুরু। তারপর পেশাদার ফুটবলে প্রবেশ এবং সবশেষে ইরানের জাতীয় দলের এক নম্বর গোলকিপার। একদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতি, তার মধ্যে থেকেও লড়াই। এমনকি, বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে মেক্সিকোতে অনুশীলন করে ম্যাচ খেলতে যেতে হচ্ছে আমেরিকা, অর্থাৎ থাকছে শারীরিক ধকলও। তারপরেও একবারের জন্য লড়াই থেকে সরে আসেনি তারা।
বুক চিতিয়ে ফুটবল খেলেছে ইরান
বুক চিতিয়ে ফুটবল খেলেছে ইরান। আর দুর্ভেদ্য এবং অসামান্য গোলকিপিং করে হৃদয় জিতেছেন আলিরেজা বেইরানভান্ড। পরিসংখ্যান বলছে, বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে মোট সাতটি সেভ করেছেন তিনি। রেখেছেন ক্লিনশিট। শুধু তাই নয়, তাঁর নামের পাশে রয়েছে একটি বিশ্বরেকর্ড (Alireza Beiranvand World Cup)।
দুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের শিরোপা জিতেছেন
ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘতম থ্রো এবং ড্রপ কিকের জন্য দুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের শিরোপা জিতেছেন ইরানের এই গোলকিপার। গত ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে ৬১.০০২ মিটার তথা ২০০.১৪ ফুট দূরে একটি থ্রো করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন।
এই গোলকিপারের উচ্চতা ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি
পাশাপাশি তাঁর একটি ড্রপ কিকের দূরত্ব ৭৮.০১৪ মিটার, অর্থাৎ ২৫৫.৯৫ ফুট। আলিরেজা বর্তমানে খেলেন ইরানের ফুটবল ক্লাব ট্রাক্টর এফসি-র হয়ে। অন্যদিকে, ২০১৭-১৮ মরশুমে তাঁর নামের পাশে ছিল ২৩টি ক্লিনশিট। ৩৩ বছর বয়সী এই গোলকিপারের উচ্চতা ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

