FIFA World Cup 2026: সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে ডালাসে শুরু হতে যাচ্ছে ‘লিওনেল মেসি শো’; এই ম্যাচে আরও একটি ফুটবল-ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন আর্জেন্টাইন এই জাদুকর। বুধবার ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া মেসি আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে হ্যাটট্রিক করে মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের সর্বকালের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন।

FIFA World Cup 2026: সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে ডালাসে শুরু হতে যাচ্ছে ‘লিওনেল মেসি শো’; এই ম্যাচে আরও একটি ফুটবল-ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন আর্জেন্টাইন এই জাদুকর। বুধবার ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া মেসি আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে হ্যাটট্রিক করে মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের সর্বকালের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে একটি গোল করলেই ক্লোজ়েকে ছাপিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের মালিক হবেন মেসি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের যে লক্ষ্য নিয়ে আর্জেন্টিনা মাঠে নেমেছে, তার নেতৃত্বে মেসির অনুপস্থিতি কেউ আসলে কল্পনাও করেনি। বার্সেলোনা ও পিএসজি-র প্রাক্তন এই জাদুকর চার বছর আগে নিজ দেশকে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ দিয়েছিলেন। আর সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার আকর্ষণ তাঁর কাছে ছিল অপ্রতিরোধ্য। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচটির জন্য ডালাস কাউবয়েজের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামটি হতে যাচ্ছে মেসির জন্য ক্লোসার রেকর্ড ভাঙার উপযুক্ত মঞ্চ। সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত মেসি বলেন, "শেষ পর্যন্ত, এটি কেবলই একটি পরিসংখ্যান, এর বেশি কিছু নয়।"

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয় পেলে লিওনেল স্কালোনির দল এক ম্যাচ হাতে রেখেই ‘গ্রুপ এল’-এর বিজয়ী হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে। এতে নকআউট পর্বের আগে মেসি কিছুটা বিশ্রাম ও শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ পাবেন। তবে কোচ রালফ র‍্যাংনিকের অধীনে থাকা অস্ট্রিয়া কিন্তু সহজে হার মানবে না। জর্ডনকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে তারাও পরবর্তী ধাপে ওঠার পথে বেশ এগিয়ে আছে। চার বছর আগের সেই বাঁধভাঙা আনন্দের মাঝে এটা ভুলে যাওয়া সহজ যে, আর্জেন্টিনার ভক্তরা সবসময় মেসিকে দেবতার মতো মর্যাদা দিতেন না।

অতীতে এমন ধারণা প্রচলিত ছিল যে, বার্সেলোনায় ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি যে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন, দেশের হয়ে খেলার সময় তিনি তেমনটা দেখাতে পারেননি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাকালে দেখা যায়, বয়সের ভারে মধ্যবয়সের কাছাকাছি পৌঁছেও মেসির কেবল উপস্থিতিই মাঠ ও মাঠের বাইরে তাঁর সতীর্থদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর পায়ে হয়তো আগের মতো সেই ক্ষিপ্রতা নেই এবং এখন তিনি হয়তো একটানা নয়, বরং মাঝেমধ্যে ঝলক দেখিয়ে খেলেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার বাকি খেলোয়াড়রা দলের জন্য প্রয়োজনীয় কঠোর পরিশ্রমটুকু করতে সানন্দেই রাজি—যাতে লিও যখনই চান, তখনই নিজের জাদু দেখাতে পারেন।

২০০৬ সালে এই মহাতারকার প্রথম বিশ্বকাপে তাঁর সতীর্থ থাকা স্কালোনি তাঁদের অধিনায়কের চারপাশে এমন এক পরিবেশ বা 'ইকোসিস্টেম' গড়ে তুলেছেন, যা দলের জন্য দারুণ কার্যকর। আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, "তিনি তাঁর বন্ধুদের একটি দলের সঙ্গে খেলছেন। এমন সব মানুষের সঙ্গে যারা তাঁর জন্য প্রাণ উজাড় করে খেলবেন। যখনই তাঁদের সঙ্গে কোনও কথা বলার প্রয়োজন হয়, তাঁরা সহজেই কাছে যেতে পারেন। আর তিনি যা বোঝাতে চান, তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি ঠিক কী করেন তা বোঝাতে আমি হয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতে পারি, কিন্তু সেটা পুরোপুরি বুঝতে হলে আপনাকে সেখানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। আপনাকে সেই পরিবেশ ও আবহটা অনুভব করতে হবে।"