Argentina vs Cabo Verde: আর্জেন্টিনার কাছে কোনও দলই অপ্রতিরোধ্য নয়। মেসিরা যেন বুঝিয়ে দিলেন, ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়তে জানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এটাকে বলে অউকাত। শেষপর্যন্ত, ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা।
Argentina vs Cabo Verde: বিশ্বকাপ ফুটবলে রাউন্ড অফ ৩২-র লড়াইতে ভারতীয় সময় শুক্রবার মধ্যরাতে, মিয়ামি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে (argentina vs cabo verde)। সেই ম্যাচেই ৩-২ গোলে দুরন্ত জয় হাসিল করল আর্জেন্টিনা। সেই সুবাদেই রাউন্ড অফ সিক্সটিনে জায়গা পাকা মেসিদের। নিঃসন্দেহে অসাধারণ একটি ফুটবল ম্যাচ দেখল গোটা বিশ্ব। তবে কেপ ভার্দের লড়াই পুরো ব্যর্থ! বুঝিয়ে দিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, ৩-২ গোলে জিতে পরের রাউন্ডে চলে গেলেন মেসিরা (Argentina vs Cabo Verde score)।

কেপ ভার্দের লড়াই পুরো ব্যর্থ! বুঝিয়ে দিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশে শুরু করেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, মোলিনা, রোমেরো, লিসান্দ্রো, মেদিনা, রদ্রিগো ডি পল, ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো, আলমাডা, মেসি, এমিলিয়ানো। অন্যদিকে, কেপ ভার্দের প্রথম একাদশে ছিলেন ভোজিনহা, মোরেরা, লোপেজ, বোর্হেস, ক্যাব্রাল, পিনা, মেন্ডেস, লারোস দুয়ার্তে, ডেরয় ডুয়ার্তে, ক্যাব্রাল, কোস্তা। খেলার শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা ঝড়! ম্যাচের ১৫ মিনিটেই, থিয়াগো আলমাডার অ্যাসিস্ট থেকে লিওনেল মেসির বাঁ পায়ের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাইরে চলে যায়। এরপর ১৮ মিনিটে, ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া মেসির শটটি তালুবন্দি করেন কেপ ভার্দে গোলকিপার ভোজিনহা। তিনি এই ম্যাচে বেশ কিছু অসাধারণ সেভ করেছেন। তবে দলকে জেতাতে পারেননি।

কিন্তু ম্যাজিশিয়ানকে রুখবে, কাদের সেই ক্ষমতা আছে? ম্যাচের ৩০ মিনিটে, লিসান্দ্রো মার্টিনেজের থ্রু বলটি অসাধারণ দক্ষতায় রিসিভ করলেন লিওনেল মেসি এবং খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই। চূড়ান্ত লেভেলের কনফিডেন্স থাকলেই এত কঠিন বল সহজে রিসিভ করা যায়। এককথায় বলতে গেলে, অনবদ্য। এরপর সিক্স ইয়ার্ড বক্সের ডানদিক থেকে বাঁ পায়ের শটে বলটিকে টপ রাইট কর্নার দিয়ে জালে জড়িয়ে দিলেন ‘এলএম১০'। এক্সেলেন্ট ফিনিশ। মেসি ছাড়া কারও পক্ষে সম্ভবই নয়। যিনি বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করেন। যার ধারেকাছে কেউ নেই। নিঃসন্দেহে চোখধাঁধানো গোল। আর সেই গোলের সুবাদেই আর্জেন্টিনা ম্যাচে লিড নিল ১-০ ব্যবধানে। তবে সেখানেই শেষ নয়। খেলার ৪৫ মিনিটের মাথায়, এনজো ফার্নান্দেজের ডান পায়ের জোরালো শট সেভ করেন ভোজিনহা।
৩-২ গোলে জিতে পরের রাউন্ডে মেসিরা
![]()
কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে আসছিল কেপ ভার্দে। তবে সতর্ক ছিল আর্জেন্টিনা ডিফেন্স। মার্টিনেজ, মোলিনা, রোমেরো, এবং মেদিনারা জায়গা দিচ্ছিলেন না খুব একটা।মাঝমাঠই আর্জেন্টিনার আক্রমণ তৈরির মূল চাবিকাঠি এবং সেই মাঝমাঠই আর্জেন্টিনার পক্ষে ডিফেন্সিভ স্ক্রিন হিসেবে কাজ করতে থাকে। বড় দলের পক্ষেই বোধহয় এই ফুটবল একমাত্র সম্ভব। এই ম্যাচে স্কালোনি ৪-১-২-৩ ছকে দল সাজান। অন্যদিকে, মেসি টানা পাঁচটি ফিফা বিশ্বকাপ নক-আউট ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়লেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ফলাফল নিয়েই।

দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা প্রেসিং ফুটবল খেলার চেষ্টা করে কেপ ভার্দে। তবে আর্জেন্টিনা গতি কমিয়ে ম্যাচ কন্ট্রোলের চেষ্টা জারি রাখে। কিন্তু খেলার ৫৯ মিনিটে, ডেরয় দুয়ার্তের গোলে সমতা ফেরায় কেপ ভার্দে। ম্যাচের ফলাফল তখন ১-১। এরপর আর্জেন্টিনা দলে দুটি পরিবর্তন হয়। থিয়াগো আলমাডার জায়গায় নামেন নিকো গঞ্জালেজ এবং জুলিয়ান আলভারেজ আসেন লাউতারো মার্টিনেজের পরিবর্তে। অন্যদিকে, ৬৯ মিনিটে, মেসিকে ফাউল করার অপরাধে হলুদ কার্ড দেখেন কেপ ভার্দের ফুটবলার পিনা।
রাউন্ড অফ সিক্সটিনে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা

ম্যাচের ৬৯ মিনিটে, মেসির ফ্রি-কিক রুখে দেন সেই ভোজিনহা। এরপর ৮৪ মিনিটে আবার নিকো গঞ্জালেজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। হেডার মিস করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। অতিরিক্ত সময়ের খেলায়, লিয়ান্দ্রো পারেদেসের শট রুখে দেন ভোজিনহা। কার্যত, লাগাতার আক্রমণ তুলে আনতে থাকে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির শটও সেভ হয়। এরপর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ম্যাচের ৯২ মিনিটে, গোল পায় আর্জেন্টিনা। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের অনবদ্য গোলে ম্যাচে লিড নেয় তারা। বাঁ পায়ের শটে টপ রাইট কর্নার দিয়ে বলকে জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

কিন্তু তারপরেই আবার নাটকীয় মোড়। সিডনি ক্যাব্রালের ডান পায়ের শট থেকে অসাধারণ গোল এবং ম্যাচে সমতা ফেরায় কেপ ভার্দে।স্কোরলাইন ২-২। এরপরেও থামেনি আর্জেন্টিনা ঝড়। ক্রিশ্চিয়ানো রোমেরোর শট বাইরে চলে যায়। তখন একের পর এক আক্রমণ শানাচ্ছে আর্জেন্টিনা। আর সেই সূত্রেই ম্যাচের ১১১ মিনিটে গোল। আর রুখতে পারল না কেপ ভার্দে। পারবে কীভাবে? কাদের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছে তারা? বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বলে কথা। হ্যাঁ, কেপ ভার্দের ডিফেন্স ভালো খেলেছে এবং গোলকিপার ভোজিনহা লড়াই করেছেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার কাছে কোনও দলই অপ্রতিরোধ্য নয়। যেন মেসিরা বুঝিয়ে দিলেন, ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়তে জানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এটাকে বলে অউকাত। শেষপর্যন্ত, ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। দলগত সাফল্যে এই জয় নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। ম্যাচের পর গোটা গ্যালারি জুড়ে শুধুই উচ্ছ্বাস।
ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।