Indian Fencing: ভারতে ফেন্সিং অপরিচিত না হলেও, খুব জনপ্রিয় খেলা নয়। কারণ, এই খেলা সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য নয়। তবে এবার ভারতের ফেন্সিং দল কমনওয়েলথ ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে (Commonwealth Fencing Championship 2026) যে সাফল্য পেল, তারপর দেশে ফেন্সিংয়ের জনপ্রিয়তা বেড়ে যেতে পারে।

DID YOU
KNOW
?
ফেন্সিং জনপ্রিয় হবে?
কমনওয়েলথ ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার ভারতের খেতাব জয় দেশে ফেন্সিংয়ের জনপ্রিয়তা বেড়ে যেতে পারে।

Commonwealth Fencing Championship 2026 Lagos: নাইজেরিয়ার (Nigeria) লাগোসে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ দুর্দান্ত সাফল্য পেল ভারত। চার দিনের প্রতিযোগিতা শেষে ১৩টি সোনা, আটটি রুপো এবং ১৪টি ব্রোঞ্জ-সহ ৩৫টি পদক জিতে খেতাব জিতল ভারতীয় দল। এই সাফল্যের জন্য ভারত পেল মর্যাদাপূর্ণ উইলকিনসন সোর্ড ট্রফি (Wilkinson Sword Trophy)। ১৯৮২ সাল থেকে কমনওয়েলথ ফেন্সিং ফেডারেশনের (Commonwealth Fencing Federation) দেওয়া এই পুরস্কার চ্যাম্পিয়নশিপে সামগ্রিকভাবে সেরা পারফরম্যান্স করা দেশকে দেওয়া হয়। বুধবার প্রতিযোগিতার শেষ দিনে সিনিয়রদের ছয়টি টিম ইভেন্টে দুর্দান্ত দাপট দেখায় ভারত। তার মধ্যে পাঁচটিতেই সোনা জেতে ভারতীয় দল। পুরুষদের সাব্রে, মহিলাদের সাব্রে, পুরুষদের এপি, মহিলাদের এপি এবং মহিলাদের ফয়েলে আসে সোনা। পুরুষদের ফয়েল দল জেতে রুপো। এর ফলে প্রথমবার ট্রফি জিতল ভারত।

অসাধারণ পারফরম্যান্স ভারতের

এবারের কমনওয়েলথ ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের সাফল্যের ভিত্তি অবশ্য তৈরি হয়ে গিয়েছিল প্রতিযোগিতার শুরুতেই। প্রথম দিন অনূর্ধ্ব-২৩ ব্যক্তিগত ইভেন্টে ভারত পায় ১৭টি পদক। এর মধ্যে ছিল চারটি সোনা, চারটি রুপো ও নয়টি ব্রোঞ্জ। পুরুষদের সাব্রেতে নিখিল ওয়াঘের নেতৃত্বে পোডিয়ামে সম্পূর্ণ ভারতীয় আধিপত্য দেখা যায়। মহিলাদের ফয়েলে জয়শ অশিতা, মহিলাদের এপিতে প্রাচী লোহান এবং মহিলাদের সাব্রেতে জেফারলিনও ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জেতেন। দ্বিতীয় দিনে সিনিয়র ব্যক্তিগত ইভেন্ট শুরু হলে আরও সাতটি পদক যোগ হয় ভারতের ঝুলিতে। একটি সোনা, দু'টি রুপো এবং চারটি ব্রোঞ্জ আসে। মহিলাদের এপির ফাইনালে তানিষ্কা খাতরি ও খুশি দাভাদে যথাক্রমে সোনা ও রুপো জিতে ভারতকে জোড়া সাফল্য এনে দেন। তৃতীয় দিনেও ভারতের দাপট অব্যাহত ছিল। পাঁচটি পদকের মধ্যে ছিল তিনটি সোনা, একটি রুপো ও একটি ব্রোঞ্জ। সিনিয়র মহিলাদের ফয়েলে কানাগলক্ষ্মী, সিনিয়র পুরুষদের এপিতে রাজেন্দ্রন শান্তিমোল শেরজিন এবং সিনিয়র পুরুষদের সাব্রেতে সিং করণ সিং সোনা জেতেন।

সাফল্যে অবদান কোচ-সাপোর্ট স্টাফদের

কমনওয়েলথ ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে এই সাফল্যের নেপথ্যে কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফদের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কোচ ভারতজি ঠাকোর, শ্রীহরি পিসে ও শঙ্কর নারায়ণনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপিস্ট অমৃতা বালকাওয়াড়ে এবং টিম ম্যানেজার মনু ত্যাগী গোটা প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, কৌশল, রিকভারি ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা সামলেছেন। লাগোসে এই সাফল্য ভারতীয় ফেন্সিংয়ের জন্য নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। ৩৫টি পদকের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি উইলকিনসন সোর্ড ট্রফি জয় প্রমাণ করল, কমনওয়েলথ মঞ্চে ভারতীয় ফেন্সিং দ্রুতই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এবার লক্ষ্য আরও বড়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখে বিশ্বের সেরা ফেন্সিং দেশগুলির কাতারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। এজন্য প্রশিক্ষণ, প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও বেশি অংশগ্রহণের উপর জোর দিতে চাইছে ফেন্সিং অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (Fencing Association of India)।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।