Argentina vs Egypt: রাজার মতো কামব্যাক করল আর্জেন্টিনা। একেই বলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মতো ফিরে আসা। দুর্দান্ত কামব্যাক এবং জয়। যখন সবাই ধরে নিয়েছে আর্জেন্টিনা হারতে চলেছে। নিন্দুকরা ওঁত পাতা শিকারির মতো কমেন্ট করছেন দিকে দিকে, তখনই অসাধারণভাবে ম্যাচে ফেরত আসা এবং বুঝিয়ে দেওয়া, অন্য কোনও ছোট দলের মতো খেলে না আর্জেন্টিনা। 

Argentina vs Egypt: বিশ্ব ফুটবলের মেগা লড়াই। রাউন্ড অফ ১৬-র হাইভোল্টেজ লড়াইতে মঙ্গলবার রাতে, আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা বনাম ইজিপ্ট (Argentina vs Egypt)। সেই ম্যাচেই রাজার মতো কামব্যাক করল আর্জেন্টিনা। একেই বলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মতো ফিরে আসা। দুর্দান্ত কামব্যাক এবং জয়। যখন সবাই ধরে নিয়েছে যে, আর্জেন্টিনা হারতে চলেছে। নিন্দুকরা ওঁত পাতা শিকারির মতো কমেন্ট করছেন দিকে দিকে, তখনই অসাধারণভাবে ম্যাচে ফেরত আসা এবং বুঝিয়ে দেওয়া, অন্য কোনও ছোট দলের মতো খেলে না আর্জেন্টিনা (Argentina vs Egypt live score)। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মতোই কামব্যাক 'বড় দল' আর্জেন্টিনার!

তারা আসলেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মতো ফিরে আসতে পারে। দুরন্ত প্রত্যাবর্তন এবং ইজিপ্টকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেলেন মেসিরা। এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (গোলকিপার); নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো; রদ্রিগো ডি পল, লিয়েন্দ্রো পেরেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার; লিওনেল মেসি (অধিনায়ক), জুলিয়ান আলভারেজ। অন্যদিকে, ইজিপ্টের প্রথম একাদশে ছিলেন মোস্তাফা শোবেইর (গোলকিপার); মহম্মদ হানি, রামি রাবিয়া, ইয়াসির ইব্রাহিম, করিম হাফেজ; মারওয়ান আত্তিয়া, এমাম আশুর, মোস্তাফা জিকো, মোহানাদ লাশিন; মহম্মদ সালাহ (অধিনায়ক), হাইসেম হাসান।

ম্যাচের শুরু থেকেই ঝড় তোলে স্কালোনির ছাত্ররা। তবে অবশ্যই বিপক্ষকে মেপে এবং বুঝেশুনে আক্রমণ তৈরি করতে থাকে তারা। কিন্তু খেলার গতির বিপরীতে একটি গোল হয় ম্যাচের ১৫ মিনিটে। ইজিপ্টের হয়ে হেড থেকে গোল করে যান ইয়াসির ইব্রাহিম। তবে খেলার ১৯ মিনিটে, আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকোকে পেনাল্টি বক্সের ভিতরে ফাউল করেন ইজিপ্ট রক্ষণভাগের ফুটবলার হাইসেম হাসান। সঙ্গে সঙ্গে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে ম্যাচের ২১ মিনিটে, সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। এরপর একটি ভালো আক্রমণ তুলে আনে তারা। তবে সেটি সেভ করেন মোস্তাফা শোবেইর। 

নিন্দুকদের অউকাত বুঝিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মেসিরা

YouTube video player

ম্যাচের ৩১ মিনিটে, মেসির ফ্রি-কিক বারপোস্টে লাগে। তারপর ৩৮ মিনিটের মাথায়, তাঁর শট অনেকটাই বাইরে দিয়ে চলে যায়। খেলার ৩৯ মিনিটে, আবার একটি সেভ করেন ইজিপ্ট গোলকিপার। কিন্তু চেষ্টা জারি রাখে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে, মিস করেন লিয়েন্দ্রো পেরেদেস। খেলার ৫৭ মিনিটে আবার আলভারেজের শট রুখে দেন ইজিপ্ট গোলকিপার। এরপর ৬১ মিনিটের মাথায়, ম্যাক অ্যালিস্টারের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে, আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামেন নিকো গঞ্জালেজ। কিন্তু ৬৭ মিনিটে, আবার গোল। মোস্তাফা জিকোর গোলে তখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ইজিপ্ট। প্রায় ম্যাচ তখন হাতের বাইরে। কিন্তু সেই বিশেষণ ছোট দলের জন্য প্রযোজ্য, বড় দলের জন্য নয়। 

ঠিক ৭৫ মিনিটের পর থেকেই আক্রমণে গতি বাড়াতে থাকে আর্জেন্টিনা। একের পর এক অ্যাটাক। কার্যত, লাগাতার আক্রমণ তখন আছড়ে পড়ছে বিপক্ষ ডিফেন্সে। নাজেহাল করে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি। মাঠে পড়ে থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সম্রাট। বাকিদের মতো তিনি ব্যর্থ নন। ফের প্রমাণ করলেন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়কের মতোই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। ফিরতেই হবে লড়াইতে। খেলার ৭৫ মিনিটে, লাউতারো মার্টিনেজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। 

কিন্তু কতক্ষণ আটকাবে পড়ে পাওয়া ১৪ আনা ইজিপ্ট ডিফেন্স? ভাঙল ডেডলক। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে, লিওনেল মেসির ক্রস থেকে অনবদ্য হেডারে মাঠ কাঁপানো গোল করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। টপ রাইট কর্নার দিয়ে সোজা বল জালে জড়িয়ে যায়। ম্যাচে ফিরে এল আর্জেন্টিনা। এরপর ঝড়ের গতিবেগ আরও তীব্র হল। হিমশিম খাওয়া ইজিপ্ট ডিফেন্সকে অউকাত বুঝিয়ে দিলেন মেসিরা। ঠিক ৮৩ মিনিটে, লিওনেল মেসির বাঁ পায়ের শট ইজিপ্ট গোলকিপারকে পরাস্ত করে সোজা জালে জড়িয়ে গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারি জুড়ে শুরু সেলিব্রেশন। লড়াই করে কামব্যাক আর্জেন্টিনার। 

মাঠে থেকে লড়াই আর্জেন্টিনার, হেরে গিয়ে কান্না নয়!

তবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা তো জিততে মাঠে নামে। তাই নাটকীয় জয়। ম্যাচের ৯৩ মিনিটে, দ্রুত আক্রমণ তুলে আনে তারা। ঠিকানা লেখা ক্রস তোলেন লাউতারো মার্টিনেজ এবং সেই বলে বিধ্বংসী হেড করে দলের জয় নিশ্চিত করেন এনজো ফার্নান্দেজ। খেলার ফলাফল তখন ৩-২। তবে এই খেলার শেষদিকে এসে, হারতে থাকা ইজিপ্টের বেপরোয়া আচরণ এবং লাল কার্ড দেখান রেফারি। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা দলে পরিবর্তন আসে। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর জায়গায় নামেন নিকোলাস ওটামেন্ডি এবং জুলিয়ান আলভারেজের পরিবর্তে মাঠে আসেন ফাকুন্ডো মেডিনা।

গোটা বিশ্বের সামনে অউকাত বোঝাল আর্জেন্টিনা। প্রমাণ করে দিল, লাতিন অ্যামেরিকাতে একটাই বড় দল। সেটা একমাত্র আর্জেন্টিনা। আর কেউ নয়! দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। কিন্তু আলাদাভাবে মেসির কথা বলতেই হয়। এখনও সেই গোলের খিদে। এখনও সেই হিমশীতল মানসিকতা। শেষ মিনিট পর্যন্ত, সতীর্থদের নিয়ে লড়ে গেলেন। 

চলতি বিশ্বকাপে তাঁর সেই দাপুটে ফর্ম এবং হাসি। সব ম্যাচেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন মেসি। এই ম্যাচেও করলেন। বিপক্ষ ডিফেন্সকে একেবারে নাস্তানুবাদ করে ছাড়লেন। দুরন্ত গতির মুভ, কাট করে ভিতরে ঢুকেই আক্রমণ। লিওনেল মেসি আসলেই ম্যাজিশিয়ান। তিনি কাউকে পরোয়া করেন না। আক্ষরিক অর্থেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের এক তৃপ্ত অধিনায়ক। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা, যার ধারেকাছে কেউ নেই। যিনি নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙেন। সেই লিওনেল মেসি। যেন সতীর্থদের অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখে তৃপ্ত এক সম্রাট। আকর্ষণীয় স্কিল, অসাধারণ দক্ষতা, অনবদ্য ফুটবল এবং দুরন্ত পারফরম্যান্স। টিমগেমে বাজিমাৎ।

ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।