Asia Cup International Karate Championship 2026: ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় বরাবরই ভালো পারফরম্যান্স দেখান বাংলার প্রতিযোগীরা। এবার মুম্বইয়ে এশিয়া কাপ আন্তর্জাতিক ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপেও বাংলার ভালো পারফরম্যান্স দেখা গেল।
KNOW
Karate News: ফের ক্যারাটেতে সাফল্য বাংলার। মুম্বইয়ের (Mumbai) অন্ধেরী স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ আন্তর্জাতিক ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ (Asia Cup International Karate Championship 2026) বাংলার ক্যারাটে দলের অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখা গেল। পশ্চিমবঙ্গের খেলোয়াড়রা ১১টি সোনা, চারটি রুপো এবং ১৩টি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছেন। বাংলার খেলোয়াড়দের মধ্যে অভিসিক্তা রায়, অদ্বিতীয়া চিনা, সৌরীমা পান্ডা ও ইসরাত জাহানের উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখা গিয়েছে। এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্য, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১,২০০ প্রতিযোগী যোগ দেন। ট্র্যাডিশনাল শোটো ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সভাপতি, ক্যারাটে গবেষক ও দর্শনের অধ্যাপিকা ডঃ মৌসুমী পালের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১৮ জনের একটি দল এই প্রতিযোগিতায় যোগ দেয়। বাংলার প্রতিযোগীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরাও ছিল। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে নজর কেড়ে নিয়েছে বাংলা।
ক্যারাটেতে সাফল্য বাংলার
ক্যারাটেতে বাংলা বরাবরই অত্যন্ত শক্তিশালী দল। এবারও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য এল। এই সাফল্য শুধু খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল নয়, তাঁদের প্রশিক্ষক, অভিভাবক এবং সমগ্র দলের নিরলস প্রচেষ্টারও প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। ডঃ মৌসুমী পালের নেতৃত্বে এই অসাধারণ অর্জন আগামী দিনে আরও বহু তরুণ-তরুণীকে ক্যারাটের প্রতি উৎসাহিত করবে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে পশ্চিমবঙ্গের নাম আরও উজ্জ্বল করবে। এ প্রসঙ্গে ডঃ মৌসুমী পাল বলেন, 'এই সাফল্য আমাদের প্রত্যেকের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তবে আমি মনে করি, পদক জয়ই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়, ক্যারাটের মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, সাহস এবং আত্মনির্ভরতার মানসিকতা গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।'
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে ক্যারাটে
ডঃ মৌসুমী পাল আরও বলেছেন, 'আমাদের দলের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরাও আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে। তাদের এই সাফল্য আমাদের শেখায় যে, শারীরিক বা অন্য কোনও সীমাবদ্ধতা কখনও স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না। প্রয়োজন শুধু সঠিক প্রশিক্ষণ, নিয়মিত কাউন্সিলিং, গ্রুমিং, দৃঢ় মনোবল, পরিবারের সহযোগিতা এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস। আমি আমার দলের প্রতিটি খেলোয়াড়কে বলব, আজকের জয়কে শেষ সাফল্য হিসেবে নয়, আগামী দিনের আরও বড় স্বপ্নের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখো। জয় যেমন আমাদের আনন্দ দেয়, তেমনই পরাজয় আমাদের আরও শক্তিশালী হতে শেখায়। তাই কখনও হাল ছেড়ে দেবে না। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই আমাদের সকল প্রশিক্ষক, অভিভাবক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের, যাঁদের নিরলস সহযোগিতা ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হত না। আমাদের লক্ষ্য আগামী দিনে আরও বেশি ছেলে-মেয়েকে ক্যারাটের সঙ্গে যুক্ত করা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পশ্চিমবঙ্গের জন্য আরও গৌরব বয়ে আনা। আমি বিশ্বাস করি, চ্যাম্পিয়ন শুধু পদক দিয়ে তৈরি হয় না, চ্যাম্পিয়ন তৈরি হয় কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং কখনও হার না মানার মানসিকতা দিয়ে। আমাদের এই পথচলা চলবে। আজকের এই সাফল্য আগামী দিনের আরও বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক।'
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


