অবশেষে শেষ হল অপেক্ষা। ইডেনের উইকেটে এই প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ শুরু হয়ে গেল গলাপি বলে। তবে গোলাপি বলের শুরুতে বিরাটকে টেক্কা দিয়ে টস জিতে নিলেও, প্রথমেই মুখ থুবড়ে পড়লো বাংলাদেশ দল। প্রথমে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মনিমুল হক। তবে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথমেই ভারতীয় পেস অ্যাটাকের কাছে ব্যাকফুটে চলে গেলেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। প্রত্যাশা মতন ভারতীয় পেসারদের দাপুটে বোলিংয়ে মধ্যাহ্নভোজ বিরতির আগেই বাংলাদেশ হারিয়ে ফেললো ৬ উইকেট। পেসারদের ঐকবদ্ধ্য পারফরম্যান্সে ফের একবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সরব হল ভারতীয় দল।


ব্যাট হাতে নেমে প্রথম ৪,৫ ওভার পর্যন্ত ইডেনের উইকেটে নিজেদের সামলে নিলেও। তারপর বেশ নরবরে হতে শুরু করে দেয় বাংলাদেশের দুই ওপেনার ইমরুল কাইস ও সাদমান ইসলাম। ৭ ওভারের মাথায় ঈশান্ত শর্মার বলে এলবিডব্লু হয়ে ফিরে যান ইমরুল। তারপরই তাসের ঘরের মাতন ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের টপ ও মিডল অর্ডার। ঈশান্তের পাশাপাশি এদিন আগুনে বোলিং করেন সামি ও উমেশও। ১১ ওভারের মাথায় উমেশের বলে রোহিতের দুরন্ত ক্যাচে শূন্য রানেই ফিরে যান বাংলা অধিনায়ক মমিনুল। সেই ওবারের তৃতীয় বলেই ফের মহম্মদ মিথুনকে শূন্য রানে বোল্ড করেন উমেশ।

 

 

ঈশান্ত ও উমেশের পর পিঙ্ক বল হাতে উইকেট তোলেন মহম্মদ সামিও। বাংলাদেশের অন্যতম ভরাস যোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহমানকে শূন্য রানে সাজঘরে পাঠান সামি। এই আউট নিয়ে প্রথম জলপান বিরতির আগেই শূন্য রানে ড্রেসিং রুমে ফেরেন বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার। তবে একদিক থেকে সবাই আউট হতে থাকলেও, একদিক থেকে ম্যাচের হাল ধরতে দেখা যায় বাংলাদেশের সাদমানকে। তবে ১৫ ওভারের মাথায় তাঁকেও ফিরে যেতে হয় উমেশ যাদবের বলে। ২৯ রান করেই ঋদ্ধিমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান সাদমান।

সাদমান ফিরে যাওয়ার পর দলের হয়ে ভরসা যোগাতে মাঠে আসেন মহম্মদুল্লা। মধ্যাহ্ন ভোজের মধ্যে আরও একটি উইকেট পড়ে যায় বাংলাদেশের। ঈশান্তের বলে দুরন্ত ক্যাচ ধরেন ঋদ্ধি আর সেই সঙ্গেই ৬০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে মহম্মদুল্লাকে হারায় বাংলাদেশ। অপরদিকে, বাংলাদেশের জন্য খারাপ খবর ২১ ওভারে মাথায় চোট পেয়েছেন লিটন দাস। আর সেই চোট পেয়েই ২১.৪ ওভারে রিটায়ার হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশ। বিরতির পর্যন্ত বাংলাদেশের রান ২১.৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৭৩ রান।