Pakistan Cricket Team T20 World Cup: আর এই মুহূর্তে মার্কেট ভ্যালু অনুযায়ী, প্রত্যেকটি ভারত-পাক ম্যাচের মূল্য প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৩২০ কোটি টাকা।
Pakistan Cricket Team T20 World Cup: চূড়ান্ত বিপাকে পড়তে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। কারণ, ম্যাচ বয়কট ইস্যু (pakistan cricket team t20 world cup)। রবিবার এক্স হ্যান্ডলে পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়, "পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে টি-২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। কিন্তু আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি, ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না পাকিস্তান।"
চাপের মুখে পাকিস্তান
সূত্রের খবর, পাকিস্তানকে পাল্টা চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে আইসিসিও। জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার বা বুধবার, আইসিসি কর্তারা বৈঠকে বসবেন এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাছাড়া সম্প্রচারকারী চ্যানেল থেকে শুরু করে অন্যান্য স্পনসররাও দ্রুত এই সমস্যা মেটাতে চাইছে। কিন্তু পাকিস্তান যদি শেষপর্যন্ত, নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তাহলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে পাক বোর্ডকে। এমনকি, নির্বাসিতও করা হতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে।
তবে শুধু নির্বাসন নয়। বিপুল আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীনও হতে পারে তারা। কারণ, পাকিস্তান ম্যাচ না খেললে আইসিসির সঙ্গে পূর্ণ সদস্য দেশগুলির যে চুক্তি রয়েছে, সেটাও কিন্তু ভেঙে যাবে। তার ফলে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী হিসেবে যে প্রাপ্য টাকা পাক বোর্ডের পাওয়ার কথা, সেটাও পুরোটা পাবে না তারা।
সেইসঙ্গে, বিশ্বকাপের সম্প্রচারকারী সংস্থার তরফ থেকেও চাপ আসতে পারে (india vs pak broadcast revenue)। তাই সেই আর্থিক ক্ষতির দায়ও তাদের উপর এসে পড়তে পারে। যার জেরে আইনি সমস্যাতেও জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের।
পাক বোর্ডের কাছে ৩২০ কোটি টাকা দাবি করতে পারে ব্রডকাস্টিং সংস্থা
ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ নামেই হাইভোল্টেজ লড়াই। গোটা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ থাকে টিভির পর্দায় কিংবা ডিজিটাল ওটিটি-স্ক্রিনে। অর্থাৎ, যে ম্যাচের বিপুল চাহিদা। সম্প্রচারকারী চ্যানেল থেকে শুরু করে স্পনসররা, সবাই বিরাট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেন এই ম্যাচের জন্য। কারণ, লাভের অঙ্ক আকাশছোঁয়া। স্বাভাবিকভাবেই, আইসিসিও ব্যাপক টাকা রোজগার করে এই মেগা ইভেন্ট থেকে।
ব্রডকাস্টিং সংস্থা এই ম্যাচের ক্ষেত্রে ১০ সেকেন্ডের স্লট বিক্রি করে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকায়। আর পুরো ম্যাচে অর্থাৎ, ৯০০-১২০০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন চললে প্রায় ২০০-৩০০ কোটি টাকা আয় হয়। তাই ম্যাচ না হলে বিপুল ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই এবার ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ না হলে, পাক বোর্ডের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে বিশ্বকাপের ব্রডকাস্টিং সংস্থা। সূত্রের খবর, ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে তারা। উল্লেখ্য, আইসিসি-র সঙ্গে ২০২৩-২০২৭ সাল পর্যন্ত, সম্প্রচারকারী সংস্থার চুক্তির রয়েছে। সেখানে ভারত-পাক ম্যাচের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২২৮৮ কোটি টাকা। সেই চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিযোগিতায় অন্তত একটি করে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৬৫০ কোটি টাকার ধাক্কা?
আর এই মুহূর্তে মার্কেট ভ্যালু অনুযায়ী, প্রত্যেকটি ভারত-পাক ম্যাচের মূল্য প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৩২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এই ম্যাচ না হলে অন্তত ৩২০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হবে ব্রডকাস্টিং সংস্থার। তাই পাকিস্তান যদি ম্যাচ বয়কট করে, তাহলে এবার সম্প্রচারকারী সংস্থাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সেটাও পিসিবি-র ঘাড়েই সম্ভবত আসতে চলেছে।
অর্থাৎ, একদিকে লভ্যাংশ বাবদ আইসিসি-র তরফে ৩১৬ কোটি টাকা পাবেনা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। অন্যদিকে, ব্রডকাস্টিং সংস্থাকে দিতে হতে পারে ৩২০ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে, ৬৫০ কোটি টাকার ধাক্কা অপেক্ষা করে আছে পাকিস্তানের জন্য।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

