RCB vs GT Final 2026: ফাইনালে বিরাট ম্যাজিক। কোহলির দাপটে ছারখার গুজরাত। ‘দ্য পারফেক্ট চেজমাস্টার!' সেইসঙ্গে, ডবল ইঞ্জিন ছোটাল বেঙ্গালুরু। এই নিয়ে পরপর দুবার। ২০২৫ এবং ২০২৬, ব্যাক টু ব্যাক আইপিএল ট্রফি জয় আরসিবি-র। নিঃসন্দেহে আনন্দে মেতেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকে বেঙ্গালুরুর সমর্থকরা। অবশ্যই বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা কোহলির ফ্যানরা।
RCB vs GT Final 2026: ফাইনালে বিরাট ম্যাজিক। কোহলির দাপটে ছারখার গুজরাত (rcb vs gt final 2026)। ‘দ্য পারফেক্ট চেজমাস্টার!' সেইসঙ্গে, ডবল ইঞ্জিন ছোটাল বেঙ্গালুরু। এই নিয়ে পরপর দুবার। ২০২৫ এবং ২০২৬, ব্যাক টু ব্যাক আইপিএল ট্রফি জয় আরসিবি-র (royal challengers bengaluru vs gujarat titans final)। নিঃসন্দেহে আনন্দে মেতেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকে বেঙ্গালুরুর সমর্থকরা। অবশ্যই বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা কোহলির ফ্যানরা।

কোহলির দাপটে ছারখার গিলদের গুজরাত

আইপিএল-এর মেগা ফাইনালে রবিবার, আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম গুজরাত টাইটান্স। কার্যত, ২২ গজে ধুন্ধুমার ক্রিকেট দেখলেন দর্শকরা। নিঃসন্দেহে টানটান উত্তেজনার একটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হল। যদিও একটি লো-স্কোরিং গেম ছিল এটি। সেই ম্যাচেই ৫ উইকেটে জয় পেল আরসিবি।
এই ম্যাচে টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় বেঙ্গালুরু। আর প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে, ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান তোলে গুজরাত। ওপেনার সাই সুদর্শন ফিরে যান মাত্র ১২ রানে। সুদর্শনের দুরন্ত ক্যাচটি নেন বেঙ্গালুরুর উইকেটকিপার-ব্যাটার জীতেশ শর্মা। অধিনায়ক শুভমান গিলও খুব একটা বিশাল কিছু করতে পারেননি। এই ম্যাচে তিনি পুরো ব্যর্থ! ফাইনালে ম্যাচে যে ধরনের টেম্পারমেন্ট রাখা দরকার, তার ধারেকাছে কিছু দেখা যায়নি গুজরাত গুজরাত অধিনায়কের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে।
তাঁর সংগ্রহে মাত্র ১০ রান। অন্যদিকে, নিশান্ত সিন্ধু করেন ২০ রান, দলের উইকেটকিপার-ব্যাটার জস বাটলারের ঝুলিতে মাত্র ১৯ রান। ক্রুনাল পান্ডিয়ার বলে বাটলারকে স্ট্যাম্প আউট করেন জীতেশ। আরশাদ খানের সংগ্রহে ১৫ রান। আরশাদ এদিন সাই কিশোরের পরিবর্তে প্রথম একাদশে জায়গা পান। অন্যদিকে, রাহুল তেওয়াটিয়া প্যাভিলিয়নে ফিরে যান ৭ রানে।

তবে কিছুটা লড়াই করেন ওয়াশিংটন সুন্দর। যদিও তাঁর ক্যাচ মিস না হলে, আরও আগেই আউট হয়ে যেতেন। আরসিবি ফিল্ডার জর্ডন কক্স বলটিকে তালুবন্দি করলেও একটুর জন্য মাটি ছুঁয়ে যায়। তবে শেষদিকে নেমে জেসন হোল্ডার যখন একটু চালিয়ে খেলার চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই তাঁকে আউট করেন ভুবনেশ্বর কুমার। বেশ ভালো ক্যাচ নেন হ্যাজেলউড। ওয়াশিংটন সুন্দর শেষপর্যন্ত, ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন।
ডবল ইঞ্জিন ছোটাল বেঙ্গালুরু, ব্যাক টু ব্যাক আইপিএল জয়
অন্যদিকে, জেসন হোল্ডার এবং রশিদ খান দুজনেই ৭ রান করে স্কোরবোর্ডে অগ করেন। কাগিসো রাবাডা ৩ রানে অপরাজিত থাকেন। বরং, বেঙ্গালুরু বোলাররা অনেক বেশি চাপ বজায় রাখেন গুজরাত ব্যাটারদের উপর। ঠিকঠাক শটই নিতে পারছিলেন না টাইটান্স ব্যাটাররা। সেইসঙ্গে, ভালো ফিল্ডিং সাজায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
আরসিবি-র হয়ে ৩ উইকেট নেন রাসিখ সালাম দার। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার এবং জশ হ্যাজেলউড। এছাড়া ১টি উইকেট ক্রুনাল পান্ডিয়ার দখলে। শেষপর্যন্ত, নির্ধারিত ২০ ওভারে, ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান তুলতে সক্ষম হয় গুজরাত টাইটান্স। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই ইমপ্যাক্ট সাব হিসেবে বেঙ্গালুরুর প্রথম একাদশে আসেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার এবং গুজরাতের প্রথম একাদশে আসেন প্রসিধ কৃষ্ণ।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে, শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে আরসিবি। ভেঙ্কটেশ আইয়ার করেন ১৬ বলে ৩২ রান। অধিনায়ক রজত পাতিদারের ঝুলিতে ১৫ রান এবং দেবদত্ত পাডিক্কালের সংগ্রহে মাত্র ১ রান। ক্রুনাল পান্ডিয়া বিশেষ কিছু করতে পারেননি। নেমেই মাত্র ১ রানে রশিদ খানের বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান।
বিধ্বংসী বিরাট
টিম ডেভিড ২৪ রান যোগ করেন স্কোরবোর্ডে। কিন্তু যার কথা বলতেই হবে। তিনি হলেন বিরাট কোহলি। উপহার দিলেন ৪২ বলে ৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার এবং ৩টি ছয়। স্ট্রাইক রেট ১৭৮.৫৭।
বিরাট যখন তাঁর একেকটি কাট শট কিংবা কভার ড্রাইভ মারছিলেন, তখন যেন বারবার গর্জে উঠছিল আহমেদাবাদের গ্যালারি। কোনও বোলারকেই রেয়াত করলেন না। বুঝিয়ে দিলেন, বড় ম্যাচের প্লেয়ার একেই বলে। ক্রিজ থেকে বেরিয়ে এসে যেভাবে বলকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠাচ্ছিলেন কোহলি, দেখে মনে হচ্ছিল কতটা জয়ের খিদে থাকতে পারে একজন ব্যাটারের মনের মধ্যে।
![]()
সেই অসাধারণ ক্ষিপ্রতা, অনবদ্য টাইমিং এবং দুরন্ত ব্যাটিং। নামটা বিরাট কোহলি, বিশ্বের অন্যতম তারকা ব্যাটার। ভেঙ্কটেশের সঙ্গে বিরাট গড়েন ৬২ রানের পার্টনারশিপ এবং টিম ডেভিডের সঙ্গে গড়েন ৪১ রানের জুটি। সবথেকে বড় ব্যাপার হল, পায়ের পেশিতে টান ধরলেও ২২ গজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেননি। বরং, দলের স্বার্থে চোট নিয়েই ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে থেকে লড়াই করেছেন এবং অপরাজিত থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছেন।
অপরদিকে, দলের উইকেটকিপার-ব্যাটার জীতেশ শর্মা অপরাজিত থাকেন ১১ রানে। ১৮ ওভারেই, ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান তুলে নেয় আরসিবি। গুজরাতের হয়ে ২টি উইকেট নেন রশিদ খান এবং ১টি করে উইকেট পেয়েছেন মহম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাডা ও আরশাদ খান।
শেষপর্যন্ত, গুজরাত টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে আইপিএল ফাইনাল জিতে নিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। দীর্ঘ ১৮ বছর পর, ২০২৫ সালে প্রথম আইপিএল জয়ের স্বাদ পায় তারা। তারপর আবার ২০২৬ সালে আইপিএল ট্রফি জয়। ব্যাক টু ব্যাক। ম্যাচের সেরা বিরাট কোহলি।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।